Wednesday, April 29, 2020

ফেসবুকেই মিলছে অভাবী মানুষের খোঁজ, ত্রাণ পৌঁছে যাচ্ছে বাসায়

ফেসবুকেই মিলছে অভাবী মানুষের খোঁজ, ত্রাণ পৌঁছে যাচ্ছে বাসায়

করোনায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে ‘লকডাউন’ ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধ থাকায় অর্থাভাবে পড়েছেন অনেক মানুষই। বিশেষ এ সময়ে খাদ্য সংকট নিন্মবিত্ত ছাড়িয়ে মধ্যবিত্তকেও ছুঁয়েছে। এ অবস্থায় দরিদ্রদের অনেকেই সরকারি ত্রাণ সুবিধা পেলেও লজ্জায় নিজেদের কথা জানাতে পারে না মধ্যবিত্ত। তাই দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত উভয় শ্রেনীর জন্যই ত্রাণ সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে এসেছে ‌‌‘রিলিফ ইন রেসপন্স টু কভিড-১৯’।
এ কার্যক্রমের উদ্যোক্তা ব্যাংকার শামীম আহমেদ বলেন, ‘ফেসবুকের মাধ্যমে আমরা দুইভাবে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছি।ঢাকা সিটির মধ্যে যারা আছেন তাদের কাছে সরাসরি খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছি।আর ঢাকার বাইরে যারা আছেন তাদের কাছে টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছি। আমরা এ পর্যন্ত ৫০ পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছি, ১৫০ পরিবারকে খাদ্যপণ্য দিয়েছি এবং ২৫ পরিবারের মাঝে সবজি বিতরণ করেছি।’
তিনি জানান, ইফতারিসহ খাবার প্যাকেটও তারা বিতরণ করছেন। নিম্নআয়, দিনমুজুর, রিক্সাচালক, এটিএম বুথ সিকিউরিটি গার্ডরা আমাদের এই খাদ্য বিতরণ কর্মসূচীতে অর্ন্তভুক্ত আছে। জানান, কিছু বন্ধু, সহকর্মী, প্রবাসী  ও সংগঠন পাশে রয়েছেন। যারা আর্থিকভাবে ও শ্রম দিয়ে সহযোগিতা করছেন। যেমন - করোনা মোকাবেলায় আমরা বাংলাদেশ, বিদ্যানন্দ। বন্ধুদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে সহযোগিতা করছেন মোহাম্মদ ফারুক ও মোজাক্কের।
তিনি বলেন, ‘ত্রাণের সহযোগিতায় বেশিরভাগ অনুরোধ এসেছে ফেসবুক বন্ধুদের কাছ থেকে এবং আমাদের পেইজ থেকে।’ ত্রাণ বিতরণ করতে গিয়ে বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকার মিরপুরে এক পরিবারে বাবা-মা তাদের নিজের দুই কন্যা সন্তানকে ফেলে অন্যত্র চলে গেছে।অর্থের অভাবে মা তার বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে পারছে না। মধ্যবিত্ত পরিবার খাদ্য সংকটে পড়েছে।কারো কাছে হাত পেতে কিছু চাইতেও পারছেনা।’
শামীম আহমেদ জানান, অসহায় বিধবা অথবা মধ্যবিত্ত পরিবারের কেউ খাদ্য সংকটে পড়ে থাকলে যোগাযোগ করতে। তাহলে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হবে। তার ইমেইল- helphandsbd@gmail.com। ফোন নাম্বার- ০১৭১৩৩২৯৪৪৭।

দুঃসময়ে আশার আলো কৃত্রিম ভেন্টিলেটর উদ্ভাবনের পথে ডা. সৌরভ





রোনাভাইরাসে আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীকে দিতে হয়ে আইসিইউ সাপোর্ট। সেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় ভেন্টিলেটর বা শ্বাসযন্ত্রের। দেশে করোনা রোগী বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই ভেন্টিলেটরের চাহিদাও বাড়ছে। ভেন্টিলেটরের চরম সংকট থাকায় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে করোনাসেবা।

ঠিক এমন দুঃসময়ে আশার আলো দেখাচ্ছেন চট্টগ্রামের তরুণ চিকিৎসক সৌরভ বড়ুয়ার উদ্ভাবিত দেশীয় কৃত্রিম ভেন্টিলেটর। করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীর জরুরি সেবা দিতে তিনি উদ্ভাবন করেছেন দেশীয় প্রযুক্তির এই কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র বা ভেন্টিলেটর। মাত্র ১০-১২ হাজার টাকা খরচ করে এ প্রযুক্তির  মাধ্যমে রোগীকে ভেন্টিলেটর সেবা দেওয়া সম্ভব বলে দাবি করেছেন তিনি।

ভেন্টিলেটর উদ্ভাবনে প্রাথমিক সফলতার দাবি করে ডাক্তার সৌরভ বড়ূয়া এটিকে আরও কার্যকর করতে গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক দিদারুল আলমের সামনে উপস্থাপন করেন। সবদিক থেকে ডা. দিদারুল আলমও প্রাথমিকভাবে এটিকে কার্যকর এবং করোনা রোগীদের জন্য উপযোগী বলেন স্বীকৃতি দেন।

 
ল্যাবরেটরিতে কাজ করছেন ডা. সৌরভ -সমকাল
এ প্রসঙ্গে শিশু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক চৌধুরী চিরঞ্জীব বড়ূয়া বলেন, চিকিৎসক সৌরভের দেশীয় প্রযুক্তিটি প্রাথমিকভাবে সফল বলা যায়। তবে এটিকে ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে আরও দুটি যন্ত্রকে এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। তখনই এটিকে রোগীর সেবার কাজে ব্যবহার করা যাবে।

ডাক্তার সৌরভ সমকালকে বলেন, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নয়, করোনার এ দুঃসময়ে মানুষের উপকারে আসার জন্যই এ উদ্ভাবন। ইউরোপের অনেক দেশে ভেন্টিলেটর সংকটের কারণে অনেক রোগীকেই হেলিকপ্টারে করে এক শহর থেকে অন্য শহরে নিতে হয়েছে। দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী দিন দিন বাড়ছে। যে কোনো সময় ভেন্টিলেটর সংকট তীব্রতর হয়ে উঠতে পারে এবং আক্রান্ত রোগীর স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হতে পারে। সেই চিন্তা থেকেই দুই সপ্তাহ ধরে অনেক পরিশ্রম করে দেশীয় কৃত্রিম ভেন্টিলেটর উদ্ভাবন করেছি। এ প্রযুক্তি কার্যকর হলে দেশে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় রোগীকে ভেন্টিলেটর সেবা দেওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার বাসিন্দা ডাক্তার সৌরভ নগরীর আগ্রাবাদে চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে ২০১৫ সাল থেকে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি এফসিপিএস কোর্স করছেন তিনি। এ হাসপাতাল থেকেই তিনি এমবিসিএস পাস করেছেন।

চট্টগ্রামে সরকারি-বেসরকারি মিলে শতাধিক ভেন্টিলেটর থাকলেও বেসরকারি হাসপাতালের ভেন্টিলেটর সহজেই ব্যবহার করতে পারছেন না করোনা রোগীরা। এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ১০টি ভেন্টিলেটরই চট্টগ্রামের করোনা রোগীদের মূল ভরসা! ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে ভেন্টিলেটর সুবিধা না পেয়ে দুই করোনা রোগীর মৃত্যু ঘটেছে।

দেশীয় প্রযুক্তির ভেন্টিলেটর তৈরিতে চিকিৎসক সৌরভ চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার এফআইটু, রেসফেটরিও, টাইটেলপলিও, পিপ, রেসফেরেটিওসহ বেশ কিছু মেডিকেল যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেছেন। বিশেষজ্ঞরা এ উদ্ভাবনকে কার্যকর মনে করলে প্রযুক্তিটি সরকারের অনুমোদনের জন্য চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জনের কাছে জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন ডা. সৌরভ। সরকার অনুমোদন দিলে প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি করে দেশীয় প্রযুক্তির ভেন্টিলেটর তৈরি করা সম্ভব বলে জানান তিনি।

নতুন 'হটস্পট' কেরানীগঞ্জ

নতুন 'হটস্পট' কেরানীগঞ্জ
রাজধানীর উপকণ্ঠ কেরানীগঞ্জে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত এ এলাকায় মোট শনাক্তের সংখ্যা ১০৩ জন। যা এককভাবে সিলেট, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের চেয়ে বেশি। পুরান ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন সংযোগের পাশাপাশি জনসংখ্যার ঘনত্বও করোনার দ্রুত বিস্তারে প্রভাব রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্নিষ্টরা। এভাবেই কেরানীগঞ্জ হয়ে উঠছে করোনার নতুন 'হটস্পট'।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মীর মোবারক হোসাইন সমকালকে জানান, মূলত তিনটি ইউনিয়নে পড়েছে করোনার থাবা। মঙ্গলবার পর্যন্ত শুভাঢ্যায় ৩৫, জিনজিরায় ২৮ এবং আগানগরে ১৬ জন শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া শাক্তায় ৮, কোন্ডায় ৬, কালিন্দীতে ৫, তেঘরিয়ায় ৩, কলাতিয়া এবং রুহিতপুরে একজন করে।

তিনি জানান, এমন ছয়টি পরিবার রয়েছে, যেখানে ৫০ থেকে ৬০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। প্রতিটি পরিবারে আট থেকে ১০ জন করে আক্রান্ত। একটি উপজেলায় এত বেশি আক্রান্তের তথ্য বিস্ময়কর। জনসংখ্যার বাড়তি চাপ এবং মানুষের অসচেতনতার কারণে এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও মানুষকে ঘরে রাখা যাচ্ছে না। সংক্রমিত এলাকাগুলোর রাস্তাঘাটে মানুষের অনেক জটলা। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

এদিকে এই পরিস্থিতির মধ্যেও কেরানীগঞ্জে নেমেছে শ্রমিকের ঢল। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চল থেকে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ফিরতে শুরু করেছেন। দিনের বেলায় পুলিশের প্রতিবন্ধকতা এড়াতে রাতেই বেশি মানুষ ঢুকছে। বেশিরভাগই কেরানীগঞ্জের স্থানীয় কারখানাগুলোতে কাজ করেন।

এ বিষয়ে মীর মোবারক হোসাইন বলেন, পোশাক কারখানা পুরোপুরি চালু হয়ে গেলে আগানগর ইউনিয়নে দিনে অন্তত এক লাখ মানুষের আনাগোনা হবে। সারাদেশের পাইকাররা এখানে ভিড় জমায়। ঈদের আগে ওই ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

জানা গেছে, কেরানীগঞ্জে প্রথম করোনা শনাক্ত হয় ৫ এপ্রিল। প্রথম ১০ দিনে শনাক্তের সংখ্যা ছিল ২৬ জন। পরের ১৩ দিনে অবস্থা খারাপ হতে থাকে। সব মিলিয়ে ২৩ দিনে মোট শনাক্তের সংখ্যা ১০৩। গত ১৫ এপ্রিল প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত মারা গেছেন পাঁচজন। এ পর্যন্ত আটজন সুস্থ হয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দেবনাথ বলেন, কেরানীগঞ্জে স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা প্রায় আট লাখ। কিন্তু অস্থায়ী বা ভাসমান মানুষের সংখ্যা বেশি। সব মিলিয়ে প্রায় ২২ লাখ ৩০ হাজার মানুষ। অধিকাংশেরই বসবাস শুভাঢ্যা, জিনজিরা ও আগানগরে। শুভাঢ্যায় বসবাসকারীর সংখ্যা প্রতিবেশী দোহার-নবাবগঞ্জ দুই উপজেলার চেয়েও বেশি।

জানা গেছে, কেরানীগঞ্জের মোট আয়তন ১৬৬ দশমিক ৮৭ বর্গকিলোমিটার। এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে ১৩ হাজার ৩৬৩ জনের বসবাস। শুভাঢ্যা, জিনজিরা এবং আগানগর ইউনিয়নের ঘনত্ব আলাদা করে হিসাব করলে সেটি কয়েকগুণ হবে।

এত ঘনবসতি করোনা সংক্রমণ বিস্তারে বেশি প্রভাব ফেলছে জানিয়ে ইউএনও বলেন, পুরান ঢাকায় ব্যবসা বা চাকরি করেন, এমন অনেক লোকজন থাকেন কেরানীগঞ্জে। আবার নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগ ভালো। পরিস্থিতি ভয়াবহ হলেও মানুষের মধ্যে নূ্যনতম সচেতনতা নেই। প্রতিদিনই রাস্তায় অভিযান চলছে। কিন্তু ঘুরেফিরে একই অবস্থা। এর মধ্যে আবার কারখানার কর্মীরা আসতে শুরু করেছেন।

