Wednesday, December 23, 2020

রাজধানীর বাইরে হবে ৪টি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল

 


রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকার আশপাশে আরও চারটি বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও মো. আতিকুল ইসলাম। তারা বলেছেন, রাজধানীতে যাতে আন্তঃজেলা বাসগুলো প্রবেশ না করে ও সেখানে শুধু সিটি সার্ভিসগুলো চলে সেই চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

বুধবার সকালে ঢাকার অদূরে সাভারের ভাটুলিয়া ও বিরুলিয়া এলাকায় জমি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন দুই মেয়র। 

রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো ও যানজট নিরসনে গঠিত বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির কার্যক্রম বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই পরিদর্শন করেন তারা।

পরিদর্শনকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণে ১০টি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে।  সেখান থেকে চারটি স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে।  স্থান চারটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে বলে জানান মেয়র তাপস। 

ডিএসসিসির মেয়র বলেন, প্রথমে আমরা ভাটুলিয়া বিরুলিয়া এলাকা পরিদর্শন করলাম। পরে হেমায়েতপুরে আরেকটি জায়গা পরিদর্শনে যাব। পরবর্তী সময়ে কাঁচপুর ও কেরানীগঞ্জে নির্ধারণ করা দুটি জায়গায় যাব। এসব জায়গা দেখে আগামী জানুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় সভায় সিদ্ধান্ত নেব। এরপর সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে পাঠাব।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ঘাটারচর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত রুটে আগে ১৬০টি বাস ২৯টির মত কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হত।  প্রতিযোগিতা করে তারা সড়কে বাস চালাত। আমরা সেটি একটি কোম্পানির মাধ্যমে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছি।  

তিনি বলেন, শহরের বাস শহরের ভেতর চলবে। বিভিন্ন জেলার বাস ঢাকার আশপাশে নির্ধারিত বাস টার্মিনালে এসে থামবে। এতে শহরের মধ্যে বাস প্রতিযোগিতা করে চালানো বন্ধ হবে।

গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল সিটি টার্মিনাল হিসেবে পরিচালিত হবে বলে জানান দুই মেয়র। 
 

 

Monday, September 28, 2020

‘নদী নেবে!’ , বিশ্ব নদী দিবস-২০২০ উপলক্ষে বিআইডব্লিউটিএর সহযোগিতায় রোববার দেশের চারটি নদীবন্দরে আলোকচিত্রী কাকলী প্রধানের ছবিতে শুরু হয়েছে বিশেষ প্রদর্শনী ‘নদী নেবে!’। এর আয়োজক শিশু সংগঠন ‘ইকরিমিকরি’। ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

 

ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালসহ দেশের চারটি নদীবন্দরে রোববার থেকে চলছে বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘নদী নেবে!’। বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে সংবাদ আলোকচিত্রী কাকলী প্রধানের একশ' ছবি স্থান পেয়েছে এই প্রদর্শনীতে। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি















Saturday, September 12, 2020

কুয়াকাটা সৈকতে মেঘবিকেল

 


ছবি-কুয়াকাটা সৈকতে মেঘবিকেল--8044

কুয়ায়াটা সমুদ্র সৈকত থেকে ছবিগুলো তুলেছেন কালের কণ্ঠের আঞ্চলিক প্রতিনিধি (পিরোজপুর) দেবদাস মজুমদার।

ছবি-কুয়াকাটা সৈকতে মেঘবিকেল--8045

কুয়ায়াটা সমুদ্র সৈকত থেকে ছবিগুলো তুলেছেন কালের কণ্ঠের আঞ্চলিক প্রতিনিধি (পিরোজপুর) দেবদাস মজুমদার।

ছবি-কুয়াকাটা সৈকতে মেঘবিকেল--8046

কুয়ায়াটা সমুদ্র সৈকত থেকে ছবিগুলো তুলেছেন কালের কণ্ঠের আঞ্চলিক প্রতিনিধি (পিরোজপুর) দেবদাস মজুমদার।

ছবি-কুয়াকাটা সৈকতে মেঘবিকেল--8047

কুয়ায়াটা সমুদ্র সৈকত থেকে ছবিগুলো তুলেছেন কালের কণ্ঠের আঞ্চলিক প্রতিনিধি (পিরোজপুর) দেবদাস মজুমদার।

ছবি-কুয়াকাটা সৈকতে মেঘবিকেল--8048

কুয়ায়াটা সমুদ্র সৈকত থেকে ছবিগুলো তুলেছেন কালের কণ্ঠের আঞ্চলিক প্রতিনিধি (পিরোজপুর) দেবদাস মজুমদার।

ছবি-কুয়াকাটা সৈকতে মেঘবিকেল--8049

কুয়ায়াটা সমুদ্র সৈকত থেকে ছবিগুলো তুলেছেন কালের কণ্ঠের আঞ্চলিক প্রতিনিধি (পিরোজপুর) দেবদাস মজুমদার।

ছবি-কুয়াকাটা সৈকতে মেঘবিকেল--8050

কুয়ায়াটা সমুদ্র সৈকত থেকে ছবিগুলো তুলেছেন কালের কণ্ঠের আঞ্চলিক প্রতিনিধি (পিরোজপুর) দেবদাস মজুমদার।

ছবি-কুয়াকাটা সৈকতে মেঘবিকেল--8051

কুয়ায়াটা সমুদ্র সৈকত থেকে ছবিগুলো তুলেছেন কালের কণ্ঠের আঞ্চলিক প্রতিনিধি (পিরোজপুর) দেবদাস মজুমদার।

ছবি-কুয়াকাটা সৈকতে মেঘবিকেল--8052

কুয়ায়াটা সমুদ্র সৈকত থেকে ছবিগুলো তুলেছেন কালের কণ্ঠের আঞ্চলিক প্রতিনিধি (পিরোজপুর) দেবদাস মজুমদার।

