ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে মানবদেহে পরীক্ষামূলকভাবে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু করেছে যুক্তরাজ্য। গত বৃহস্পতিবার দুজন স্বেচ্ছাসেবীর শরীরে ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করা হয়। গবেষকরা বলছেন, তাঁরা ভ্যাকসিনটি নিয়ে ‘আত্মবিশ্বাসী’।
পরীক্ষার অংশ হিসেবে অন্তত ৮০০ জনের শরীরে ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করা হবে। এর মধ্যে অর্ধেক স্বেচ্ছাসেবীর শরীরে প্রয়োগ করা হবে ‘করোনাভাইরাস ডিজিস ২০১৯’ (কভিড-১৯)-এর ভ্যাকসিন। বাকিদের দেওয়া হবে অন্য একটি ভ্যাকসিন, যেটি মূলত মেনিনজাইটিস (মস্তিষ্কের প্রদাহজনিত রোগ) থেকে সুরক্ষা দেয়। কিন্তু স্বেচ্ছাসেবীরা জানতে পারবেন না কাকে কোন ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এটি কেবল চিকিৎসকরাই জানতে পারবেন।
প্রথম যে দুজনের শরীরে ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করা হয়েছে, তাদের একজন এলিসা গ্রানাটো। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও একজন বিজ্ঞানী। এ কারণে আমি এই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সহায়তা করতে চাই।’
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল গবেষক তিন মাসের চেষ্টায় ভ্যাকসিনটি তৈরি করেছেন। পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেনার ইনস্টিটিউটের ভ্যাকসিনোলজির অধ্যাপক সারাহ গিলবার্ট। তিনি বলেন, ‘এই ভ্যাকসিনের সফলতার ব্যাপারে ব্যক্তিগতভাবে আমি অনেক আত্মবিশ্বাসী। তবে জনসাধারণের ওপর প্রয়োগের ক্ষেত্রে অবশ্যই এটি পরীক্ষা করে নিতে হবে। সেই সঙ্গে নিশ্চিত হতে হবে যে এটি প্রকৃত অর্থেই করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা দিচ্ছে কি না।’
এই ভ্যাকসিন কিভাবে কাজ করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে গবেষকরা বলছেন, বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অপেক্ষাকৃত দুর্বল। সে ক্ষেত্রে তাদের শরীরে দুটি ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা যায় কি না, সেটি এখন পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে।
এই ভ্যাকসিন কতটা নিরাপদ—এমন প্রশ্নের জবাবে গবেষকরা বলছেন, যাদের শরীরে প্রয়োগ করা হবে, আগামী কয়েক মাস তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। তবে স্বেচ্ছাসেবীদের বলা হয়েছে, ভ্যাকসিনটি প্রয়োগের ফলে প্রথম কয়েক দিন বাহুতে ব্যথা, জ্বর কিংবা মাথা ব্যথার মতো উপসর্গ তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া করোনায় আক্রান্ত হলে ভ্যাকসিনটির কারণে রোগীর পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে, যেমনটা ঘটেছিল প্রাণীর শরীরে সার্সের ভ্যাকসিন প্রয়োগের সময়।
এই ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়েছে সাধারণ সর্দি-কাশির জন্য দায়ী ভাইরাসের দুর্বল একটি সংস্করণ (ভার্সন) থেকে। আর এটি নেওয়া হয়েছে শিম্পাঞ্জির শরীর থেকে। তবে শিম্পাঞ্জির শরীর থেকে নেওয়ার পর এই ভাইরাসে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে, যাতে এটি মানবশরীরে সংক্রমণ ঘটাতে না পারে।
আরেকটি আশার কথা হলো, অক্সফোর্ডের এই দলটি এর আগে একই প্রক্রিয়ায় মার্সের ভ্যাকসিনও তৈরি করেছে, যেটি পরীক্ষায় (ক্লিনিক্যাল) খুবই ফলপ্রসূ প্রমাণিত হয়েছে। সূত্র : বিবিসি।
No comments:
Post a Comment