সূত্র জানায়, ঢাকার পরে নারায়ণগঞ্জকে করোনাভাইরাসের উপকেন্দ্র ঘোষণা করা হলেও কেরানীগঞ্জের সঙ্গে এর সংযোগে ভাটা পড়েনি। দুই অঞ্চলে প্রতিনিয়ত মানুষের আসা-যাওয়া অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে পুরান ঢাকার সঙ্গে কেরানীগঞ্জের দূরত্ব বলতে বুড়িগঙ্গা নদী।

সাকিবকে ফাঁসানো ভারতীয় জুয়াড়িকে নিষিদ্ধ করল আইসিসি

গতবছরের ২৯শে অক্টোবর জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপন করায় সাকিব আল হাসানকে এক বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করে আইসিসি। ২০১৭ সালে একবার ও ২০১৮ সালে তিনবার সাকিবকে ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দেন ভারতীয় জুয়াড়ি দীপক আগারওয়াল। সাকিব যদিও চারবারই সেই প্রস্তাব বাতিল করে দেন। কিন্তু আইসিসিকে সেই বিষয়ে কিছু না জানানোয় নিয়ম অনুযায়ী শাস্তি পান সাকিব। কালো তালিকাভুক্ত পেশাদার জুয়াড়ি দীপক আগারওয়ালকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করল আইসিসি। যেটি শুরু হয়েছে গত ছয়মাস আগে থেকে। শেষ হবে ২০২১ সালের ২৭শে অক্টোবর। এই দুইবছর ক্রিকেট মাঠ কিংবা ক্রিকেটীয় সব কর্মকান্ডে নিষিদ্ধ থাকবেন দীপক।
এক বিবৃতিতে এ সিদ্বান্তের কথা জানিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

সাকিবকে ফিক্সিংয়ের প্রলোভনে ফেলতে পেরেছিলেন না দীপক। পরে তার মুঠোফোনের কল রেকর্ড ও বার্তার মাধ্যমে সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পায় আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট (আকসু)। ২০১৭ সালে ভারতীয় পুলিশ দীপক আগারওয়ালকে গ্রেফতার করেছিল। যথেষ্ট অভিযোগ না থাকায় ছাড়া পান তিনি।

বাহরাইনে আচমকা করোনার কামড়, আক্রান্ত ২১১ বাংলাদেশি

২১ শে ফেব্রুয়ারি প্রথম করোনা শনাক্ত হয় বাহরাইনে। এর পর থেকে ধীর গতিতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছিলো।  দু'মাস অর্থাৎ ২১ শে এপ্রিল অবধি মোট আক্রান্ত দুই হাজারের কম, মৃত্যু ৭। ইউরোপ আমেরিকার তুলনায় এটা আলোচনায় আসার মতই নয়, তাছাড়া রিকভারি রেটেও বেশ ভাল। আক্রান্ত আর রিকভারিতে এক ধরণের ভারসাম্য ছিল, যা অস্বস্তিদায়ক। বলা যায় গত সপ্তাহ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণেই ছিল উপসাগরীয় দেশটির করোনা পরিস্থিতি। কিন্তু ২২ শে এপ্রিল আচমকা এটি বাড়তে থাকে। ২৩ শে এপ্রিল এক দিনেই ১৯০ শনাক্ত আর একজনের মৃত্যুর খবর করোনা নিয়ে বাহরাইন সরকারের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দেয়। উদ্বেগ বাড়ে বাংলাদেশ কমিউনিটিতেও।
মানামায় নিযুক্ত বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত নজরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ কমিউনিটিতে প্রাপ্ত তথ্য মতে, এক সপ্তাহে দেড় শতাধিক বাংলাদেশী নতুন ককরে আক্রান্তের মধ্য দিয়ে বাহরাইনে মোট আক্রান্ত বাংলাদেশির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১১ তে। তবে  আপাতত স্বস্তির খবর হচ্ছে করোনার আচমকা উন্মত্ত রূপ নেয়ার চেষ্টা বা বেশ শক্ত কামড় বসানোর ওই সময়েও আক্রান্ত কোনো বাংলাদেশির অবস্থা গুরুতর নয়। আর সঙ্কটের সূচনা থেকে এ পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশির মারা যাওয়ারও কোনো খবর মিলেনি। বাহরাইনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৮৬৯। মারা গেছেন ৮ জন এবং দুমাসের বেশি সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১৩৭০ জন।

বাহরাইন সরকারের অ্যাকশন: সঙ্কটের সূচনা থেকেই  করোনা ঠেকাতে সতর্ক বাহরান সরকার। আর এ কারণে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেকটাই সফল। বাংলাদেশ মিশন ও কমিউনিটি উভয় সূত্রে জানা গেছে, দেশটির সিস্টেমের কারণে আক্রান্তরা কঠোর আইসোলেশনে রয়েছেন। হাতে এক ধরণের বিশেষ সতর্কতা সংকেতযুক্ত ব্রেসলেট পড়িয়ে দেয়া হয়েছে। যার কারণে তারা নির্ধারিত এরিয়ার বাইরে যেতে পারেন না। ফলে তাদের মাধ্যমে সংক্রমণের আশঙ্কা কম। বিদ্যমান লক ডাউনও স্থান এবং সময় বিবেচনায় শিথিল বা কঠোর হয়।

অবৈধদের বৈধতার আশা:
বৈশ্বিক সঙ্কট করোনা বা কোভিড-১৯ এর এই কঠিন সময়ে অবৈধ বা অনিয়মিত বিদেশিদের (প্রতি অনেক আগেই) বেশ সদয় বাহরাইনের বাদশাহ। দেশটিতে প্রায় ৪০ হাজার বাংলাদেশিসহ লক্ষাধিক অবৈধ বিদেশীর প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন তিনি। ৫ ই এপ্রিল থেকে ৩১ শে ডিসেম্বর অবধি সাধারণ ক্ষমার ওই মেয়াদের মধ্যে অবৈধরা নতুন পাসপোর্ট জোগাড় করাসহ অন্যান্য ডকুমেন্ট প্রদর্শনপূর্বক হয় সরকারী না হয় কোম্পানী ফি বা মাশুল ছাড়া ভিসা লাগিয়ে বৈধ হতে পারবেন। অথবা জরিমানা ছাড়া নিজ নিজ দেশে ফিরতে পারবেন। শুধু তা-ই নয়, করোনার কারণে বাহরাইন সরকার এরইমধ্যে বিদেশি কর্মীদের জুন অবধি সব ধরনের মাশুল মওকুফ করে দিয়েছে। তবে যেসব বিদেশি কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা চলছে, তারা সাধারণ ক্ষমার সুবিধা পাবেন না। মানামাস্থ বাংলাদেশ মিশনেরর দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ কমিউনিটির ধারণা মতে, বাহরাইনে কর্মসংস্থানের জন্য বৈধ ভিসা নিয়ে গিয়ে নানা কারণে অবৈধ হয়ে পড়া প্রায় ৪০-৪৫ হাজার বাংলাদেশি রয়েছেন। তাদের অন্তত ৯০ ভাগই বৈধতার সূযোগ নিতে যাচ্ছেন।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ফল খাচ্ছে বানর! ছবি ভাইরাল

সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ফল খাচ্ছে বানর! ছবি ভাইরাল
করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে এখনও জারি রয়েছে লকডাউন। সাধারণ মানুষকে গৃহবন্দি রাখার জন্য এই উদ্যোগ বিভিন্ন দেশের সরকারের। কিন্তু তা সত্ত্বেও কে শোনে কার কথা? দিব্যি চোর-পুলিশ খেলা করছেন লকডাউনের নিয়ম ভঙ্গকারীরা। কিন্তু সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা যে কতটা প্রয়োজনীয়, সে বিষয় অজানা নয় কারো। অথচ যারা সামাজিক দূরত্ব বজায়ের প্রয়োজনীয়তার বিন্দু বিসর্গও জানে না সেই বানরেরা দিব্যি মেনে চলছে নিয়ম। আপনার অবাক লাগলেও সম্প্রতি এমনই একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। যাতে দেখা গেছে, নিজেদের মধ্যে দূরত্ব বজায় রেখেই দিব্যি খাওয়া-দাওয়া করছে তারা।
সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু এই ছবিটি টুইট করেন। তাতে দেখা গেছে একজন যুবক কিছু তরমুজ কেটে বানরের হাতে দিচ্ছেন। রাস্তার একাংশ জুড়ে বসে রয়েছে বেশ কয়েকটি বানর। তবে প্রত্যেকেই নিজেদের মধ্যে দূরত্ব বজায় রেখে বসে আছে। তারা এক এক করে হাত বাড়িয়ে ওই তরমুজ নিচ্ছে। এভাবেই কলাও নিয়েছে তারা। কোনও তাড়াহুড়ো না করে দিব্যি দূরত্ব বজায় রেখে খাবার খাচ্ছে বানরেরা। অরূপ কালিতা নামে এক ব্যক্তি অরুণাচল প্রদেশের ভালুকপংয়ে এই ছবিটি তোলেন। সেই ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। চোখের নিমেষে ভাইরাল হয়ে যায়। লাইক, কমেন্টের সংখ্যা বাড়ছে হু হু করে।
কিরেণ রিজিজুর পোস্ট করা ছবি নিয়ে রীতিমতো হইচই। নেটিজেনদের মন ছুঁয়েছে ছবিতে দেখতে পাওয়া বানরগুলো। অনেকেই অবাক হয়ে লিখেছেন, “বানরেরা তো সামাজিক দূরত্ব সম্পর্কে কিছুই জানে না। তা সত্ত্বেও কীভাবে তা বজায় রাখছে তারা?” কেউ কেউ আবার বলছেন, “মানুষের থেকে জীবজন্তুরা যে অনেক বেশি শৃঙ্খলাবদ্ধ জীব, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এ ছবি যেন আরও একবার তা প্রমাণ করে দিল।” সাধারণ মানুষকে লকডাউনের জন্য বোঝাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশকর্মীদের। তা সত্ত্বেও নিয়ম মানতে নারাজ তারা। অথচ বানরেরা কিছু না জানা সত্ত্বেও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলছে। প্রশ্ন উঠছে, অবলা পশুদের থেকেও কি কোনও শিক্ষা নিতে পারি না আমরা? করোনা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কিন্তু আর কবে হুঁশ ফিরবে সকলের, মাথাচাড়া দিচ্ছে সেই প্রশ্নও।
বিডি প্রতিদিন/কালা

চরম দুর্দিনে ৭০ লাখ পরিবহন শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের টাকা কোথায় বছরে আদায় হওয়া ২ হাজার কোটি টাকা লুটপাট, ভয়াবহ দুর্দিনে পাশে নেই শাজাহান খান, মসিউর রহমান রাঙ্গা, শিমুল বিশ্বাস, ওসমান আলীরা, শ্রমিকরা জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা সহায়তা চাইলেও আইনি সুযোগ নেই বলছে শ্রম মন্ত্রণালয়