ছবি-কুয়াকাটা সৈকতে মেঘবিকেল--8053

কুয়ায়াটা সমুদ্র সৈকত থেকে ছবিগুলো তুলেছেন কালের কণ্ঠের আঞ্চলিক প্রতিনিধি (পিরোজপুর) দেবদাস মজুমদার।

ছবি-কুয়াকাটা সৈকতে মেঘবিকেল--8054

কুয়ায়াটা সমুদ্র সৈকত থেকে ছবিগুলো তুলেছেন কালের কণ্ঠের আঞ্চলিক প্রতিনিধি (পিরোজপুর) দেবদাস মজুমদার।

ছবি-কুয়াকাটা সৈকতে মেঘবিকেল--8055

কুয়ায়াটা সমুদ্র সৈকত থেকে ছবিগুলো তুলেছেন কালের কণ্ঠের আঞ্চলিক প্রতিনিধি (পিরোজপুর) দেবদাস মজুমদার।

ছবি-কুয়াকাটা সৈকতে মেঘবিকেল--8056

কুয়ায়াটা সমুদ্র সৈকত থেকে ছবিগুলো তুলেছেন কালের কণ্ঠের আঞ্চলিক প্রতিনিধি (পিরোজপুর) দেবদাস মজুমদার।

ছবি-কুয়াকাটা সৈকতে মেঘবিকেল--8057

কুয়ায়াটা সমুদ্র সৈকত থেকে ছবিগুলো তুলেছেন কালের কণ্ঠের আঞ্চলিক প্রতিনিধি (পিরোজপুর) দেবদাস মজুমদার।

ছবি-কুয়াকাটা সৈকতে মেঘবিকেল--8058

কুয়ায়াটা সমুদ্র সৈকত থেকে ছবিগুলো তুলেছেন কালের কণ্ঠের আঞ্চলিক প্রতিনিধি (পিরোজপুর) দেবদাস মজুমদার।

ছবি-কুয়াকাটা সৈকতে মেঘবিকেল--8059

কুয়ায়াটা সমুদ্র সৈকত থেকে ছবিগুলো তুলেছেন কালের কণ্ঠের আঞ্চলিক প্রতিনিধি (পিরোজপুর) দেবদাস মজুমদার।

ছবি-কুয়াকাটা সৈকতে মেঘবিকেল--8060

কুয়ায়াটা সমুদ্র সৈকত থেকে ছবিগুলো তুলেছেন কালের কণ্ঠের আঞ্চলিক প্রতিনিধি (পিরোজপুর) দেবদাস মজুমদার।

ছবি-কুয়াকাটা সৈকতে মেঘবিকেল--8061

কুয়ায়াটা সমুদ্র সৈকত থেকে ছবিগুলো তুলেছেন কালের কণ্ঠের আঞ্চলিক প্রতিনিধি (পিরোজপুর) দেবদাস মজুমদার।

ছবি-কুয়াকাটা সৈকতে মেঘবিকেল--8062

কুয়ায়াটা সমুদ্র সৈকত থেকে ছবিগুলো তুলেছেন কালের কণ্ঠের আঞ্চলিক প্রতিনিধি (পিরোজপুর) দেবদাস মজুমদার।

ছবি-কুয়াকাটা সৈকতে মেঘবিকেল--8063

কুয়ায়াটা সমুদ্র সৈকত থেকে ছবিগুলো তুলেছেন কালের কণ্ঠের আঞ্চলিক প্রতিনিধি (পিরোজপুর) দেবদাস মজুমদার।

Friday, September 11, 2020

ফিরে আসা জিনিয়া

               এক সপ্তাহ পর আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দেখা মিলল শিশু জিনিয়ার। শুক্রবার মায়ের চুলের যত্ন নিচ্ছিল সে। টিএসসি এলাকায় ফুল বিক্রি করত জিনিয়া। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটক থেকে নিখোঁজ হওয়া জিনিয়াকে সম্প্রতি উদ্ধার করে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি                                                                          

            এক সপ্তাহ পর আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দেখা মিলল শিশু জিনিয়ার। শুক্রবার মায়ের চুলের যত্ন নিচ্ছিল সে। টিএসসি এলাকায় ফুল বিক্রি করত জিনিয়া। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটক থেকে নিখোঁজ হওয়া জিনিয়াকে সম্প্রতি উদ্ধার করে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি
     
 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটক থেকে নিখোঁজ হওয়া জিনিয়াকে উদ্ধার করে মা সেনুরা বেগমের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিক্রির জন্য ফুল নিয়ে আবার তার পরিচিত জায়গায় ফিরেছে নয় বছরের জিনিয়া। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি


                                                                                                                 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটক থেকে নিখোঁজ হওয়া জিনিয়াকে উদ্ধার করে মা সেনুরা বেগমের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিক্রির জন্য ফুল নিয়ে আবার তার পরিচিত জায়গায় ফিরেছে নয় বছরের জিনিয়া। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি


                 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটক থেকে নিখোঁজ হওয়া জিনিয়াকে উদ্ধার করে মা সেনুরা বেগমের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিক্রির জন্য ফুল নিয়ে আবার তার পরিচিত জায়গায় ফিরেছে নয় বছরের জিনিয়া। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি 


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটক থেকে নিখোঁজ হওয়া জিনিয়াকে উদ্ধার করে মা সেনুরা বেগমের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিক্রির জন্য ফুল নিয়ে আবার তার পরিচিত জায়গায় ফিরেছে নয় বছরের জিনিয়া। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

 

               অল্প কিছুদিনের জন্য নিজের ঠিকানা হারিয়ে ফেলেছিল নয় বছরের শিশু জিনিয়া। নারায়ণগঞ্জ থেকে উদ্ধারের পর সে আবার ফিরেছে মায়ের কাছে, নিজের পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায়। মায়ের সাথে জিনিয়ার ছবিটি শুক্রবার তোলা। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

                             

