Sunday, April 19, 2020

৭৫ হাজার টাকায় মিনিস্টারের ভেন্টিলেটর! প্রথম লটের ভেন্টিলেটর প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হবে




৭৫ হাজার টাকায় মিনিস্টারের ভেন্টিলেটর!

একটি পেশাদার ভেন্টিলেটরের দাম যেখানে ১৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সেখানে মাত্র ৭৫ হাজার টাকায় সেমি-অটো ভেন্টিলেটর সরবরাহের কথা জানিয়েছে দেশীয় ইলেকট্রনিক্স পণ্য প্রস্তুতকারক মিনিস্টার। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মেডিট্রনিকের সহায়তায় ভেন্টিলেটর তৈরির প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ শেষ। এখন প্রয়োজনীয় অনুমতি লাভের পর খুব শিগগিরই তারা উৎপাদনে যাবে। এর প্রায় ১০ শতাংশ কিনে নিয়ে তা বিনামূল্যে হাসপাতালগুলোকে সরবরাহ করবে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।
মিনিস্টার কর্তৃপক্ষ জানায়, করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) মহামারির হাত থেকে মানুষের জীবন বাঁচাতে সারা বিশ্বে ভেন্টিলেটর বা অক্সিজেন যন্ত্রের ব্যাপক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় মানবতার ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশি ইলেকট্রনিক্স পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মিনিস্টার দেশেই ভেন্টিলেটর তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।
ভেন্টিলেটর তৈরির এই প্রক্রিয়ায় মিনিস্টারকে সহযোগিতা করছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ, ব্যবসায়িদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইসহ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও বুয়েটের কয়েকজন বায়োম্যাডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। সার্বিক দায়িত্বে কাজ করে যাচ্ছে মিনিস্টার হাই-টেক পার্ক ইলেক্ট্রনিক্স লিমিটেডের এক ঝাক অভিজ্ঞ প্রকৌশলী এবং ডিজাইন, গবেষণা ও উন্নয়ন (আরএন্ডডি) টিম।
সম্প্রতি এক অনলাইন সাক্ষাৎকারে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘বিশ্বখ্যাত মেডিক্যাল যন্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মেডট্রনিকের সহায়তায় মিনিস্টারসহ কয়েকটি দেশীয় ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ভেন্টিলেটর তৈরিতে এগিয়ে এসেছে। স্বল্পতম সময়ের মধ্যে দেশে ভেন্টিলেটর উৎপাদন হবে। এ ব্যাপারে আমরা ভীষণভাবে আশাবাদী।’
এই কার্যক্রমে জড়িত সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, ‘বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান মিনিস্টার হাই-টেক পার্ক ইলেক্ট্রনিক্স লিমিটেড ভেন্টিলেটরের প্রোটোটাইপ তৈরি করেছে যা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতির পর তারা এটির পূর্ণ উৎপাদন শুরু করবে। এফবিসিসিআই প্রথম প্রোডাকশন লট  থেকে ১০% ক্রয় করে কোভিড-১৯ আক্রান্তদেও সেবাদানকারি হাসাপাতাল, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং পরবর্তী লট থেকে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য হাসপাতালে সরবরাহ করবে।’
মিনিস্টার হাই-টেক পার্ক ইলেক্ট্রনিক্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক এম এ রাজ্জাক খান (রাজ) বলেন, ‘আমরা দেশের মানুষের জন্য একটি ভেন্টিলেটর নিয়ে কাজ করছে যা করনা আক্রান্ত  রোগীদের চিকিৎসার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের গবেষণা ও উন্নয়ন (আরএন্ডডি) টিমের অক্লান্ত পরিশ্রম, আইসিটি মন্ত্রণালয়, এফবিসিসিআই ও সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, বুয়েটের কয়েকজন বায়োম্যাডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের সহযোগিতার ফলে আমরা সাফল্য অর্জনের কাছাকাছি রয়েছি। আগামী সপ্তাহে আমরা ১০০ ইউনিট ভেন্টিলেটর উৎপাদন করবো। এরপর ৫০০, ১০০০ এবং পরবর্তীতে চাহিদা অনুযায়ী এটি আমরা উৎপাদন করবো।’
তিনি বলেন, এই ভেন্টিলেটনের মুল্য ৭৫-৮৫ হাজার টাকার মধ্যে হতে পারে। এখানে আমাদের ব্যবসায়িক কোন উদ্দেশ্য নেই বরং আমরা এই ভেন্টিলেটরের সরবরাহের মাধ্যমে দেশের মানুষের সেবা করতে চাই। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতে এগুলো তুলে দিতে চাই, কভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগুলোতে ব্যবহার করার জন্য। আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুনতাকিম আশরাফসহ অনেকেই একাজে আামাদের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছেন। তাদের সবাইকে আমি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
মিনিস্টার হাই-টেক পার্ক ইলেক্ট্রনিক্স লিমিটেডের নিজস্ব কারখানায় অক্সিজেন ভেন্টিলেশন যন্ত্র তৈরির জন্য কাজ করছে। এছাড়াও মাস্ক তৈরির জন্য ইতোমধ্যেই মেশিন আনা হয়েছে, অতি দ্রত মাস্ক উৎপাদনও শুরু হচ্ছে। এ মাসের মধ্যেই এসকল জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরি শুরু করবে মিনিস্টার।
এ প্রসঙ্গে মিনিস্টার হাই-টেক পার্ক ইলেক্ট্রনিক্স লিমিটেডের ফ্যাক্টরী অপারেশন্সের পরিচালক প্রকৌশলী মনিরুল হাসান স্বপন বলেন, ‘কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ভেন্টিলেটর খুবই জরুরি। মিনিস্টার সব সময়  দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করছে। তারই ধারাবাহিকতায় এই পরিস্থিতিতে জীবন রক্ষাকারী ভেন্টিলেটর তৈরিতে কাজ করছে মিনিস্টার।’

No comments:

Post a Comment