চরম দুর্দিনে ৭০ লাখ পরিবহন শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের টাকা কোথায়
বাস শ্রমিকরা গতকাল ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন -বাংলাদেশ প্রতিদিন
করোনাভাইরাস সংক্রমণে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে সারা দেশের প্রায় ৭০ লাখ পরিবহন শ্রমিকের জীবন। অথচ এসব শ্রমিকের কাছ থেকে কল্যাণ তহবিলের নামে প্রতিদিন ৭০ টাকা করে চাঁদা আদায় করেছে মালিক সমিতি। সেই তহবিলে বছরে জমা হওয়া প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, এই টাকার কোনো হিসাব নেই। বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে জর্জরিত পরিবহন খাতের মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। তারা পরিবহন খাতের চাঁদাবাজিতে মিলেমিশে একাকার। ফলে শ্রমিকদের ভয়াবহ দুর্দিনেও পাশে নেই শাজাহান খান, মসিউর রহমান রাঙ্গা, শিমুল বিশ্বাস, ওসমান আলীর মতো পরিবহন খাতের নেতারা। জানা গেছে, সব মিলিয়ে সারা দেশের ৮ লাখের বেশি বাণিজ্যিক যানবাহন থেকে দৈনিক ৭০ টাকা হারে চাঁদা আদায় হয় মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নামে। এ হিসাবে বছরে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি চাঁদা আদায় হয়। এর বাইরে অঘোষিত বেনামিও অনেক চাঁদা আদায় হয়। এই রহস্যময় চাঁদার হিসাবও অজানা। ফলে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে বেকার হয়ে যাওয়া শ্রমিকদের এখন ত্রাহি অবস্থা। শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের নামে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা চাঁদা আদায় হলেও করোনাভাইরাসের এই চরম দুর্দিনে শ্রমিকদের পাশে নেই নেতা নামধারীরা। জানা গেছে, যে ৭০ টাকা চাঁদা আদায় হয়, তা ভাগাভাগি করে নেন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। এর মধ্যে ৪০ টাকা নেয় মালিক সমিতি আর ৩০ টাকা নেয় শ্রমিক ইউনিয়ন। মালিক সমিতিগুলো বহু ভাগে বিভক্ত হলেও মূল সংগঠনের কান্ডারি জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, আওয়ামী লীগের নেতা ও ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর পরিচালক খোন্দকার এনায়েত উল্যাহ। আর শ্রমিক সংগঠনগুলোর একক কর্তৃত্বে রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। তার সঙ্গী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। ওই চাঁদার বাইরেও ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে গেটপাস (জিপি) নামে বিপুল অঙ্কের চাঁদা তোলা হয়। এ ছাড়া দূরপাল্লার সড়কপথে কেউ বাস নামাতে চাইলে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করে বিভিন্ন জেলা মালিক-শ্রমিক সমিতি।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী অভিযোগ করে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, কল্যাণ তহবিলের নামে চাঁদা তুলে সেই টাকা আত্মসাৎ করেছেন মালিক ও শ্রমিক নেতারা। এই অপকর্ম করেও শ্রমিকদের দুরবস্থায় পাশে নেই কেউ। এর পরও কিন্তু শ্রমিকরা গাড়ি পাহারা দিচ্ছেন। অথচ নেতারা পরিবহন খাতে ভয়াবহ লুটপাট করেছেন। এখন শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেক পরিবহন মালিকের হাজারো গাড়ি আছে। তারা অঢেল সম্পদের মালিক হলেও শ্রমিকদের জন্য কিছুই করছেন না। তারা সব সরকারের আমলেই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশীদার। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ নয়ন অভিযোগ তুলে বলেন, ‘শ্রমিকরা এখন সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় আছেন। এক জায়গার শ্রমিক এখন আরেক জায়গায় গাড়ি নিয়ে গিয়ে আটকা পড়েছেন। তাদের কেউ ত্রাণও দেয় না। এখন পর্যন্ত শ্রমিকদের সরকার সরাসরি কোনো ত্রাণ দেয়নি। দু-এক জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে আমাদের অনুরোধে দেওয়া হয়েছে। আর মালিক সমিতি ৭০ টাকা করে কল্যাণ তহবিলের নামে যে চাঁদা আদায় করত, তাও নিজেরাই লুটপাট করেছে।’ বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান বলেন, ‘পরিবহনসহ সব খাতের শ্রমিকদের অবস্থা খুবই দুঃখজনক। আগে রাস্তায় ভিক্ষুক ছিল না, কিন্তু করোনাভাইরাসের এই চরম দুর্দিনে বাড়ি বাড়ির সামনে ভিক্ষুকের আহাজারি। শ্রমিকরা এখন খুবই অসহায়। তাদের জন্য শ্রম মন্ত্রণালয়ের শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিল থেকে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করেছি।’ তবে শ্রম মন্ত্রণালয়ের শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিলও করোনাভাইরাসের সংক্রমণে চরম অভাব-অনটনে থাকা পরিবহন শ্রমিকদের কাজে আসছে না। আইন অনুযায়ী, সারা দেশে সক্রিয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কর্মকান্ডের মাধ্যমে অর্জিত মুনাফার ৫ শতাংশ শ্রমিক কল্যাণে খরচ করতে হবে। আর লভ্যাংশের একটি নির্দিষ্ট অংশ সরকারের বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিলে জমা দিতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় তহবিলে এখন ৪০০ কোটি টাকার বেশি জমা রয়েছে। আইনি বিধিবিধান না থাকায় করোনাভাইরাসের সময় শ্রমিকদের কল্যাণে ওই অর্থ খরচের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে শ্রম মন্ত্রণালয়। এ প্রসঙ্গে শ্রম মন্ত্রণালয়ের শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে অনুদান দেওয়ার আইনি বিধিবিধান নেই। এই তহবিল থেকে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি দিক বিবেচনা করে শ্রমিকদের অর্থ প্রদান করা হয়। তবে চিকিৎসার জন্য কোনো শ্রমিক আবেদন করলে টাকা দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত যানবাহন আছে প্রায় ৪৪ লাখ। এসব পরিবহনের সঙ্গে প্রায় ৭০ লাখ শ্রমিক যুক্ত আছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশে পরিবহন চলাচল বন্ধ। তবে কিছু পরিবহন চলাচল করছে। এর মধ্যে রয়েছে পণ্যবাহী যান, অল্পসংখ্যক ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল। পরিবহন মালিক সমিতিগুলো বলছে, নজিরবিহীন এই পরিবহন সংকটে দৈনিক ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। সড়ক পরিবহন আইন অনুসারে, পরিবহন শ্রমিকদের নিয়োগপত্র দেওয়া বাধ্যতামূলক। আর তাদের বেতনও হওয়ার কথা মাসিক। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বাস-ট্রাকের চালকদের প্রায় সবাই দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে চলেন। অল্প কিছু বড় কোম্পানি বাসচালকদের মাসিক বেতন দেয়। তবে তাদের মূল আয় হয় ট্রিপের (যাত্রা) ওপর। অন্য বাণিজ্যিক যানের শ্রমিকদেরও একই চিত্র। জানা গেছে, দেশে পণ্য পরিবহনের যানবাহন আছে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ। এর মধ্যে আছে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, ট্রেইলর, পিকআপ ভ্যান। আবার রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে যাত্রী পরিবহনের বাস-মিনিবাস আছে ৮০ হাজারের বেশি। পণ্যবাহী পরিবহনগুলোতে চালকসহ কমপক্ষে দুজন করে কর্মী থাকেন। আর যাত্রীবাহী যানে চালক, সহকারী ও ভাড়া আদায়ের জন্য তিনজন করে কর্মী কাজ করেন। এর বাইরে টিকিট বিক্রির কাউন্টারগুলোর কর্মী আছেন। দেশে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাইক্রোবাস আছে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ। এর একটা অংশ সরকারি বিভিন্ন কার্যালয়ের। বাকিগুলো ব্যক্তিগত কাজের। কিছু আছে ভাড়ায় চালিত। ব্যক্তিগত গাড়ির চালকদের অনেকেই ছুটি দিয়েছেন। তারা চলতি মাসের বেতন পাবেন কিনা, সেটিও বড় উদ্বেগের বিষয়। অনেক ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকরা চালক ছাঁটাই করছেন।

বসুন্ধরায় উদ্বোধনের অপেক্ষায় বৃহত্তম হাসপাতাল

বসুন্ধরায় উদ্বোধনের অপেক্ষায় বৃহত্তম হাসপাতাল
সব প্রস্তুতি শেষে উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে করোনা আক্রান্তের চিকিৎসায় ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি, বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) নির্মিত বৃহত্তম অস্থায়ী হাসপাতাল। এখন স্বাস্থ্য অধিদফতর জনবল নিয়োগ দিয়ে হাসপাতালটি চালু করলেই রোগী ভর্তি শুরু হবে। জানা গেছে, আগামী ৪ মে হাসপাতালটি উদ্বোধন করতে চায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। হাসপাতালটি চালু হলে দেশে করোনা চিকিৎসায় যোগ হবে নানা সুযোগ-সুবিধাসংবলিত অন্যতম বৃহৎ আইসোলেশন সেন্টার। উল্লেখ্য, কভিড-১৯ বিপর্যয় শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং সরকারের যত দিন ব্যবহারের প্রয়োজন শেষ না হবে তত দিন আইসিসিবিকে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে আইসিসিবিকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ১২ এপ্রিল কাজ শুরু করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। গতকাল হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে আইসিসিবির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এম এম জসীম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের কাজ তো শেষ। সাধারণ বেডের সেবাদান কার্যক্রমের জন্য আমাদের আর কোনো সময়ের প্রয়োজন নেই। গত দুই দিন (মঙ্গল ও বুধ) স্বাস্থ্য বিভাগের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল আইসিসিবি পরিদর্শন করেছেন। তারা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন এটা এখন হাসপাতাল পরিচালনার উপযোগী। আগামী ৪ মে আমাদের উদ্বোধনের তারিখ দেওয়া হয়েছে। আমরা যে কোনো সময় হাসপাতাল বুঝিয়ে দিতে প্রস্তুত। আশা করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এটি উদ্বোধন করবেন।’
কাজের সার্বিক বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ওসমান সরোয়ার বলেন, ‘আমাদের অবকাঠামোর কাজ ৯০ শতাংশের বেশি শেষ। এখন শুধু ফিনিশিং চলছে। বাকি কাজ দু-এক দিনের মধ্যে শেষ হবে। কয়েক দিন বৃষ্টি না হলে কাজ আরও আগেই শেষ হয়ে যেত।’ স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে কবে হাসপাতালটি বুঝে নেওয়া হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘খুব তাড়াতাড়িই হস্তান্তর করা হবে। একই তো মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনেই তো আমরা। আমরা বুঝিয়ে দিয়ে চলে আসব। এরপর জনবল নিয়োগ, চিকিৎসা কার্যক্রম থেকে যাবতীয় বিষয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের।’
তথ্যানুযায়ী, হাসপাতালে মোট আইসোলেশন বেড হবে ২ হাজার ১৩টি। ট্রেড সেন্টারে ছয় ক্লাস্টারে ১ হাজার ৪৮৮টি বেড বসবে। এ ছাড়া তিনটি কনভেনশন হলে থাকবে আরও ৫২৫টি বেড। এর বাইরে ৪ নম্বর হলে ৭১ বেডের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) হওয়ার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দিতে সরকারকে আইসিসিবিতে ৫ হাজার শয্যার একটি সমন্বিত অস্থায়ী হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মতি দিলে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল পরিদর্শন করে হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। নানা হিসাব-নিকাশ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সেখানে ২ হাজার ১৩ শয্যার হাসপাতাল ও ৭১ শয্যার আইসিইউ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য অধিদফতর। আইসিসিবির সুবিশাল চারটি কনভেনশন হল ও একটি এক্সপো ট্রেড সেন্টারে দেশের অন্যতম বৃহৎ এ হাসপাতালটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে সরকারের স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা হাসপাতালে তিন চিকিৎসককে পদায়ন : ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা হাসপাতালে তিন ডাক্তারকে পদায়ন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গতকাল মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শারমিন আক্তার জাহান স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে হাসপাতাল পরিচালকের চলতি দায়িত্ব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের উপপরিচালক (মেডিকেল এডুকেশন) ডা. মো. এহসানুল হককে।
এ ছাড়া সহকারী পরিচালক হিসেবে আরও দুজন চিকিৎসককে পদায়ন করা হয়েছে। তারা হলেন ডা. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান ও ড. আবুল বাসার। এসব কর্মকর্তাকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় চতুর্থ কর্মদিবস থেকে তৎক্ষণাৎ অব্যাহতি (স্ট্যান্ড রিলিজ) মর্মে গণ্য হবেন বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দিতে সরকারকে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি) ব্যবহার করতে দিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। যত দিন প্রয়োজন তত দিন সরকার এটি ব্যবহার করবে।