অল্প কিছুদিনের জন্য নিজের ঠিকানা হারিয়ে ফেলেছিল নয় বছরের শিশু জিনিয়া। নারায়ণগঞ্জ থেকে উদ্ধারের পর সে আবার ফিরেছে মায়ের কাছে, নিজের পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায়। মায়ের সাথে জিনিয়ার ছবিটি শুক্রবার তোলা। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি                                                                                                                                                                                                                                                                                                                    

bdnews24.com

Sunday, August 16, 2020

মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত ভাইভা প্রশ্ন

 মানি লন্ডারিং বা অর্থশোধন (ইংরেজি: Money laundering) হল একটি অবৈধ অর্থনৈতিক কার্যক্রম। যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের উৎস গোপন করার উদ্দেশ্যে সেই সম্পদের আংশিক বা পূর্ণ অংশ রুপান্তর বা এমন কোন বৈধ জায়গায় বিনিয়োগ করা হয় যাতে করে সেই বিনিয়োগকৃত সম্পদ থেকে অর্জিত আয় বৈধ বলে মনে হয়, তাকে মানি লন্ডারিং বলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকের সক্রিয় সহায়তায় মানি লন্ডারিং কার্যক্রম চলে। মানি লন্ডারিং একটি ফৌজদারী অপরাধ[১]


মানি লন্ডারিং-এর উদ্দেশ্য[সম্পাদনা]

মানি লন্ডারিং-এর প্রধান উদ্দেশ্য দুটি। প্রথমতঃ যদি অবৈধ অর্থনৈতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে আয় হয়ে থাকে তবে সে আয়ের উৎস গোপন করা। যেমন, চোরাচালানের মাধ্যমে উপার্জিত আয় তথা আয়ের সূত্র গোপন করা। দ্বিতীয়তঃ বৈধ অর্থনৈতক কার্যক্রমের মাধ্যমে উপার্জিত আয়ের ওপর প্রদেয় আয়কর ফাঁকি দেয়া।

মানি লন্ডারিং করার প্রক্রিয়া[সম্পাদনা]

মানি লন্ডারিং করার কোন ধরাবাধা নিয়ম নেই। তবে সাধারণত তিনটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানি লন্ডারিং করা হয়ে থাকে।[২]

সংযোজন বা প্লেসমেন্ট[সম্পাদনা]

যখন কোন অপরাধমূলক কর্মকান্ড হতে উপার্জিত অর্থ প্রথমবারের মত অর্থ ব্যাবস্থায় প্রবেশ করানো হয় তাকে সংযোজন বা প্লেসমেন্ট বলে। যেমন- চুরি, ডাকাতি, চোরাচালান বা ঘুষের অর্থ যখন একটি ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয় তখন তাকে সংযোজন বা প্লেসমেন্ট বলে। অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে জমি ক্রয়, বাড়ি বা গাড়ি ক্রয়, শেয়ার ক্রয় ইত্যাদির মাধ্যমেও প্রথমবারের মত অবৈধ অর্থ, অর্থ ব্যাবস্থায় প্রবেশ করানো হয়।

স্তরিকরন বা লেয়ারিং[সম্পাদনা]

এই প্রক্রিয়ায় সংযোজনকৃত অর্থ পর্যায়ক্রমে জটিল লেনদেনের মাধ্যমে বিভিন্ন স্তরে সরানো হয়। এই প্রক্রিয়া অর্থের উৎস গোপন করার কাজে ব্যবহৃত হয়। যেমন একটি ব্যাংক হিসাব থেকে অস্তিত্ববিহীন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর, বিদেশে অর্থ প্রেরণ, ট্রাভেলার্স চেকে রুপান্তর, একটি ব্যাংক হিসাব থেকে অন্যান্ন শাখায় বিভিন্ন নামে অর্থের স্থানান্তর বা জমা দেওয়া।

পূনর্বহাল বা ইন্টিগ্রেশন[সম্পাদনা]

স্তরিকরন সফল হলে পরবর্তীতে অবৈধ অর্থ এমনভাবে ব্যবহৃত হয় যাতে করে মনে হয় এটি বৈধ পন্থায় উপার্জিত। এভাবেই লন্ডারিংকৃত অর্থ অর্থনীতিতে পূনর্বহাল হয়। যেমন অবৈধ অর্থ দিয়ে ক্রয়কৃত জমি বিক্রয় করে পুনরায় সেই অর্থ দিয়ে জমি কেনা বা বাড়ি, গাড়ি, বীমা পলিসি ঘন ঘন বাতিল এবং পূনর্বহাল করা ইত্যাদি।

অঞ্চল অনুযায়ী মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

অধিকাংশ দেশ এবং অঞ্চলে মানি লন্ডারিং একটি ফৌজদারী অপরাধ হিসেবে চিবেচিত। এজন্য বিশ্বের প্রায় সকল দেশ ও অঞ্চল মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে আইন প্রণয়নসহ নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহন করেছে।

বাংলাদেশ[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ সরকার ২০০২ সালে মানি লন্ডারিং আইন প্রণয়ন ও প্রবর্তন করে যার নাম "মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০০২ "। পরবর্তীতে, বাংলাদেশে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও অধ্যাদেশ রহিত করে "মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২" নামে নতুন একটি আইন পাশ হয়। যেহেতু মানি লন্ডারিং কার্যক্রমে মুদ্রা পাচার জড়িত এবং এতে ব্যাংকসমূহের সহায়তা প্রয়োজন, তাই এই আইন প্রয়োগের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংককে দেয়া হয়েছে।[৩] উক্ত আইনে ২৮টি সম্পৃক্ত অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আর্থ ও সম্পত্তি অর্জন বা স্থানান্তরের উদ্দেশে উল্লেখিত সম্পৃক্ত অপরাধ সংগঠন বা এর সাথে জড়িত কার্যক্রম মানিলন্ডারিং হিসেবে বিবেচিত হয়। এই আইনে প্রদত্ত ক্ষমতা ও কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট নামে একটি পৃথক কেন্দ্রীয় সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয় যেটি বাংলাদেশ ব্যাংক দ্বারা পরিচালিত হয়।[৪] উক্ত আইনে, মানিলন্ডারিং অপরাধের শাস্তি রাখা হয়েছে; (১) বেক্তির ক্ষেত্রেঃ অন্যূন ৪ (চার) বছর এবং অনধিক ১২ (বার) বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির দ্বিগুন মূল্যের সমপরিমাণ বা ১০ (দশ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত, যাহা অধিক, অর্থদণ্ড এবং (২) প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেঃ অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মূল্যের অন্যূন দ্বিগুণ অথবা ২০ (বিশ) লক্ষ টাকা, যাহা অধিক হয়, অর্থদন্ড এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিল করা।[৫]