রাত-দিনে ছয়বার রূপ বদলায় সুন্দরবন

রাত-দিনে ছয়বার রূপ বদলায় সুন্দরবন
রাত-দিনে ছয়বার রূপ বদলায় ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড সুন্দরবন। এ বন জীববৈচিত্র্যের অন্যতম বৃহত্তম আধারের পরিচিতি পেয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম এ ম্যানগ্রোভ বনের প্রাণ-প্রকৃতি দেখতে প্রতিদিনই ছুটে আসেন দেশ-বিদেশের শত শত পর্যটক। গত ২৬ মার্চ গোটা সুন্দরবনে বন্যপ্রাণীর করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সব ধরনের পর্যটকসহ জেলে-বনজীবীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘রেড অ্যালার্ড’ জারি করে বন অধিদফতর। গত এক মাসের বেশি সময় ধরে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ থাকায় সুন্দরবনে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত ট্যুর অপারেটর ও ছোট-বড় নৌযান মালিক-শ্রমিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বাংলাদেশ অংশের ছয় হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটারে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বনটি সমুদ্রের লবণাক্ত জোয়ারের পানিতে ২৪ ঘণ্টায় দুবার প্লাবিত হয়ে থাকে। ১৯৯২ সালে সমগ্র সুন্দরবনের এ জলভাগকে রামসার এলাকা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ। সংরক্ষিত এ বনের তিনটি এলাকাকে ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর জাতিসংঘের ইউনেস্কো ৭৯৮তম ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড ঘোষণা করে; যা সমগ্র সুন্দরবনের ৩০ ভাগ এলাকা। সুন্দরী, গেওয়া, গরান, পশুরসহ ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদরাজি রয়েছে। এ ছাড়া ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও হরিণসহ ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, লোনা পানির কুমির, গুইসাপ, কচ্ছপ, বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির ইরাবতীসহ ছয় প্রজাতির ডলফিন, অজগর, কিংকোবরাসহ ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ ও ৩১৫ প্রজাতির পাখি রয়েছে। তাই সুন্দরবনের এসব জীববৈচিত্র্য দেখতে দেশ-বিদেশের পর্যটন পিপাসু মানুষের আগ্রহের শেষ নেই।  সুন্দরবনে বছরজুড়েই ইকোট্যুরিস্টরা আসেন। ফলে সারা বছরই বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের লোকলয় সন্নিহিত করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে, শরণখোলা রেঞ্জ অফিস ও সাতক্ষীরার কলাগাছিয়া পর্যটন কেন্দ্রে ভিড় থাকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের। তবে সুন্দরবনে পর্যটনের ভরা মৌসুম হচ্ছে মধ্য অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এ তিনটি কেন্দ্র ছাড়াও হারবাড়ীয়া, কটকা কচিখালী, হিরণ পয়েন্টে ও দুবলার চর পর্যটন এলাকায় দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পদভারে মুখরিত থাকে। বন বিভাগের নিবন্ধিত ৬০টি ট্যুর অপারেটর কোম্পানি আধুনিক নৌযানে করে সুন্দরবনে দেশি বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণের ব্যবস্থা করে থাকে। লোকালয় সন্নিহিত করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে, শরণখোলা রেঞ্জ অফিস ও সাতক্ষীরার কলাগাছিয়া পর্যটন কেন্দ্রে ছোট ছোট জালিবোট বা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে সারা বছর পর্যটকরা আসা-যাওয়া করে থাকেন। করোনার কারণে পর্যটন বন্ধ থাকায় সুন্দরবনে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত ট্যুর অপারেটর ও ছোট-বড় নৌযান মালিক-শ্রমিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন সুন্দরবন ট্যুরিস্ট ক্লাবের নির্বাহী আবদুল্লাহ বনি। সুন্দরবনের পর্যটনশিল্পে জড়িত প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ এখন বেকার। করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির জানান, পর্যটন মৌসুমে তার পর্যটন কেন্দ্রটিতে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক এসে থাকে। এ কেন্দ্র লোকালয় সন্নিহিত হওয়ায় অফ সিজনে গড়ে প্রতিদিন ভ্রমণ করতে আসেন ২০০ পর্যটক। দিনে জনপ্রতি দেশি পর্যটক ২৩ টাকা ও বিদেশি পর্যটক ৩৪৫ টাকা রাজস্ব দিয়ে এ কেন্দ্রটি বন্যপ্রাণীসহ সুন্দরবনের প্রাণ প্রকৃতি দেখতে পারেন। বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, প্রতি বছর গড়ে দুই লাখ দেশি-বিদেশি পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণ করে থাকে। গত ২৬ মার্চ গোটা সুন্দরবনে বন্যপ্রাণীর করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সব ধরনের পর্যটকসহ জেলে-বনজীবীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘রেড অ্যালার্ড’ জারির পর অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট প্যাট্রোলিংসহ সব ধরনের পাহারা জোরদার করা হয়েছে।

ঢাকার পথে মানুষ, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় উপচে পড়া ভিড়

ঢাকার পথে মানুষ, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় উপচে পড়া ভিড়
পোশাক কারখানা চালুর ঘোষণায় কাজে যোগ দিতে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ বেড়েছে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে। গণপরিবহন বন্ধ থাকার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হাজার হাজার যাত্রী ব্যাটারি চালিত অটোবাইক, মোটরসাইকেল ও মাহেন্দ্রযোগে দৌলতদিয়া ঘাটে আসছেন।
বুধবার ভোর থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে ঢাকামুখী এসব যাত্রীর চাপ বৃদ্ধি পেতে থাকে। তবে এসব যাত্রীর মধ্যে পোশাক কারখানার শ্রমিকই বেশি।
বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা যাত্রীরা বলেন, কাজে যোগ দেবার জন্য গার্মেন্টস থেকে ফোন করেছে, যে কারণে খুব কষ্ট করে দৌলতদিয়া এসেছি। মাগুরা ও যশোর থেকে আসা একাধিক যাত্রীরা বলেন, আমরা জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে দিয়ে গ্রামের ভিতরের রাস্তা দিয়ে দৌলতদিয়া পর্যন্ত এসেছি। এক প্রকার বাধ্য হয়েই আমার কাজে যাচ্ছি। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিটিসির) দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মো. আবু আব্দুল্লাহ রনি বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের ফেরি বহরে ১৮টি ফেরির মধ্যে সিমিত আকারে ৫টি ফেরি চলাচল করছে। জরুরী প্রয়োজনে পণ্য পরিবহনের কথা থাকলেও বিপুল সংখক পোশাক শ্রমিক নদী পার হচ্ছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুবায়েত হায়াত শিপলু বলেন, আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি যাত্রী পারাপার ঠেকানোর জন্য তবে তাদের মানবিক দিকটা বিবেচনা করে পোশাক শ্রমিকদের ফেরিতে উঠতে দেওয়া হচ্ছে।

বিডি প্রতিদিন/হিমেল

এবার জার্মানিতে করোনার সম্ভাব্য টিকা মানবদেহে প্রয়োগ

এবার জার্মানিতে করোনার সম্ভাব্য টিকা মানবদেহে প্রয়োগ
প্রতীকী ছবি
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য একটি টিকা মানবদেহে প্রয়োগ শুরু করা হয়েছে। এটির সাফল্য নিয়ে বিজ্ঞানীরা ৮০ ভাগ আশাবাদী।
এর মধ্যেই আরেকটি নতুন টিকার মানবদেহে প্রয়োগ শুরু করল জার্মানি।
জার্মান ফার্মাসিটিউকাল কোম্পানি বায়োএনটেক করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সম্ভাব্য এই টিকা স্বেচ্ছাসেবীদের দেহে প্রয়োগ করা শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অপর কোম্পানি পিজফারের সঙ্গে মিলে বায়োএনটেক এই ভ্যাকসিনটি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। খবর আলজাজিরার। বায়োএনটেক জানিয়েছে, গত ২৩ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত জার্মানিতে ১২ জন স্বেচ্ছাসেবীর দেহে বিএনটি১৬২ নামের এই সম্ভাব্য টিকা প্রয়োগ করেছে।
বুধবার এক বিবৃতিতে বায়োএনটেক জানায়, পরবর্তী ধাপে তারা বিএনটি১৬২ নামের এই সম্ভাব্য টিকা প্রায় ২০০ জন স্বেচ্ছাসেবীর দেহে প্রয়োগ করা শুরু করবে; যাদের বয়স হবে ১৮ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে এই টিকা মানবদেহে প্রয়োগের জন্য দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে শিগগিরই অনুমোদন পাওয়ার প্রত্যাশা করছে বলে জানিয়েছে বায়োএনটেক।
মহামারি কোভিড-১৯ এর এখনও কোনও নিরাপদ ও কার্যকরী ওষুধ বা প্রতিষেধক তৈরি হয়নি। গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা বিদ্যমান ওষুধ প্রয়োগ করে করোনা রোগীদের সুস্থ করা যায় কিনা তা নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রেখেছে। এরকম বেশ কিছু ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হলেও কোনোটাই এখনও নিরাপদে ব্যবহারযোগ্য কিংবা কার্যকরী হিসেবে প্রমাণিত হয়নি।
গোটা বিশ্বে এখন কোভিড-১৯ এর সম্ভাব্য প্রায় একশ টিকা তৈরি ও পরীক্ষার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বায়োটেক কোম্পানি ও গবেষকরা। আর এসব টিকার মধ্যে অন্তত পাঁচটি টিকা পরীক্ষা করে দেখার প্রথম ধাপ অর্থাৎ ‘ফেজ ওয়ান ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল’ চালিয়েছে।
এছাড়া যুক্তরাজ্যে জিএসকে এবং ফ্রান্সের সানোফি যৌথভাবে কোভিড-১৯ এর একটি সম্ভ্যাব্য টিকা নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছে। কোম্পানি দুটি জানিয়েছে, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে তারা এর ট্রায়াল চালাবে। এছাড়া ইতালির রেইথেরা, জার্মানির লিউকোকেয়ার ও বেলজিয়ামের ইউনিভার্সালস কোম্পানিও একই রকম ঘোষণা দিয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/কালাম

ঝুঁকি নিয়েই ঢাকায় ফিরছে সবাই ট্রাকে আসছে গাদাগাদি করে, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় ফেরিতে ভিড়

ঝুঁকি নিয়েই ঢাকায় ফিরছে সবাই
মাওয়ায় গতকাল পিকআপে করে ঢাকামুখী মানুষ -বাংলাদেশ প্রতিদিন
করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যেই সীমিত আকারে পোশাক কারখানা চালুর ঘোষণার পর থেকে কাজে যোগ দিতে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন শ্রমিকরা। গতকালও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পোশাক শ্রমিকরা ঢাকা ফিরেছেন বলে আমাদের প্রতিনিধিদের খবরে বলা হয়েছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় কেউ ট্রাকে গাদাগাদি করে আবার কেউ অটোরিকশা বা ভ্যানে চড়ে ঢাকায় ফিরেছেন। কেউ কেউ পায়ে হেঁটেও ঢাকা এসেছেন বলে জানা গেছে। আগের দুই দিনের মতো গতকালও মাওয়ার শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে ফেরিতে শ্রমিকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। একই দৃশ্য ছিল দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাটেও।
ঢাকামুখী শ্রমিকরা জানান, কাজে যোগ দেওয়ার জন্য গার্মেন্ট থেকে ফোন করেছে। যে কারণে খুব কষ্ট করে দৌলতদিয়া এসেছি। মাগুরা ও যশোর থেকে আসা একাধিক যাত্রী বলেন, আমরা জনপ্রতি এক হাজার টাকায় গ্রামের ভিতরের রাস্তা দিয়ে দৌলতদিয়া পর্যন্ত এসেছি। এক প্রকার বাধ্য হয়েই আমরা কাজে যাচ্ছি। রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, পোশাক কারখানা চালুর ঘোষণায় কাজে যোগ দিতে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ বেড়েছে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে। গণপরিবহন বন্ধ থাকার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হাজার হাজার যাত্রী ব্যাটারিচালিত অটোবাইক, মোটরসাইকেল ও মাহেন্দ্রযোগে দৌলতদিয়া ঘাটে আসছেন। গতকাল ভোর থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে ঢাকামুখী এসব যাত্রীর চাপ বৃদ্ধি পেতে থাকে। তবে এসব যাত্রীর মধ্যে পোশাক কারখানার শ্রমিকই বেশি।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসির) দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মো. আবু আবদুল্লাহ রনি বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের ফেরি বহরে ১৮টি ফেরির মধ্যে সীমিত আকারে ৫টি ফেরি চলাচল করছে। জরুরি প্রয়োজনে পণ্য পরিবহনের কথা থাকলেও বিপুলসংখক পোশাক শ্রমিক নদী পার হচ্ছে। গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুবায়েত হায়াত শিপলু বলেন, আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি যাত্রী পারাপার ঠেকানোর জন্য। তবে মানবিক দিকটা বিবেচনা করে পোশাক শ্রমিকদের ফেরিতে উঠতে দেওয়া হচ্ছে।
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে গতকাল সকালে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ফেরি ও ট্রলারে করে হাজার-হাজার যাত্রী পদ্মা পাড়ি দিয়ে আসতে শুরু করেছে শিমুলিয়া ঘাটে। আর ট্রলারযোগে আসা যাত্রীদের নামানো হচ্ছে শিমুলিয়ার পদ্মার চরে। গতকাল সকাল ১০টার দিকে রো-রো ফেরি শাহ পরান ও ডাম্প ফেরি রামশিংয়ে চড়ে গার্মেন্ট কর্মীরা পদ্মা পাড়ি দিয়ে শিমুলিয়া ঘাটে এসে পৌঁছান। এরপর শিমুলিয়া ঘাট থেকে তারা সিএনজি, অটোরিকশা কিংবা রিকশায় চড়ে আবার কেউ হেঁটেই ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা দেন।
মাওয়া নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম জানান, সকালে রো-রো ফেরি শাহ পরান ও ডাম্প ফেরি রামশিং কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে শিমুলিয়া ঘাটে এসে নোঙর করে। ফেরি দুটিতে কয়েকশ যাত্রী ছিল। আর এদের অধিকাংশই ঢাকামুখী গার্মেন্ট কর্মী। মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, সীমিত আকারে পোশাক কারখানা চালুর ঘোষণার পর মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটে রাজধানীমুখী যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার যাত্রী ভ্যান, মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকে চড়ে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে এসে ভিড় জমাচ্ছেন। গতকাল সকাল থেকে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে যাত্রীদের চাপ দেখা গেছে। এর মধ্যে গার্মেন্টে কর্মরত শ্রমিকদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা লাফিয়ে ফেরিতে উঠছে। নাসির হোসেন নামে এক গার্মেন্ট কর্মী বলেন, গার্মেন্ট খোলা। তাই আমরা বাধ্য হয়ে ঢাকায় যাচ্ছি।
লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, লালমনিরহাট থেকে রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিনই যাচ্ছে শত শত নারী-পুরুষ। এবার অভিনব পদ্ধতিতে গার্মেন্ট কর্মীরা যাচ্ছেন ঢাকায়। ট্রাকের ভিতরে ৩০-৪০ জন নারী-পুরুষ বসিয়ে চারদিকে পলিথিন দিয়ে শক্ত রশি দিয়ে বাঁধা হচ্ছে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে মালামাল বহন করা ট্রাক। কিন্তু ভিতরে কোনো মালামাল নেই, শুধু মানুষ। সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে লালমনিরহাটের সদর থানার ওসি মাহফুজ আলম বলেন, বিষয়টি শুনেছি, খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