ভারত[সম্পাদনা]

২০০৩ সালে ভারতীয় সংসদ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধের জন্য "মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০০২" নামে একটি আইন পাশ করে। পরবর্তীতে, আইনটি ২০০৫, ২০০৯ এবং ২০১২ সালে সংশোধিত হয়।[৬][৭]

ইউরোপীয় ইউনিয়ন[সম্পাদনা]

২০১৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসবে "চতুর্থ অ্যান্টি মানি লন্ডারিংয়ের নির্দেশিকা বা এএমএলড IV )" প্রবর্তন করে।[৮] ইউ ভুক্ত দেশসমূহ এই নিরদেশিকা অনুসরন করে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।

যুক্তরাজ্য[সম্পাদনা]

যুক্তরাজ্যে মানি লন্ডারিং এবং সন্ত্রাসবাদী তহবিল প্রতিরোধের জন্য পাঁচটি প্রাথমিক আইন রয়েছে যেগুলো দ্বারা এই অপরাধের মামলা পরিচালিত এবং বিচার হয়।[৯] আইনগুলো হচ্ছেঃ

  • সন্ত্রাসবাদ আইন ২০০০
  • সন্ত্রাস দমন, অপরাধ ও সুরক্ষা আইন ২০০১
  • প্রসিড'স অব ক্রাইম অ্যাক্ট ২০০২
  • গুরুতর সংগঠিত অপরাধ ও পুলিশ আইন ২০০৫
  • নিষেধাজ্ঞা এবং অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং আইন ২০১৮

যুক্তরাষ্ট্র[সম্পাদনা]

যুক্তরাষ্ট্রে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধের জন্য নেয়া ব্যবস্থাসমূহ সাধারণত

Friday, August 7, 2020

নবাবগঞ্জের দৃশ্যপটকে পাল্টে দিয়েছে যে গ্রাম-

গ্রামের নাম বলমন্তচর। নিকটবর্তী গ্রামের নাম আলগীচর ও যন্ত্রাইল। এই দুটি গ্রাম সুপরিচিত হলেও বর্তমান  সময়ে সামনে চলে আসছে বলমন্তচরের নাম। ইছামতি নদীর কোল ঘেষে গড়ে উঠা বেশ কয়েকটি  দৃষ্টিনন্দিত অবকাঠামো নির্মাণের জন্য। ৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বেশ কিছু তরুন যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। কালের বির্বতনে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়ে যায়।  এক সময় ইছামতি নদীতে একমাত্র লঞ্চের মাধ্যমে ঢাকা আসা যাওয়া করা হতো। সেই সময়  লঞ্চ থেকে বলমন্তচর গ্রামটিকে দেখা যেতো। সরাসরি যোগাযোগের পথ ছিলো না। ইছামতি পারাপার হওয়ার জন্য নৌকাই ছিলো ভরসা। সেই সময় ক্লাব, মাঠ, মসজিদ কবরস্থান ছিলো। কিন্ত  অবকাঠামোগত কোন উন্নয়ন ছিলো না। পালাক্রমে পরিবর্তন আসতে শুরু করলে বলমন্তচর গ্রামের লোকজন দীর্ঘ মেয়াদী পরিবর্তনে নজর দেন। সেই সময় মসজিদ, মাঠ এবং কবরস্থান নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহন করতে থাকেন। ধীরে ধীরে গত ১০ বছরের মধ্যেই বাস্তবায়ন করে এখন সকলের দৃষ্টিতে চলে আসেন।এখন  আশেপাশের উপজেলার লোকজন গাড়ী থেকেই ইছামতি নদীতে গড়ে উঠা গ্রামটি দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়ে যান।  ইছামতি নদীর নাব্যতা এবং পরিচ্ছন্ন রাখার সর্বপ্রথম ডাক এই গ্রাম থেকেই দেওয়া হয়। পালাক্রমে এই ডাক এখন পুরো ৫টি উপজেলায়ই ছড়িয়ে পড়ছে।  যদি কোন দিন  আবার ইছামতি নদীতে লঞ্চ চলাচল করে তাহলে যাত্রীরা এই প্রাকৃতিক দৃশ্যের সাথে এই রকম দৃষ্টিনন্দিত দৃশ্য দেখে আকৃষ্ট না হয়ে পারবেন না। গতকাল গ্রামটির উপর আমার একটি লেখা আগামীর সংবাদ.কম এবং ৩৯নিউজ.কম এর ছাপা হয়েছে। কিন্তু পত্রিকায় এতো নয়নাভিরাম দৃশ্য তুলে ধরা সম্ভবপর হয়ে উঠেনি বিধায় পাঠকদের সুবিধার্থে আজ গ্রামের আরও কিছু ছবি তুলে ধরা হলো।

আগামীসংবাদ.কমঃ https://dailyagamirsongbad.com/news/13621/

৩৯নিউজ.কম ঃ http://news39.net/%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%87-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a7%87-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%96%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%87 পাঠকদের জানার লক্ষ্যে তুলে ধরছি অবকাঠামোসমূহঃ  ছবিঃ বলমন্তচর গ্রামের ছবি। এই দৃশ্য থেকে পথিক আজ থমকে দাঁড়ায়। ৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ের তরুন সমাজের বিশাল একটি অংশ। একতা এবং সুষ্ঠ পরিকল্পনা গ্রামটিকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করছে। এটি বলমন্তচর কবরস্থানের প্রবেশ পথ। যেখানে মহান মুক্তিযুদ্ধাদের জন্য কবরস্থান সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।।

 
ছবিঃ কবরস্থানের প্রবেশ পথ।  আজ থেকে শত বছর পরে হয়তো এই দৃশ্য দেখে আধুনিকতাকেই খুঁজে পাবেনঃ 
ছবিঃ খেলাধূলায়ও পিছিয়ে নেই গ্রামটি। উপজেলার ভাইস- চেয়্যারম্যান জনাব  তাবির হোসেন পাভেল  প্রবীণ খেলোয়াড়দের সাথে পরিচিত হচ্ছেন। উল্লেখ্য জনাব পাভেল এর গ্রামের নামই বলমন্তচর।   
ছবিঃ উপজেলার সম্মানীত চেয্যারম্যনা জনাব নাসির উদ্দিন আহামেদ ঝিলু- ক্লাবে খেলার সামগ্রী উপহার দিচ্ছেন।ইছামতি পার ঘেষেই সকল প্রতিষ্ঠানগুলো দাঁড়িয়ে রয়েছে।  ইছামতিকে সাক্ষী হিসাবে মেনে নিয়েছেন। মসজিদ, মিনার, খেলার মাঠ, প্রাথমিক বিদ্যালয়, ক্লাবঘর এবং নজর কাড়া কবরস্থান দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন সকলেই। 
ছবিঃ বলমন্তচর জামে মসজিদ-দূর থেকে মুগ্ধ হয়ে যায় দৃশ্য দেখে।
ছবিঃ মহাকবি কায়কোবাদের আজানের ধ্বনি শুনতে পাওযা যায় এই মিনার থেকে।
ইছামতির নদীঃ কালের সাক্ষী হয়ে নদী পারাপার করে যাচ্ছেন গোবিন্দ ( সকলেই গবরা বলে ডাকেন)। ছোট বেলার সেই নৌকার মাঝি আজও নদী পারাপার করে যাচ্ছেন। এখন  সে ইতিহাসের ।

ছবিঃ জীবনটা  ইছামতিতেই কাটিযে দিয়ে যাচ্ছেন গবরা মাঝি। আমার স্মৃতিতে যতদূর মনে হয  কমপক্ষে ৫০ বছর বছর যাবৎ নদী পারাপার করে যাচ্ছেন। সেই সময়ে বাগমারাতে নৌকা পারাপার করতেন। বর্তমানে বাগমারাতে ব্রীজ হওয়াতে গবরা এখন সূরগঞ্জ- বলমন্তচরে পারাপার করে যাচ্ছেন।


ছবিঃ মাদকের গ্রাস থেকে যুব সমাজকে রক্ষায় খেলাধূলার বিকল্প নেই। বলমন্তচর স্পোর্টিং ক্লাব অবদান রেখে চলছেন। বর্ষা মৌসুমে এক অপরুপ দৃশ্য বিরাজ করে ইছামতি নদীতে। ভরপুর বর্ষায় নৌকায় করে ঘুরে বেড়ান অনেকেই। অনেক বৃক্ষ, লতা পাতা হেলে পানিতে দুল খায়। পানিতে হেলে পড়া একটি ফুল গাছ বন্ধুর নজড়  এড়াতে পারেনি। ছবিতেঃ ইছামতিতে হেলে পড়া ফুলের গাছ- ইছামতিকে আরও আকর্ষনীয় করে তুলছে।
যে কোন কাজ করার পূর্বে পরিকল্পনার দরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী অবকাটামো উন্নয়ন করা হলে এমন ফল পাওয়া যায়- বলমন্তচর গ্রাম সেটি করে দেখিয়ে দিয়েছেন।
ছবিঃ নদী, নৌকা এবং প্রানের বলমন্তচর গ্রাম- দূর থেকে দেখা।কবর- যে পথ অনন্ত অসীম। কিয়মত পর্যন্ত যেখানে থাকতে হবে প্রত্যেক মানুষকে। তাই কবরস্থানে অনেকেই অনুদান রাখছেন। পরকালের শান্তির জন্য।প্রানের ইছামতি নদীঃ যাকে  বাঁচাতে আমাদের এতো শ্রম।
ছবিঃ নবাবগঞ্জের বক্ষে বয়ে চলা ইছামতি নদী।
 
 
 
মৃত্যু এবং অতঃপর কবর। সেই কবরস্থানের সাজানো কবরগুলো দেখুন

ছবিঃ কবরের প্রবেশ পথ- ভিতরের দৃশ্য। এটি একটি পরিচ্ছন্ন কবরস্থান- যা সচারচর দেখা যায় না।
  
ছবিঃ কবরের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রায় ৮৪ শতাংশ জমির উপর নির্মিত বলমন্তচর কবরস্থান।
 
 
 
 মসজিদের পাশেই কবরস্থানঃ
 
ছবিঃ বলমন্তচর কবরস্থানের ভিতরের দৃশ্য। “ তোমার সমাধী ফুলে ফুলে ঢাকা - কে বলে আজ তুমি নেই- তুমি আছো মন বলে তাই।
 