করোনাভাইরাস: যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর সংখ্যা ভিয়েতনাম যুদ্ধকেও ছাড়াল

বিবিসি লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নতুন করোনাভাইরাসের আঘাত কতোটা ব্যাপক, এ তুলনা থেকে তা স্পষ্ট হয়েছে।
প্রাদুর্ভাবের শেষ এখনও অনেক দূর বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচি। গবেষকরা চিকিৎসার কার্যকর উপায় বের করতে না পারলে আসছে শরতেও যুক্তরাষ্ট্রকে ভুগতে হতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেছেন তিনি।
ফাউচি বলেছেন, গ্রীষ্মে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি শেষ নাও হতে পারে এবং এর ফিরে আসা অনিবার্য।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বুধবার সকালে দেওয়া হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, কোভিড-১৯ এ যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা ৫৮ হাজার ৩৫৫ জন।
এরই মধ্যে দেশটিতে শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে গেছে। মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ১২ হাজার ৫৮৩ জনে।
যুক্তরাষ্ট্রে গত ১৮ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে ১০ লাখের সীমা পার করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রশিক্ষিত কর্মী ও উপকরণের ঘাটতির কারণে পরীক্ষার আওতা সীমিত থাকায় অনেক আক্রান্ত অশনাক্ত অবস্থায় রয়ে যাচ্ছে বলে দেশটির অঙ্গরাজ্যগুলোর জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন। এসব কারণে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশটির ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা মডেলে যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা ৪ অগাস্টের মধ্যে ৭৪ হাজার জনে দাঁড়াতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে। এর আগে সংখ্যাটি ৬৭ হাজার হতে পারে বলে আভাস দিয়েছিল তারা।
এই মডেল দেখিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ অঙ্গরাজ্য প্রাদুর্ভাবের সর্বোচ্চ চূঁড়া পার করেছে এমন ধারণা পাওয়া গেলেও মিসিসিপি, টেক্সাস, উটাহ ও হাওয়াইসহ সাতটি অঙ্গরাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা শিখরে পৌঁছানোর ধারায় আছে বা আসছে কয়েক সপ্তাহে সেখানে পৌঁছবে।
যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস আক্রান্তের প্রায় ৩০ শতাংশ নিউ ইয়রক অঙ্গরাজ্যের। নিউ ইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্রে প্রাদুর্ভাবের ‍উপকন্দ্রে হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরপর যথাক্রমে নিউ জার্সি, ম্যাসাচুসেটস, ইলেনয়, ক্যালিফোর্নিয়া, পেনসেলভেইনিয়া ও মিশিগানে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিনে চীনের উহানে ভাইরাসটির প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল আর ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে প্রথম একজনের মৃত্যুর কথা জানা গিয়েছিল।

কৃষি খাতের জন্য ৪ পরামর্শ সানেমের

দেশে তৈরি হল পিবি ৫৬০ ভেন্টিলেটরের প্রোটোটাইপ

পথশিশুরা কেমন আছে?

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের পথশিশুরা কেমন আছে? এ প্রশ্ন আমাকে ভাবাচ্ছে।
রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ফুল, বাদাম, আমড়া, বিক্রি করে ওরা। অনেকে আবার কাগজ, বোতল কুড়ায়। ওরা কেমন আছে?
এদের কাছে সাধারণত একেকটা দিন মানেই যুদ্ধ। জানি না তারা এই মহামারি করোনাভাইরাসের সাথে কীভাবে যুদ্ধ করে বেঁচে আছে?
যারা একটা ফুলের মালা বেশি বিক্রি করে আনন্দ পেত। আজ হয়তো তারা কোনো একটা খাবারের প্যাকেটের আশায় রাস্তায় বসে থাকে। ফাঁকা রাস্তায় কখন কে খাবার নিয়ে আসবে সে আশায় দিন কাটছে তাদের।
একবেলার খাবার ভাগ্যক্রমে পেয়ে গেলেও কপালে চিন্তার দাগ পড়ছে আরেক বেলা কী খাবে ভেবে? সামনের দিনগুলোর কথা ভেবে হয়তো ভয়ে আঁতকে উঠছে বার বার।
সমাজের উচ্চবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্নবিত্ত পরিবারের শিশুরা এখন বাবা-মায়ের সাথে আনন্দে ঘরবন্দি সময় পার করছে । অথচ অভিভাবকহীন পথশিশুরা হয়তো
খাবারের অভাবে ক্ষুধা পেটে রাস্তার ধারে ঘুমাচ্ছে। অনেকেই হয়তো অনাহারে থাকছে। হয়তো কেউ ত্রাণের জন্য কোনো গাড়ির পেছন পেছন ছুটছে তো ছুটছে।
ওদের করোনায় আক্রান্ত হয়ে মরে যাবার ভয় নেই। আছে ক্ষুধার যন্ত্রণায় মরে যাবার ভয়।
আমার মনে এখন অনেক প্রশ্ন। আমাদের পথশিশুরা নিরাপদে আছে তো? দেশের বঞ্চিত অবহেলিত পথশিশুদের সরকার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছে তো? আচ্ছা ওরা ঠিকঠাক দুবেলা দু'মুঠো খাবার মুখে তুলতে পারছে তো? নাকি অনাহারে ফুটপাতে পড়ে আছে মরার মতো?
সমাজের বিত্তশালীদের কাছে আমার অনুরোধ এইসব পথের ফুলগুলোকে বাঁচান। আমি আশাহত নই। বিশ্বাস করি আবার ঘুরে দাঁড়াবে প্রিয় বাংলাদেশ।

কীভাবে রূপ বদলাচ্ছে নতুন করোনাভাইরাস, দেখালেন দুই বাঙালি

এর মধ্যে ‘এ২এ’ নামের ধরনটিই বিশ্বজুড়ে অন্য সবাইকে পেছনে ফেলে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ইনস্টিটিউটটির দুই বাঙালি গবেষক।
তারা লিখেছেন, মানবদেহের ফুসফুসের কোষে দল বেঁধে হানা দিতে দক্ষ ‘এ২এ’ সংক্রমণ ও পরিণতি ডেকে আনার ক্ষেত্রেও বিশেষ পারদর্শী।
পশ্চিমবঙ্গের কল্যাণীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োমেডিকেল জেনোমিকসের পার্থপ্রতিম মজুমদার ও নিধান কুমার বিশ্বাসের এ গবেষণাটি শিগগিরই ভারতের কাউন্সিল ফর মেডিকেল রিসার্চের (আইসিএমআর) জার্নালে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
দুই বাঙালি গবেষকের মতে, ১০ বছর আগে যে সার্স-সিওভি ভাইরাস ৮ হাজার জনের মধ্যে সংক্রমিত হয়ে আটশ’র মতো মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল, সেটিরও ফুসফুসের কোষে প্রবেশে দক্ষতা ছিল; তবে ‘এ২এ’-র মতো অতটা নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণাগারে আনুবীক্ষণিক যন্ত্রে দেখা নভেল করোনাভাইরাস
যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণাগারে আনুবীক্ষণিক যন্ত্রে দেখা নভেল করোনাভাইরাস
শক্তিশালী হওয়ায় নতুন করোনাভাইরাসের এ ধরনটি এখন দুনিয়াজুড়ে রাজত্ব করছে বলেও জানিয়েছেন তারা।
কোভিড-১৯ এর টিকা আবিষ্কারের ক্ষেত্রে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োমেডিকেল জেনোমিকসের (এনআইবিজি) এ গবেষণা বেশ কাজে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতীয় এ ইনস্টিটিউটের গবেষণা বলছে, মাত্র চার মাসে ভাইরাসটি তার আদি ‘ও’ ধরন থেকে ‘এ২’, ‘এ২এ’, ‘এ৩’, ‘বি’, ‘বি১’-র মতো ১০টি রূপ ধারণ করেছে।

ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ৫৫টি দেশের ৩ হাজার ৬৩৬ জন কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর দেহ থেকে ভাইরাস নমুনার আরএনএ সিকোয়েন্স নিয়ে গবেষণা করে আদিটিসহ মোট ১১টি ধরন পেয়েছে তারা।
সংগৃহীত মোট নমুনার আরএনএ বিশ্লেষণ করে ১ হাজার ৮৪৮টি (৫০ শতাংশ) সংক্রমণের ক্ষেত্রে ‘এ২এ’ পেয়েছেন তারা। ‘ও’ পাওয়া গেছে ৫৮২ নমুনায়, ‘বি১’ পাওয়া গেছে ৫০৫টি নমুনায়।
এই গবেষণায় ভারতের ৩৫টি নমুনার ১৬টিতেই ‘এ২এ’ পাওয়া গেছে। ‘এ৩’ পাওয়া গেছে ১৩টিতে, ‘ও’ পাওয়া গেছে ৫টিতে।
গবেষক দলের সদস্য পার্থ জানিয়েছেন, চীনে সংক্রমণ ঘটিয়েছে ‘ও’; ২৪ জানুয়ারি প্রথম ‘এ২এ’ এর অস্তিত্ব ধরা পড়ে। আর মার্চের শেষ নাগাদ এটি দুনিয়াজুড়ে অন্য ধরনগুলোকে টপকে যায়।
“এটি (এ২এ) সার্স-সিওভি২ এর মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী হয়ে উঠে,” বলেছেন তিনি।
অপর সদস্য নিধান জানান, চীনের পর ইরানে ভাইরাসটির ধরন ‘এ৩,’-এ বদলে যায়। এরপর ইউরোপ আর যুক্তরাষ্ট্রে ‘এ২এ’-ই আঘাত হেনেছে। ভারতে ভাইরাসটি এসেছেও সেখান থেকে।
‘এ২এ’ এবং ‘ও’ দুটোই শক্তিশালী; তবে ‘এ২এ’ বেশি শক্তি ধরে, বলেছেন নিধান।
এনআইবিজির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অধ্যাপক পার্থ বলেন, বেঁচে থাকতে হলে ভাইরাসকে অবশ্যই কোনো না কোনো প্রাণীর শরীরে সংক্রমিত হতে হবে।
রূপ পরিবর্তন বা মিউটেশনের ফলে সাধারণত ভাইরাসের সংক্রমণ ক্ষমতা কমে যায়, তবে ব্যতিক্রমও আছে।
“তবে কোনো কোনো মিউটেশনে ভাইরাস আরও দক্ষ হয়ে ওঠে এবং বেশি মানুষের মধ্য ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের মিউটেশন সংক্রমণের গতি বাড়িয়ে কখনো কখনও আদি ধরনকেও ছাড়িয়ে যায়। সার্স-সিওভি২ এর ক্ষেত্রেও তেমনটিই ঘটেছে,” বলেছেন পার্থ।

কোভিড-১৯: বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা কতদূর?

কুয়েতে বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু

প্রবাসী
বিভিন্ন অপরাধে জেলে থাকা প্রবাসী ও চলতি সাধারণ ক্ষমায় নিবন্ধনকৃত প্রবাসীদের ধাপে ধাপে দেশে ফেরত পাঠানো প্রক্রিয়া শুরু করেছে কুয়েত। এ সব প্রবাসীকে পুনরায় নতুন ভিসায় কুয়েতে প্রবেশ করতে পারবেন।
কুয়েত সরকার বিভিন্ন দেশের অবৈধ অভিবাসীদের জন্য ১ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে।
এখন পর্যন্ত সাধারণ ক্ষমায় প্রায় ৫ হাজার প্রবাসী নিজ দেশে ফিরে যেতে নাম নিবন্ধন করেছেন। দেশটির মাহবুল্লাহ, গ্রিন কসুর, ফিন্তাস ও ছেবদি ক্যাম্পে বর্তমানে তারা কুয়েত সরকারের ত্ত্ত্বাবধানে রয়েছেন।
এ সব অবৈধ অভিবাসীর থাকা-খাওয়াসহ বিমান টিকিট কুয়েত সরকার বহন করবে।
সাধারণ ক্ষমার আওয়তায় ২৭ এপ্রিল ১২০ জন ও ২৮ এপ্রিল ১২১ জন প্রবাসীকে আল জাজিরা এয়ারওয়েজের দুইটি ফ্লাইটে নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে।
কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত এস এম আবুল কালাম বলেন, ক্যাম্পে থাকা প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনেছি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ক্যাম্পে বাংলাদেশিদের সমস্যার কথা জানিয়েছি।
মে মাসের প্রথম সপ্তাহে সাধারণ ক্ষমার যাত্রীদের ফ্লাইট চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ব্যাংকে করোনা আক্রান্ত বাড়ছে

ব্যাংকে করোনা আক্রান্ত বাড়ছে
অগ্রণী ব্যাংকের এক কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর ব্যাংকটির প্রিন্সিপাল শাখা লকডাউন করেছে কর্তৃপক্ষ। ফাইল ছবি
ব্যাংক লেনদেনে যথাযতভাবে সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। বিশেষ করে জেলা, উপজেলা এবং থানা পর্যায়ে এ সমস্যা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া এটিএম বুথেও একই পরিস্থিতি। অনেক এটিএম বুথের প্রবেশ মুখে হ্যান্ড স্যানিটাইজার নেই। টাকা তোলার লম্বা লাইনও কোথা কোথাও দেখা যাচ্ছে।
ফলে ব্যাংকে করোনাভাইরাস আক্রান্ত এবং শাখা লকডাউন অব্যাহত আছে। ইতিমধ্যে সিটি ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। সর্বশেষ মঙ্গলবারও সুনামগঞ্জে একজন ব্যাংক কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট শাখা লকডাউন করা হয়েছে।
এর আগে সোনালী ব্যাংকের রংপুর বাজার শাখার ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে সাতজনই জ্বর, সর্দি, কাশিতে আক্রান্ত হন। এ অবস্থায় ওই শাখায় লেনদেনসহ সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সোনালী ব্যাংকের রংপুর প্রধান শাখার উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আবদুল বারেক চৌধুরী জানান, জ্বরে ভোগা সাতজনের ছয়জনই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গত বুধবার সকাল থেকে শাখার যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
এর আগে ঢাকায় সোনালী ব্যাংকের এক কর্মকর্তা করোনা আক্রান্তের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শাখা লকডাউন করা হয়েছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের দুইজন ম্যানেজার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ব্যাংকারদের বিকল্প সেটে শাখা সচল রাখা হয়েছে।
জানতে চাইলে কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া যুগান্তরকে বলেন, দুইজন ম্যানেজার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ এবং ময়মনসিংহের ওই দুই শাখা ব্যাংকারদের বিকল্প সেট দিয়ে সচল রাখা হয়েছে।
বেসরকারি ব্যাংকগুলোর অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী আক্রান্ত হয়েছেন। সাউথইস্টের বংশাল শাখা সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। এ শাখার লেনদেন এখন অনলাইনে চলছে। শাখাটির একজন পিয়ন এবং একজন সিকিউরিটি গার্ড আক্রান্ত হয়েছেন। তবে একজন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
অগ্রণী ব্যাংকের এক কমকর্তা আক্রান্তের খবরে প্রথমে প্রিন্সিপাল অফিস বন্ধ করলেও পরে তা খুলে দেয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি আরও অনেক ব্যাংকের কর্মকর্তা করোনায় আক্তান্তের খবর পাওয়া গেছে।

নাকের স্প্রে ঠেকাবে করোনা, ল্যাব পরীক্ষায় সফল স্কটল্যান্ড

করোনাভাইরাস
নাকে স্প্রে ব্যবহার করলেই হবে না করোনা; এমন ওষুধ ল্যাব পরীক্ষায় সফল হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্কটল্যান্ডের সেন্ট অ্যান্ড্রুস ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক। তারা বলছেন, ‘নিউমিফিল’ নামক এন্টিভাইরাল বা ভাইরাসরোধক ওষুধটি তৈরি করা হয়েছে নাকের স্প্রে হিসেবে। এটি এখন করোনার ওষুধ হিসেবে আশা জাগাচ্ছে।
গবেষকরা বলছেন, ইতিমধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় এটি প্রমাণিত হয়েছে। এ স্প্রে করোনাভাইরাসকে ফুসফুসের কোষে প্রবেশের আগেই আটকে দেবে।
ওষুধটির মূল গবেষক বায়েলোজির অধ্যাপক গ্যারি টেইলর বলেন, ‘অন্যান্য ওষুধ সাধারণত ভাইরাসের কিছু অংশে আঘাত হানে। আর আমাদের এ ওষুধটি ভাইরাসকে মানব কোষে প্রবেশের আগেই আটকে দেয়। নাকের এ স্প্রে হয়তবা প্রতিদিন একবার কিংবা সপ্তাহে একবার দিতে হতে পারে।’
গবেষকরা জানিয়েছেন, ‘নিউমিফিল’ নামক ওষুধটি তৈরি করা হয়েছিল মূলত ফ্লুর চিকিৎসায়। এখন এটি কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রেও সাফল্য দেখাচ্ছে।
সেন্ট অ্যান্ড্রুস ইউনিভার্সিটির এ গবেষণায় দেখা যায়, এ ওষুধটি ভাইরাসটির গায়ে বাতাসের বেগে এক ধরনের প্রোটিন ঢেলে দেয়। এতে ভাইরাসটি আর কোষে প্রবেশ করতে পারে না। এখনও পর্যণ্ত ওষুধটির ল্যাব টেস্ট করা হয়েছে। যার ফলাফল পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড দেখেছে। তারা আশা করছেন, এটি কোভিড-১৯ চিকিৎসায় ব্যবহার হতে পারে।
নিউমিফিল ওষুধটি তৈরি করেছে নিউম্যাগেন লিমিটেড। যারা নতুন রোগ ও ক্যান্সারের ওষুধ তৈরিতে কাজ করে।
বিশ্বজুড়ে দেশগুলো যখন করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ওষুধ উদ্ভাবন নিয়ে ব্যস্ত, তখন স্কটল্যান্ডের এ ওষুধটি করোনা প্রতিরোধে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষকরা মনে করছেন।
সূত্র: মেইল অনলাইন

লকডাউনে কলকাতায় বাড়িতে আসছে এটিএম বুথ!

এটিএম বুথ
ফাইল ছবি
করোনাভাইরাস ঠেকাতে বিভিন্ন দেশ লকডাউন ঘোষণা করেছে। ভারতও পুরো এক মাসের বেশি সময় ধরে দেশটি লকডাউন করে রেখেছে। আগামী ৩ মে লকডাউনের মেয়াদ শেষ হলেও তা বাড়ানো হতে পারে বলেই অনেকে মনে করছেন। কিন্তু লকডাউনের শুরু থেকেই ব্যাংকে মানুষের ভিড় উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
অনেক জায়গায় সামাজিক দূরত্ব না মেনেই ব্যাংকের লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা তুলতে দেখা গেছে। এই পরিস্থিতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের এইচডিএফসি ব্যাংক। ব্যাংকটির পক্ষ থেকে কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় মোবাইল ভ্যানের মাধ্যমে এটিএম পরিষেবা দেয়ার কথা জানিয়েছে।
ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লকডাউনে ব্যাংকে বা এটিএম বুথে যেতে অসুবিধায় পড়ছেন অনেকেই। আবার অনেক বেশি সংখ্যক মানুষ ব্যাংক বা এটিএম বুথে পৌঁছে যাচ্ছেন। ফলে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এই পরিষেবা পাওয়া যাবে।
আরও জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে কলকাতাতেই এই পরিষেবা শুরু হচ্ছে। প্রয়োজনে তা ছড়িয়ে দেয়া হবে জেলায় জেলায়।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, যে এলাকায় গ্রাহক সংখ্যা বেশি, সেই জায়গা আপাতত অগ্রাধিকার পাবে। শহরের প্রধান সড়কের সামনে রাখা থাকবে গাড়ি। থাকবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার। সমস্ত সুরক্ষাবিধি মেনেই টাকা তুলবেন গ্রাহকরা।
ইতিমধ্যে মুম্বাই, দিল্লি, চেন্নাই, পুনে, হায়দারাবাদ ও ভুবনেশ্বরে এই পরিষেবা চালু করেছে ব্যাংক। তাতে সুবিধাও হচ্ছে অনেকের। তবে, ইতোমধ্যে নিউটাউনে এই ধরনের পরিষেবা দিতে শুরু করেছে কানাড়া ব্যাংক।

সৌদি প্রবাসীদের স্বাস্থ্য সেবায় চালু হলো ‘প্রবাসবন্ধু’

সৌদি প্রবাসীদের স্বাস্থ্য সেবায় চালু হলো ‘প্রবাসবন্ধু’

করোনাভাইরাসের মধ্যে সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বাস্থ্য সেবা ও পরামর্শের জন্য চালু হয়েছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘প্রবাসবন্ধু’। একটি হটলাইনসহ ৫টি ইমো নম্বর ও ৬৭ জন প্রবাসী ডাক্তারের সমন্বয়ে মোবাইলফোনেই সৌদিআরব প্রবাসীদের জন্য চালু করা হয়েছে এই সেবা। সৌদি প্রবাসী ২২ লাখ প্রবাসীর স্বাস্থ্য সেবায় এই উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এটুআই (অ্যাক্সে টু ইনফরমেশন) প্রকল্প।
আজ বুধবার অনলাইন ভিডিও বৈঠকে এই সেবাটি উদ্বোধন করা হয়। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমেদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বৈঠকে বক্তব্য দেন।
এতে আরো উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা, আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এনএম জিয়াউল আলম, সৌদি আরবে বাংলাদেশের দূতাবাস থেকে অতিরিক্ত সচিব আবুল হাসান, এটুআই প্রকল্প পরিচালক ড. আব্দুল মান্নান এবং পলিসি অ্যাডভাইজার আনীর চৌধুরী, এটুআইয়ের চিফ ই-গভর্ন্যান্স স্ট্র্যাটেজিস্ট ফরহাদ জাহিদ শেখ প্রমুখ। ভার্চুয়াল বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রবাসকল্যাণ মন্ত্রী প্রবাসীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় উদ্যোগ গ্রহণ করায় এটুআইকে ধন্যবাদ জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন অ্যাপে প্রবাসীদের জন্য ৩৪ ধরনের সেবা চালু করায় আইসিটি বিভাগের প্রশংসা করেন। হটলাইন ৩৩৩ এবং ৯৯৯ ব্যবহারে নিজের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমেদ জানান, করেনা পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের কল্যাণে ইতোমধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি দূতাবাসে ১০ কোটি টাকার সহায়তা পাঠানো হয়েছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, আর প্রবাসীরা আমাদের অর্থনৈতির চালিকা শক্তি। আর তাই তাদের বিপদে আমাদেরই করোনা যুদ্ধের সম্মুখ ভাগের সমরকৌশলী চিকিৎকরা এগিয়ে এসেছেন। বাংলাদেশ থেকেও ২৫০ জন চিকিৎক এই সেবায় যুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সিআরএম সফটওয়্যারের মাধ্যমে এই কলসেন্টারটি পরিচালিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই সেবার মাধ্যমে সৌদি আরবে অবস্থানকারী যেকোনো প্রবাসী একটি হান্টিং নাম্বার +৮৮ ০৯৬১১ ৯৯৯ ১১১-এর মাধ্যমে অথবা ইমো নাম্বার (ফ্রি) ০১৪০০৬১১৯৯৫, ০১৪০০৬১১৯৯৬, ০১৪০০৬১১৯৯৭, ০১৪০০৬১১৯৯৮, ০১৯৫৮১০৫০২০-এর মাধ্যমে কল করলে সেই কলটি সৌদিআরবে বাংলাদেশি ডাক্তারদেও যে পুল রয়েছে তাদের কাছে রাউট করা হবে। সংশ্লিষ্ট ডাক্তার তখন ঐ রোগীকে কল সেন্টারের মাধ্যমে চিকিৎসা পরামর্শ দিতে পারবেন। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রবাসীরা corona.gov.bd ওয়েবসাইট থেকেও পাবেন। ইতিমধ্যে ৬৭ জন সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশী ডাক্তার এ কল সেন্টারের মাধ্যমে প্রবাসীদেরকে চিকিৎসা পরামর্শ প্রদানের অঙ্গীকার নিয়ে corona.gov.bd-এর মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করেছেন।

ধান কাটার হারভেস্টরের ব্যাপক বিক্রি, ভর্তুকি ৫০ ভাগ

করোনাভাইরাস ঠেকাতে দেশজুড়ে সাধারণ ছুটিতে অন্যান্য ব্যবসার পরিস্থিতি যখন খারাপ, তখন ধান কাটার যন্ত্র কম্বাইন্ড হারভেস্টরের বিক্রি ব্যাপকভাবে বাড়ছে। দেশের কৃষিযন্ত্র খাতের শীর্ষস্থানীয় দুই কোম্পানির একটি জানিয়েছে, গত বছর তারা ৪০টি কম্বাইন্ড হারভেস্টর বিক্রি করেছিল, এ বছর তা ১ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে শীর্ষস্থানীয় আরেকটি কোম্পানি জানিয়েছে, চাহিদা ব্যাপক। তাদের মজুতে থাকা হারভেস্টর বিক্রি শেষের পথে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বোরো মৌসুমে এবার মোট জমির ৫ শতাংশের ধান কম্বাইন্ড হারভেস্টর কাটা হবে, যা এতদিন মাত্র এক শতাংশের নিচে ছিল। এবার করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে দেওয়া সাধারণ ছুটির হাওরে ধান কাটতে শ্রমিকের ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছিল। কম্বাইন্ড হারভেস্টর ও অন্যান্য কৃষিযন্ত্র দিয়ে হাওরে পানি আসার আগেই দ্রুত ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত হাওরের প্রায় ৬২ ভাগ বোরো ধান কাটা শেষ হয়েছে।