গ্রামকে বদলে দিয়েছে- বলমন্তচর কবরস্থান।

Wednesday, July 29, 2020

সুজাপুর জামে মসজিদ ও কবরস্থান-লং জার্নি।


  ্     এই জনপদের অন্যতম প্রাচীন মসজিদ হলো সুজাপুর জামে মসজিদ। সুজাপুর মসজিদের পার্শেই গড়ে উঠা সুজাপুর কবরস্থান- এটিও অনেক পুরনো।  কথিত আছে যে,  যে স্থানে আল্লাহর ঘর নির্মান করা হয়েছে- প্রথম দিকে এখানে খেলার মাঠ ছিলো।   পরবর্তীতে এখানে মসজিদ ও কবরস্থান স্থাপন করা হয়। এই মসজিদ ও কবরস্থান একদিনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।  গ্রামের মুরুব্বীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল  এই মসজিদ ও কবরস্থান। এই গ্রামের মুরুব্বীগণ , যুবক শ্রেনীসহ সকল  বয়সের লোকজন আল্লাহর  ঘর মসজিদকে সহযোগীতা করে আসছেন। আজ মসজিদ কবরস্থান ও ঈদ গাও পাশাপাশি হওয়াতে এর সৌন্দর্য এখন অনেককেই আকৃষ্ট করে তুলছে। আমাদের ঈদগাও এখনো তরুদের অহংকারের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তরুনরা ঈদের নামাজ শেষে সকলকে নিয়ে নানান ছবি তুলে সারা বিশ্বের বাঙ্গালীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে প্রযুক্তির মাধ্যমে। কাজেই সুজাপুর জামে মসজিদ , সুজাপুর কবরস্থান ও সুজাপুর ঈদগাও এখন উপস্থাপন করার হচ্ছে নানানভাবে। আমরা গর্বিত আল্লাহর ঘর মসজিদ ও অনান্য প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে। 
মসজিদের পাশেই কবরস্থান। খুব কম স্থানেই এই উদাহরন রয়েছে। নিয়মিতভাবে পাঁচওয়াক্ত আজান শুনতে পাওয়া যায়। মুসল্লিগণ নামাজ পড়ে মসজিদ  থেকে বের হলেই কবরস্থানে মৃত ব্যক্তিদের জন্য দোয়া করতে পারছেন। শুধু মসজিদের পাশেই কবরস্থান এই সুবিধার জন্য অন্য গ্রামের মানুষগণ এই গ্রামের মসজিদ ও কবর স্থানের সদস্য হওয়ার জন্য সবসময় আগ্রহী হয়ে  থাকেন।  এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।
 প্রতিনিয়ত মসজিদ থেকে এই গ্রামের মুরুব্বীদের জন্য দোয়া করা হচ্ছে। শত শত গ্রামের মুরুব্বীগণ- কারো বাবা, কারো মা , কারো ভাই বোন আত্বীয় স্বজন  শুয়ে রয়েছেন এই কবরস্থানে। 

নিম্নে মসজিদ কবরস্থান ঈদগাও সহ এর সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের খন্ড চিত্র  ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ধরা হলো।


আমাদের মসজিদঃ




                                               ছবিতে সুজাপুর জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা।


টিনের ঘর থেকে গ্রামবাসীর উদ্যোগে পাকা করা হয় মসজিদটি। বর্তমানে মসজিদের সদস্যের সংখ্যা প্রায় ৩০০( তিন শত) । সকলেই মিলেমিশে “মসজিদ আল্লাহর ঘর” মসজিদকে সহযোগীতা করে আসছেন। মূলত গ্রামের পরিবারগুলোর সহযোগীতায় চলছে এই মসজিদ।  ৮৬ শতাংশ জমি রয়েছেন মসজিদ সংলগ্ন এলাকায়। প্রতিক্ষেত্রেই  এই গ্রামের প্রবাসী ভাইয়েরা এগিয়ে আসছেন- সহযোগীতা করছেন। সরকারের অনুনদানও আমার পাচ্ছি।


আমাদের ঈদ গাওঃ

আমাদের ঈদ গাও এখন ঢাকা জেলার মধ্যেই অন্যতম দৃষ্টি নন্দিত ঈদগাও। মসজিদ, ঈদ গাও মাঠ এবং পাশেই কবরস্থান। সিরামিক ইটের তৈরি এই ঈদ গাওয়ের ছবি এখন ভাইরাল হচ্ছে। ঈদের নামাজের পর তরুদের ছবি সম্বিলিত ঈদগাও এখন সাড়া বিশ্বে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এটি এখন আমাদের গর্বের বিষয়। মাটি ভরাট করে করে সংস্কার করে ঈদ গাও মাঠও এখন অনেকটাই গুছানো এবং পরিপাটি। প্রতি বছর ঈদ উল ফিতর ও ঈদ উল আযহার নামাজ  এই ঈদগাও মাঠে গ্রামের  মুসল্লিগণ আদায় করে থাকেন। শহরের বসবাসরত অনেকেই এখন গ্রামে এসে এই ঈদ গাও এ  এসে নামাজে শরীক হন।




                                                 ছবিতে সুজাপুর  ঈদগাও মাঠে ঈদের নামাজের একাংশ।




আমাদের কবরস্থানঃ

 প্রায়  ৪৮ শতাংশ জমির উপর তৈরি করা হয়েছে সুজাপুর কবরস্থান। এই কবরস্থানে শুয়ে আছেন গ্রামের শত শত  মুরুব্বীগণ। কারো বাবা, কারো মা ,কারো ভাই বোন আত্বীয়স্বজন পাড়া প্রতিবেশী। বিগত দিনে মাটি ভরাট করে করে কবরস্থানকে একটি লেভেলে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। উল্লেখ্য কবরের পাশেই এক সময় বিশাল গর্ত ছিলো সেটি ভরাট করা হয়েছে।   কবরস্থান উচু নীচু থাকায়  পর্যায়ক্রমে মাটি ভরাট করে করে একটি লেভেলে নিয়ে আসাতে একের পর এক কবর দেওয়া যাচ্ছে।

কবরস্থানের পশ্চিম পার্শ্বে  প্রবেশ পথে ওয়াল তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে কবরস্থান দুটি ধাপে বিভক্ত। উপরের অংশের সাথে নীচের অংশ ভরাট করে একটি লেভেলে নিয়ে আসতে পারলে কবরস্থানটির আয়তন বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষৎতে কবরস্থান বাউন্ডারীসহ  প্রবেশ পথে গেট তৈরি করে মহিলা , শিশু এবং পুরুষদের আলাদা করে ডিজাইন করে সংকোলনের ব্যবস্থা করা যাবে।



                                                ছবিতে ঈদগাও এর  পাশেই কবরস্থান। সুজাপুর কবরস্থান।


আমাদের মাদ্রাসা ঘরঃ

আমাদর গ্রামের সন্তান প্রবাসী আফজাল হোসেন এককভাবে এই মাদ্রাসার বিল্ডিংটি নির্মাণ করে দিয়েছেন। এটি এই মসজিদ কবরস্থানের শ্রেষ্ঠ অনুদান। আল্লাপাক তাঁর এই দানকে কবুল করে নিন। মাদ্রাসার ছাত্র ছাত্রীরা প্রতিদিন কোরআন শিক্ষা করে দোয়া করতে থাকেন। মসজিদ ভিত্তিক শিক্ষার ক্লাসও এই বিল্ডিং এ করা হয়। মসজিদের মাদ্রাসার ঘর করা নিয়ে যখন হিমশিম অবস্থায় ছিলাম তখন প্রবাসী আফজাল  হোসেন তাঁর স্বপ্নের কথাটি জানান এবং আমরা তাঁর স্বপ্নকে বাস্তবায়নে  সার্বিকভাবে সহযোগীতা করেছি।



                                    ছবিতে গ্রামের কৃতি সন্তান প্রবাসী আফজাল হোসেন এর নির্মিত মাদ্রাসা বিল্ডিং


মসজিদ হতে কবরস্থানে যাতায়াতের রাস্তাঃ

সম্পূর্ন  সরকারী দুটি প্রতিষ্ঠানে অনুদানে এই রাস্তাটি নির্মান করা হয়। ত্রাণ মন্ত্রনালয় ও ঢাকা জেলা পরিষদের অনুদানে রাস্তাটি নির্মিত হয়।  দীর্ঘদিন এখানে কোন রাস্তা না থাকাতে কবরস্থানে প্রতিনিয়ত লাশ লওয়া কষ্টসাধ্য বিষয় হয়েছিলো।  প্রায় সময়ই বৃষ্টিতে অসুবিধায় পড়তে হতো। সেই বিবেচনায় দ্রুত রাস্তাটি নির্মানের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়।



                            ছবিতে ঢাকা জেলা পরিষদ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগীতায় নির্মিত কবরস্থানের রাস্তা।


কবরস্থানে মাঝে রাস্তা নির্মানঃ

কবরস্থানে যাতায়াতের সুবিধার জন্য মাঝামাঝি দিয়ে শুরু থেকে কবরস্থানের শেষ মাথা পর্যন্ত  ইটের তৈরি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।  সহজেই খবরস্থানের ভিতরে যে কোন কববেরর পাশে সহজেই যাওয়া যায়।



আমাদের মসজিদের পুকুরঃ






                                                     ছবিতে মসজিদের পুকুর


কচুরীপানা এবং জঙ্গলে  ভরপুর -এটি ছিলো এক সময় পরিত্যাক্ত অবস্থায়। সম্পূর্ন পরিস্কার করে এটির চর্তপাশ্বে  চলাচলের রাস্তা তৈরি করা হয়। বর্তমানে এই পুকুরের পানি অনেকেই ব্যবহার করছেন। পুকুরের   চারি পার্শ্বে মাটি ভরাট করে করে রাস্তা নির্মান করা হয়। অথচ এই পুকুরটি ভরাট করার জন্য অনেকেই মতামত দিয়েছিলেন। কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে একটি পুকুর থাকা জরুরী। সেই বিবেচনায় পুকুরকে না হারিয়ে সংস্কার করে আয়ের একটি উৎস হিসাবে বিচেবনা করা হচ্ছে।



মসজিদের চারি পাশে মাটি ভরাটঃ

আমাদের মসজিদের চর্তুরপাশ্বঃ মসজিদের চারিদিকে পর্যায়ক্রমে মাটি ভরাট করে করে এর আয়তন বৃদ্ধি করা হয়েছে। মসজিদের আয়তন এখন পূর্বের চেয়ে বৃদ্ধি  পেয়েছে।






                                                 ছবিতে মসজিদ ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম চলছে।



আমাদের মসজিদে  মসজিদভিত্তিক শিশ ও গণশিক্ষা কার্যৃক্রম চালু হয়েছে।  ইসলামী  ফাউন্ডেশন নিয়মিত যোগাগের মাধ্যমে এই অনুমোদন লওয়া হয়।
আর্থ সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড শিক্ষা বিস্তারের কাজে মসজিদের ইমাম সাহেবদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে সরকার ১৯৯৩ সালে মসজিদ ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় প্রাক-প্রাথমিক এবং ঝরে পড়া (ড্রপ-আউট) কিশোর-কিশোরী অক্ষরজ্ঞানহীন বয়স্কদের জন্য মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে।   নিয়মিতভাবে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।


আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেবের থাকার ব্যবস্থাঃ



বিগত দিনগুলোতে  পরিবার নিয়ে মসজিদের ইমাম সাবেবকে      গ্রামের মানুষের     বাড়ীতে থাকার ব্যবস্থা  করা হতো । যার ফলে ইমাম সাহেবদের  প্রাইভেসী বলে কিছু ছিলো না। নানান ধরনের অভিযোগ চলে আসলে- আলাদা থাকার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ গ্রহন করা হয় ।  মসজিদের পাশেই ২৪ শতাংশ জায়গা  মাটি ভরাট করে   পরিবার পরিজন বসবাসের জন্য যা যা প্রয়োজন সকল সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ একজন মসজিদের ইমাম সাবেক তাঁর মর্যদার জায়গা রাখা হয়েছে।  যার ফলে  গ্রামের মানুষের সাথে প্রয়োজন ছাড়্রা মিশতে পারছেন না। বিগত দিনের অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে যে সকলের সাথে মিশতে গিয়ে সকলের মন রক্ষা করতে গিয়ে অনেক ঝামেলা পুহাতে হতো ইমাম সাহেবকে।