কম্বাইন্ড হারভেস্টরে ধান কাটার ক্ষেত্রে তিনটি সুবিধার কথা বলছেন কৃষক ও যন্ত্র বিপণনকারীরা। প্রথমত, হারভেস্টর দিয়ে দ্রুত ধান কাটা যায়। শ্রমিকের অভাব কোনো সমস্যা তৈরি করে না। দ্বিতীয়ত, হারভেস্টরে খরচ সাধারণ পদ্ধতিতে ধান কাটার প্রায় অর্ধেক। তৃতীয়ত, হারভেস্টরে কাটলে ফসলের ক্ষতি অর্ধেকের নিচে নেমে আসে।
সব চেয়ে বড় সুবিধা হলো, যেসব কৃষি উদ্যোক্তা অথবা কৃষক সমিতি হারভেস্টর কেনে, তাদের মোট দামের অর্ধেক ভর্তুকি দেয় সরকার। হাওরে এটা ৭০ শতাংশ। এর মানে হলো, জাপানের একটি ব্র্যান্ডের একটি কম্বাইন্ড হারভেস্টর ২৮ লাখ টাকা দিয়ে কিনলে সরকার ১৪ লাখ টাকা দেয়। হাওরের কৃষকেরা ভর্তুকি হিসেবে পান ১৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আর চীনা একটি ব্র্যান্ডের একটি হারভেস্টর ২০ লাখ টাকা দিয়ে কিনলে কৃষক ভর্তুকি পান ১০ লাখ টাকা।
এ ব্যাপারে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) হাসানুজ্জামান কল্লোল প্রথম আলোকে বলেন, সরকার কৃষির যান্ত্রিকীকরণে ২০০ কোটি টাকার ভর্তুকি দিচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ১০০ কোটি টাকা মোটামুটি কৃষক পর্যায়ে চলে গেছে। বাকি ১০০ কোটিও ছাড় করা হয়েছে। তিনি বলেন, 'হাওরে নতুন কিছু হারভেস্টর দেওয়া হয়েছে। আগের কিছু হারভেস্টর ও অন্যান্য কৃষি যন্ত্র মেরামত করে ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে দ্রুত ধান কেটে ফেলা যায়।'
দেশে এখন জাপানি ও চীনা কম্বাইন্ড হারভেস্টর বাজারজাত করে চার-পাঁচটি কোম্পানি। এর মধ্যে বাজার হিস্যার দিক দিয়ে এগিয়ে এসিআই মোটরস, যারা জাপানের ইয়ানমার ব্র্যান্ডের কম্বাইন্ড হারভেস্টর বাজারজাত করে। তাদের দুটি হারভেস্টরের একটির দাম সাড়ে ২৯ লাখ টাকা, অন্যটি ২৮ লাখ টাকা।
এ ব্যাপারে এসিআই মোটরসের নির্বাহী পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস প্রথম আলোকে বলেন, মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত হারভেস্টর বিক্রির মৌসুম। আশা করছি, এবার এক হাজার ইয়ানমার হারভেস্টর বিক্রি হবে। এই এক হাজার হারভেস্টর এক মৌসুমে চার লাখ একর জমির ধান কাটতে পারবে। তিনি বলেন, সাধারণ সময়েও দেশে কৃষিতে ৪০ শতাংশ শ্রমিক সংকট থাকে। এই সংকটের একটা অংশ এবার সামাল দেবে হারভেস্টর।
এসিআইয়ের হিসাবে, সনাতনী উপায়ে এক একর জমির ধান কাটতে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা লাগে। হারভেস্টরে খরচ প্রায় অর্ধেক, ৫ হাজার টাকা। এক হাজার হারভেস্টরে এ ক্ষেত্রে সাশ্রয় প্রায় ২০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া সনাতনী পদ্ধতিতে ধান কাটতে ফসল নষ্ট হয় ১২ শতাংশের মতো। হারভেস্টরে তা ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসে। এ ক্ষেত্রে যে ধান রক্ষা পায়, তার মূল্য ১০০ কোটি (১ হাজার হারভেস্টরে)।
সুব্রত রঞ্জন বলেন, সব মিলিয়ে এক হাজার কম্বাইন্ড হারভেস্টরে এক মৌসুমে ৩০০ কোটি টাকার বাড়তি সুফল পাবেন দেশের কৃষকেরা। ১০ মৌসুমে হারভেস্টরগুলো কৃষিতে ৩ হাজার কোটি টাকার মূল্য যোগ করবে।
কৃষি যন্ত্রের বাজারে আরেক শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান মেটাল গ্রুপ চীনের ওয়ার্ল্ড ব্র্যান্ডের হারভেস্টর বিক্রি করে। তাদের হারভেস্টরের দাম সাড়ে ২০ লাখ টাকা। সেটি কিনলে সরকার ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা টাকা ভর্তুকি দেয়।
মেটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাজিদ জামিল প্রথম আলোকে বলেন, সরকার ভর্তুকি দেওয়ায় হারভেস্টর বিক্রি বাড়বে। কৃষিতে শ্রমিকের ঘাটতি সবসময়ই থাকে। যন্ত্র ব্যবহার করলে ধান কাটায় কৃষকের খরচ ৪০ শতাংশ কম হবে। এতে ধান আবাদ করে কৃষক লাভবান হবে। তিনি বলেন, এখন যন্ত্র দিয়ে ২ শতাংশেরও কম ধান কাটা হয়। ফলে এ ক্ষেত্রে অনেক দূর যাওয়ার সুযোগ আছে।
সাজিদ জামিল বলেন, সরকার ভর্তুকি দেওয়ার পরও বাকি টাকা এক সঙ্গে কৃষকেরা দিতে পারেন না। এ কারণে আমাদের বাকিতে দিতে হয়। এখন সাধারণ ছুটিতে টাকা সংগ্রহ করাও কঠিন।
চিটাগং বিল্ডার্স, আলিম ইন্ডাস্ট্রিজ ও আবেদীন ইক্যুইপমেন্ট বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ছোট-বড় কম্বাইন্ড হারভেস্টর আমদানি করে।
কোম্পানিগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে জমি চাষ ও সেচে কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার ৯০ শতাংশের বেশি। ধান মাড়াইয়ে যন্ত্রের ব্যবহার ৭০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। পিছিয়ে ছিল ধান কাটা। সেখানে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়তে শুরু করেছে।
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার মিজানুর রহমান এপ্রিলের মাঝামাঝিতে একটি হারভেস্টর কিনেছেন ২৯ লাখ টাকায়। এর মধ্যে ভর্তুকি পেয়েছেন সাড়ে ১৪ লাখ টাকা। এখন তিনি হাওরে বোরো মৌসুমের ধান কাটছেন। দিনে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে তাঁর।
মিজানুর রহমান বলেন, বোরো ও আমন মিলিয়ে তিনটি মৌসুম পেলেই তার বিনিয়োগ উঠে যাবে। এতে লাগবে দেড় বছর। হারভেস্টরটি চালানো যাবে পাঁচ বছরের মতো।
কৃষি মন্ত্রণালয় কৃষির যান্ত্রিকীকরণ এগিয়ে নিতে তিন হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প নিয়েছে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক এম এ সাত্তার মণ্ডল মনে করেন, একটি মাঠে একটি যন্ত্র নামলে সেটার সেবা নেওয়ার সুযোগ সব কৃষকই পান। যান্ত্রিকীকরণ কৃষকের খরচ কমায় এবং একটি ফসল শেষ করে আরেকটি ফসল চাষের মধ্যকার সময় কমিয়ে আনে। এ ছাড়া কৃষিভিত্তিক একটি উদ্যোক্তা শ্রেণি গড়ে ওঠে। তিনি বলেন, কৃষকেরা যখন অভ্যস্ত হয়ে যাবেন, তখন সরকার ভর্তুকি না দিলেও দামী যন্ত্র কিনবেন। থাইল্যান্ড-ভিয়েতনামের মতো দেশে এভাবেই কৃষির যান্ত্রিকীকরণ হয়েছে।