বাড়ী বাড়ী থেকে টিফিনকারী বহন করে খাবার নিয়ে আসার কালচার বিলুপ্তিঃ

বহুদিনের প্রচলন বাড়ী বাড়ী থেকে খাবার নিয়ে আসা- এটি দেখতেও ভাল দেখা যেতো না । ইহাছাড়া অনেক পরিবারে একদিন খাওয়াত প্রায় ৫০০/১০০০ লেগে যেতো। সেই দিক বিবেচনায় খাবার বিষয়টি  হুজুরের পরিবারের সাথে সংযুক্ত করা হয়। মাসিক চাঁদার সাথে  বাড়তি  কিছু টাকা যুক্ত করে  এই সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। বর্তমানে খাবার নিয়ে আর কোন সমস্যা পরিলক্ষিত হচ্ছে না বললেই চলে।



রোজার মাসে মাস ব্যাপী  ইফতারের ব্যবস্থাঃ

স্বল্প পরিসর  হলেও এটি চালু করা হয়েছে। ৪০/৫০টি পরিবারকে বাছাই করে একদনি ২০/২৫ মানুষের ইফতারের ব্যবস্থা করা হয়। সাথে মসজিদের কিছু যুক্ত করে প্রতিদিনের ইফতারের একটি ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। প্রথম বছর একটু অসুবিধা হলেও এখন বছর বছর করা হচ্ছে এবং ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

                                       ছবিতে  পবিত্র রমজান মাসের একটি ইফতার পার্টিতে গ্রামের মুসুল্লীগণ


শেরপুর চকে একটি নীচু জমিতে পুকুর খননঃ

মসজিদের একটি জমিকে পুরকুর খনন করা হয়েছে। ফলে প্রতি বছর এটি   বিক্রি করে মসজিদের একটি আয়ের পথ তৈরি করা হয়ছে।


নারায়নপুরের জমি একটি স্থায়ী সমাধানঃ

 এক সময় জমিটির আশা ছেড়েই দেওয়া হয়েছিলো। পরবর্তীতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে প্রশাসনের সহায়তা আমরা মসজিদের ৯ শতাংশ দখলে নিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছি।

মসজিদ ও কবরস্থানের ফান্ড আলাদা করা হয়েছেঃ

কবরস্থানে ব্যাপ্তি দিনকে দিন বৃদ্ধি পাওয়া  এখন এই ফান্ড আলাদা করা হয়েছে। ইহাছাড়া কবরস্থান নিয়মিত সংস্কার করা প্রয়োজন হয়ে থাকে। তাই প্রয়োজনের তাগিদে এটিকে আলাদা করা হয়েছে।

মসজিদের এসির পরিকল্পনা ঃ

যুগের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে এখন এসির সংস্থাপনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এই খাতে ২ লাখ টাকার অনুদান পাওয়া গিয়েছে। আরও অনুদানের বিষয়ে আশ্বস্ত করা হচ্ছে।



মসজিদ ও কবরস্থানের জন্য একটি ওযেব পেইজ তৈরির পরিকল্পনাঃ

মসজিদ কবরস্থান ও এর সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য সেবা সমূহের প্রয়োজনীয় তথ্য সম্বেলিত ওযেব সাইট তৈরির পরিকল্পনা গ্রহন করা হচ্ছে। বিশ্বের যে কোন স্থান থেকে যাহাতে সকল তথ্য সহজেই পেতে পারেন তার উদ্যোগ লওয়া হচ্ছে।




মসজিদ কবরস্থান আয়ের উৎসঃ

অর্থের প্রধান উৎস এর সদস্য পরিবারগুলো এবং প্রবাসী ভাইয়েরা। এরা পাশাপাশি সরকারী অনুদানও রয়েছে।  ইহাছাড়া মসজিদ ও কবরস্থানের গাছ,ফল, পুকুর ও জমি থেকে আয় হয়ে থাকে। ৫টি ধানের জমি ও দুটি পুকুর বিদ্যমান রয়েছে।

আগামী দিনের  চ্যালেঞ্জ ও করণীয়ঃ

মসজিদ আল্লাহর ঘর। এটি নিরাপদে রাখার দায়িত্ব সকলের। কাজেই সকলকে ঐক্য থাকতে হবে। একটি মাষ্টার প্লান করে অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডে মসজিদকে গুরুত্ব দিয়েছেন। সেই সাথে ভবিষ্যৎতে ইমামদের বেতনও সরকার প্রদান করবে। সরকারের কর্মকান্ডের সাথে আমাদেরও সম্পকৃত্ত হতে হবে। কাজেই আগামী দিনগুলোতে আমাদের  আপগ্রেড থাকতে হবে।  মসজিদ ও কবরস্থানে প্রযুক্তির ব্যবহার কাজে লাগাতে হবে। মসজিদের ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য আয়ের পথ বাড়াতে হবে। মসজিদকে  অন্য প্রতিষ্ঠানের সাথে তুলনা না করে আলদা মর্যদার আসনে নিয়ে আসতে হবে। তবেই আল্লাহর ঘরকে সঠিকভাবে পরিচালিত করা যাবে।

আগামী দিনগুলোতে মসজিদ ও কবর স্থানের পরিধী পাবে। সেইজন্য মসজিদ ও কবরস্থানে আলাদা কমিটি গঠন করা হলে দুটি  স্থানের উন্নত হবে।

সম্পাদনায়ঃ রানা ভূঁইয়া,  সুজাপুর জামে মসজিদ ও কবরস্থানের সেক্রেটারী।