রূপসা আমার প্রথম প্রেম

রূপসা সেতু। ছবি: লেখকরূপসা সেতু। ছবি: লেখকপ্রথম যৌবনে পদার্পণ করে যখন বাস্তব জীবনের পথ চলতে শুরু করলাম, তখন সমস্ত ভালো লাগা দুচোখের পাতায় এসে ভর করেছিল। অজানাকে জানার তুমুল আকর্ষণ ভাবতে শেখাত। কখনো কাউকে দুরন্ত সাহস দেখিয়ে ভালো লাগার কোনো বার্তা শোনাতে পারিনি।
পারিবারিক দৈন্যদশায় হলুদ হয়ে গিয়েছিল আমার সেই প্রথম যৌবনের সবুজ উদ্যান। সেই প্রচণ্ড ভেঙে পড়ার মুহূর্তে যে সাড়াজাগানো ধ্বনিতে কর্ণপাত করেছিলাম, সেটা ছিল একটা নদী। রূপে–যৌবনে আশাজাগানিয়া মোলায়েম নাম ছিল তার। সেই থেকে ভালোমন্দের পার্থক্য শেখার শুরু। সে ছিল আমার রূপসা। সেদিন থেকে রূপসা নদীর পাড়ে গিয়ে বসে থাকতাম।
রূপসা ছিল আমার আরেকটি অস্তিত্ব। প্রিয়জনদের প্রতি আমার হৃদয়ের টানে রূপসা এসে ভাগ বসাতে শুরু করেছিল। আমিও রূপসাকে আমার মনেপ্রাণে স্থান দিয়েছিলাম। প্রিয়জনদের প্রতি আমার সকল টান রূপসাকে দিয়ে আমি হয়ে যেতাম মুক্ত ও স্বাধীন।
যদিও আমার অনেক কষ্ট হতো, এরপরও দূর থেকে কষ্টকে চাপিয়ে রাখার অভিনয় করতাম। সবার প্রতি মায়া কমাতে বেশি সময় দিতাম রূপসাকে। রূপসার মধ্যে আমার সকল সুখ খুঁজে নিতাম। রূপসার পাড়ে বসে রোজ ভাঙাগড়ার গল্প শুনতে পেতাম। আমার মনের ব্যথার উল্লম্ফন চাপিয়ে রাখতাম রূপসার কাছে গিয়ে।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অথবা বন্ধুদের সঙ্গেও এতটা সময় দিইনি, যতটা সময় আমি রূপসাকে দিয়েছি। রূপসা নদীর পাড়ে বসে থাকতে থাকতে কখন যে মধ্যরাত হয়ে যেত বুঝতেই পারতাম না। মা অপেক্ষায় থাকত কখন বাসায় ফিরব। বাসায় ফিরলে মা জিজ্ঞেস করত, এতটা সময় কোথায় কাটিয়েছিস? আমার তো জানা ছিল বরাবরের মতো সেই একই উত্তর! বলতাম বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় ছিলাম। মা বলত, কাল থেকে তাড়াতাড়ি বাসায় আসবি। আমি চুপচাপ ঘরে গিয়ে খাবার টেবিলে বসতাম। রূপসার জন্য কতবার কতজনের সঙ্গে যে মিথ্যা বলেছি তার কোনো হিসাব নেই!
আমার প্রথম যৌবনে প্রথম প্রেয়সী রূপসা। লাজশরমের মাথা খেয়ে রূপসা কাছে ডাকত যখন-তখন। ফিরে যেতাম রূপসার কাছে। রাত যতই গভীর হতো, ততই রূপসার সঙ্গে একান্ত হতাম। রাতের নীরবতায় রূপসা আমাকে খুলে দেখাতো হাজার বছরের সমস্ত রূপের মহিমা। আমি বিমুগ্ধ হয়ে পাড়ে বসে দেখতাম তার সকল রূপ।
ঢেউয়ের সৌন্দর্যের মধ্যে পানকৌড়ির ডুবসাঁতার দেখে নিজেকে আবিষ্কার করতাম বারবার। পরিবারের টানাপোড়েনে যখন কাউকে প্রেয়সী বলে দাবি করতে পারিনি, তখন রূপসার প্রেম আমাকে মুগ্ধ করেছিল। সেদিন থেকে আজীবন রূপসার সম্মুখে বসে থাকার সম্মতি জানিয়েছিলাম। এখন কেউ যদি জিজ্ঞেস করে, আমার প্রথম প্রেমিকা কে ছিল? আমি বুক ফুলিয়ে চিৎকার করে বলব, রূপসা আমার প্রথম প্রেম। রূপসা আমার প্রথম প্রেমিকা।
প্রতিদিন বাড়িতে মায়ের এটা-ওটা রান্না চলত। আমি আর কোনো কিছুতে বাধা দিতাম না। শুধু শুধু মন খারাপ করার কীই–বা দরকার। যদিও আমি অতিরিক্ত ব্যয়ের পক্ষে কোনো দিন নই। যতটুকু প্রয়োজন, তার ঊর্ধ্বে কোনো কিছু নয়। আমার মিতব্যয়ী চালচলন পরিবারের কেউ তেমন পছন্দ করত না। তারা বলত, আজ মারা গেলে কাল দুই দিন! এত হিসাবের কী আছে?
তাদের সেই হিসাবের কাছে আমি হয়ে যেতাম আলাদা মানুষ। প্রয়োজনের অধিক ব্যয়ের বরাবরই ঘোর বিরোধী। আমার মিতব্যয়ী চালচলন দেখে কেউ কেউ বলত, এত হিসাব করে জীবন চলে না। এই কথাটি এখন বন্ধুরাও বলে। তারা বলে, জীবনকে মাঝেমধ্যে একটু নাড়িয়ে-চাড়িয়ে দেখতে হয়। চুপচাপ নীরবে থাকার চেয়ে আওয়াজ দিয়ে থাকা দোষের কিছুই নয়। অন্তত আশপাশের কেউ তো বুঝতে পারে এই তল্লাটে কেউ একজন আছে। ভাবি, মানুষকে বোঝানোর কী আছে। নিজ জীবন যেমন নিয়মে বাঁধব, সেটাই আসল জীবন।রূপসা নদীতে নৌকায় মানুষের যাতায়াত। ছবি: লেখকরূপসা নদীতে নৌকায় মানুষের যাতায়াত। ছবি: লেখক মানুষের মৃত্যু হয়ে গেলে একটা জীবনের মৃত্যু হয়। কৃতকর্ম যুগ-যুগান্তর মানুষকে জীবিত রাখে। দেহটা মাটির সঙ্গে মিশে গিয়ে মাটির উর্বরতা বাড়ায়। একটা সময় মাটির উর্বরতা কমে যায়, কিন্তু কৃতকর্মের সতেজতা থাকে উত্তম।
মা বলত, আর কয়দিন মাত্র মধ্যে আছে তুই বিদেশে যাবি। এই কয়টা দিন অন্তত বাড়িতে থাক। ভাবলাম, সত্যিই তো বিদেশে চলে যাব আপন মানুষদের মায়া-মমতা ছেড়ে, কয়টা দিন বাড়িতে থাকি। বাড়িতে সবার সঙ্গে থাকলে যে আবার মায়াজালে জড়িয়ে যাব। সবার মায়া-মমতার জাল থেকে বেরিয়ে আসার জন্য নিজের সঙ্গে নিজে রোজ যে অভিনয় করেছি, তার কী হবে! সেসব অভিনয় মিথ্যা হয়ে যাবে। না, আবার নতুনভাবে মায়ায় জড়িয়ে নিজের ভেতর তোলপাড় করতে পারব না। বেরিয়ে যেতাম ভালোবাসার টানে রূপসা কাছে।
সারা দিন বাড়িতে থেকে যেন আমার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসত। মাকে মিথ্যা বলে সন্ধ্যাবেলায় বেরিয়ে পড়তাম সবার মায়া-মমতা ভুলে থাকতে। যেখানে গেলে একেবারে আলাদা হয়ে যাই। নিজে ক্ষতবিক্ষত হয়ে অন্যকে আশার পথ দেখিয়ে হয়ে যাই উদার। যার রূপের মায়াজালে বন্দী হয়ে শিখেছি দুঃখ ভোলার মূলমন্ত্র, সেই রূপসার কাছে। কীভাবে জোয়ার-ভাটার মতো জীবনে উত্থান–পতন আসে তা-ও আমি দেখেছিলাম রূপসার কাছে গিয়ে। দুঃখ–দুর্দশা পেছনে ফেলে কীভাবে একাধারে বয়ে যেতে হয় সামনের দিকে, সেটাও আমি শিখেছি রূপসার পাড়ে বসে।
রূপসা, আর কত স্রোতোধারায় বয়ে যাবে তুমি? বেদের বহর, জেলের নৌকা আর কত দিন ভাসাবে তোমার বুকে? হৃদয়ের রাখিবন্ধন, মঙ্গলসূত্র—সবই ডুবিয়ে দিয়েছি তোমার অতল গহ্বরে। আজও নিভৃতে কান পেতে শুনি তোমার উল্লম্ফন। হৃদয়ের টান হৃদয় বোঝে। তুমি বোঝো ভাঙতে দুকূল। সব ভুলে কোনো এক দিক আমাদের ভালোবাসায় গড়ব দুকূল। কৃষক ফিরে পাবে তার আবাদি জমি। গর্ভবতী সবুজ খেতে ভূমিষ্ঠ হবে সোনার ফসল।
আজও মনে হয় সাদা কাশফুলের নিবিড় ভালো লাগায় বিমোহিত হয়ে চেয়ে থাকি রূপসার পাড়ে বসে কিছুটা সময়। বটবৃক্ষের ছায়াতলে বসে হাঁপিয়ে ওঠা জীবনে ক্লান্তিবিনোদনের আখড়া জমাই। ঢেউয়ের মধ্যে শুশুকের কাঁথা সেলাইয়ের ফোড় দেখি। প্রেয়সী রূপসার ঢেউয়ের মধ্যে ভালোবাসার গুনগুনানি শুনি।
মনের অজান্তে কে কখন মায়ার শিকলে বন্দী হয়ে যায় কেউ বলতে পারে না। স্বপ্ন এসে ভর করে চোখের পাতায়। মনের আবদ্ধ জানালায় উঁকি দেয় ভালোবাসার স্বর্গীয় অনুভূতি। নদীর মতো বয়ে যায় আমাদের বহমান জীবনধারা।

জামিলুর রেজা চৌধুরী যেন ছকে বাঁধা জীবন

গতকাল ২৮ এপ্রিল ভোরে মারা গেছেন জাতীয় অধ্যাপক এবং ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য জামিলুর রেজা চৌধুরী। প্রথম আলোর বুধবারের ক্রোড়পত্র অধুনায় এই গুণী মানুষের জীবনযাপন নিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল। সেই প্রতিবেদনে জানা গিয়েছিল ভোরে হাঁটতে যাওয়া, প্রতিদিন সুডোকু বা শব্দজট মেলানো, দিনে অন্তত সাত-আটটি সংবাদপত্র পড়া, নিয়মিত ই-মেইল চেক করা এবং রাতে স্কাইপে নাতির সঙ্গে কথা বলা—অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর দৈনন্দিন অভ্যাস। জামিলুর রেজা চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনটি আজ আবার প্রকাশিত হলো।
পছন্দের গাঢ় নীল ব্লেজার।  ছবি: কবির হোসেনপছন্দের গাঢ় নীল ব্লেজার। ছবি: কবির হোসেনসূর্যোদয় রমনা পার্কে গিয়ে দেখা তাঁর বহু বছরের অভ্যাস। বোঝাই যাচ্ছে কতটা ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন। পুরো রমনা পার্ক এক চক্কর দিতে সময় লাগে ৩২ মিনিট। যদিও কয়েক মাস ধরে সকালে নিয়ম করে প্রতিদিন হাঁটতে যেতে পারছেন না। কিন্তু ঘুম থেকে সকালেই উঠে পড়েন। যেদিন হাঁটতে যান, বাসায় ফিরেই ঘণ্টা দেড়েক আবার ঘুমিয়ে নেন। উঠে নাশতার টেবিলে। এরই ফাঁকে বসে যান প্রথম আলোর সুডোকু ও ডেইলি স্টার পত্রিকার ক্রসওয়ার্ড মেলাতে। যাঁকে নিয়ে এত কথা, তিনি অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী। প্রকৌশলী, শিক্ষক, পরামর্শক, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা—নানা পরিচয়ে পরিচিত সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট)। বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য।
ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডের বাসায় আলাপচারিতায় জানালেন, ‘সকালের চা হাতে নিয়ে তিনটি পত্রিকার শিরোনামগুলো পড়ি। টিভিতে শুনতে থাকি সকালের খবর। কখনো কখনো বিভিন্ন চ্যানেলে সরাসরি গানের অনুষ্ঠান হয়। সেসবও দেখি। একই সঙ্গে চলতে থাকে এসব।’ এরপর গোসল শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বেরিয়ে পড়েন।
প্রতিদিন সুডোকু মেলাতেনপ্রতিদিন সুডোকু মেলাতেনবাড়িতে সাধারণত খদ্দরের পাঞ্জাবি পরেন। তবে ঈদ বা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে সাদা কাপড়ে সাদা সুতার এমব্রয়ডারি করা পাঞ্জাবি বেছে নেন। গরমের সময় নীলের বিভিন্ন শেডের সিল্কের হাওয়াই শার্ট বা স্ট্রাইপের শার্টই পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। শীতে সাদা স্ট্রাইপের শার্ট পরেন। এর ওপরে চাপিয়ে নেন কখনো হ্যারিস টুইডের জ্যাকেট, কখনো গাঢ় নীল ব্লেজার। ব্লেজারের সঙ্গে টাই পরেন। আনুষ্ঠানিক আয়োজনে পরেন স্যুট।
বই তাঁর সবসময়ের বন্ধুবই তাঁর সবসময়ের বন্ধুমজার ব্যাপার হলো, গত ১৫ বছরে তিনি নিজের জন্য কোনো শার্ট কেনেননি। সবই উপহার পেয়েছেন। জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, ‘পোশাক নিয়ে অতো ভাবি না। বিশেষ কোনো ব্র্যান্ডের প্রতিও দুর্বলতা নেই। তবে ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানিয়ে যায় এমন পোশাকই বেছে নিই। কোনো কিছুতেই বাহুল্য পছন্দ করি না। যতটুকু দরকার ঠিক ততটুকু কেনাকাটা করি।’ পায়ে যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে, তাই স্যান্ডেল সু-ই বেশির ভাগ সময় পরেন।
ই-মেইল চেক করছেনই-মেইল চেক করছেনকোনো মিটিং না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুপুরে বাসায় আসেন। খাবার খেয়ে একটু ঘুমান। এরপর আবার যান বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর মিটিং বা সেমিনার থাকলে তার জন্য আগেই নেন প্রস্তুতি। কাজের ফাঁকে আরও দু-তিনটি পত্রিকা পড়েন। সন্ধ্যার পরে কোনো মিটিং বা দাওয়াত না থাকলে বাসায় চলে আসেন। বসে যান সকালের পত্রিকাগুলো নিয়ে। দিনে সাত আটটা পত্রিকা পড়া হয় তাঁর। এবার খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সব খবর পড়েন। এর মধ্যে টিভিতে রাতের খবর শোনেন। ‘রাতের খাবার খেয়ে আবার কাজ নিয়ে বসি। নিজের পড়ার ঘরে ই-মেইল দেখি। দিনের যে কাজগুলো বাকি থাকে, সেগুলো করে ফেলি। পরদিনের কাজের জন্য প্রস্তুতি নিই। এরপর স্কাইপে নাতির সঙ্গে কথা বলার জন্য অপেক্ষা করি। ওর জন্য রাত ১২টা পর্যন্ত জেগে থাকি।’
সংগ্রহে পৃথিবীর সুউচ্চ স্থাপনার স্মারকসংগ্রহে পৃথিবীর সুউচ্চ স্থাপনার স্মারকবিছানার পাশে বই থাকে। জামিলুর রেজা চৌধুরীর পড়ার ঘর দেখলে বোঝাই যায় তাঁর সঙ্গে বইয়ের সখ্য কতখানি। তবুও তাঁর আক্ষেপ নানা ব্যস্ততার কারণে আজকাল তেমন একটা বই-ম্যাগাজিন পড়তে পারছেন না। অনেক বই জমে গেছে পড়ার জন্য। তবে দ্য ইকোনমিস্ট পড়েন নিয়মিতই।
গরমে পরেন এমন পোশাকগরমে পরেন এমন পোশাকএকটা সময়ে উত্তম-সুচিত্রার সব সিনেমা দেখতেন। পথে হলো দেরিশাপমোচনসাগরিকা তাঁর প্রিয় সিনেমা। রবীন্দ্রসংগীত খুব প্রিয় জামিলুর রেজা চৌধুরীর। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের গান ভালো লাগে তাঁর কাছে। বেড়াতে খুব পছন্দ করেন। নিজের দেশের বাইরে সুইজারল্যান্ড তাঁর প্রিয় জায়গা। সেখানকার পাহাড় ও হ্রদ তাঁকে টানে। কোথাও বেড়াতে গেলে পৃথিবীর সুউচ্চ ভবনগুলোর ছোট ছোট স্মারক কেনেন। আইপ্যাড, কিন্ডেল থাকলেও সব সময়ের সঙ্গী ল্যাপটপ ও মুঠোফোন। (পুনর্মুদ্রিত)