-
মহিষের গাড়ি বোঝাই বোরো ধান নিয়ে ফিরছেন কৃষক।
কোভিড-১৯ মহামারী পরিস্থিতিতে কৃষিখাতের জন্য সরকারকে চারটি পরামর্শ দিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং-সানেম।
বুধবার সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান এক বিবৃতিতে এ পরামর্শ দিয়েছেন।
>> শস্য তোলার পরে কৃষকরা যাতে ধানের ন্যায্য মূল্য পায়, সেটি
নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে বিভিন্ন সময় দেখা গেছে যে, ফসলের আবাদ হওয়ার পরে
কৃষকরা ফসলের ন্যায্য মূল্য পায় না। মাঝখানে থাকে মধ্যস্বত্বভোগীরা। যখন
ধানের দাম, চালের দাম বাড়ে, সেটার সুবিধা পায় মিল মালিকরা, কৃষকরা কোনো
বাড়তি মূল্য পায় না। যেহেতু করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকটে এখন স্থানীয়
পর্যায়ে প্রশাসন খুবই সক্রিয়, এ জন্য এবার স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায়
সরাসরি কৃষকদের থেকে ন্যায্য মূল্যে ধান কেনার উদ্যোগ নিতে হবে। এ বছর
কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে শস্য ক্রয়ের পরিমাণ অনেক বাড়াতে হবে।
সেক্ষেত্রে মূল্য এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে যাতে কৃষকরা উপকৃত হয় এবং
কৃষকরা যেন এই মূল্য পেতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সরকারি
গুদামগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। তাতেও যদি না হয়, ব্যক্তি খাতে যে
গুদামগুলো আছে, সরকারের উচিত হবে সেগুলোর ভাড়া নেওয়া।সার্বিকভাবে,
এই সংকটের সময়ে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে, কৃষকরা যাতে উপকৃত
হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এই উদ্যোগগুলো নেওয়া হলে খাদ্য নিরাপত্তা
নিশ্চিত হবে বলে মনে করে সানেম্
>>
৪ শতাংশ সুদে কৃষকদের ঋণ দেওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রজ্ঞাপন জারি
করেছে। সানেমের পক্ষ থেকে আমরা মনে করি, কৃষকদের সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া দরকার। এ
কথা আমরা আগেও বলেছি। আমরা জোরালোভাবে এ দাবিটি আবারও তুলে ধরছি। এখন যখন
খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি খুবই জরুরি, কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
কৃষকরা যাতে সুদমুক্ত ঋণ পায় এবং প্রকৃত কৃষকরা, যাদের দরকার, তাদের কাছে
যেন ঋণ পৌঁছে যায়, সে ব্যবস্থা করতে হবে।
>>
শুধু ঋণ দিলে হবে না। আমরা দেখছি যে, এই সংকট ও লকডাউনের কারণে কৃষি
উপকরণের যে সাপ্লাই ব্যবস্থা সেটি বিঘ্নিত হচ্ছে। সুতরাং কৃষকরা যাতে কৃষি
উপকরণ ঠিকমত পায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
>>
বিভিন্ন জায়গায় কৃষি শ্রমিকদের স্বল্পতা দেখা দিচ্ছে, বিশেষ করে লকডাউনের
কারণে কৃষি শ্রমিকদের চলাচল স্থবির হয়ে গেছে। কৃষি উপকরণ এবং কৃষি
শ্রমিকদের এই সমস্যা সমাধান করার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য
মন্ত্রণালয়, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়—এদের সবাইকে একসাথে
কাজ করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন, ব্যবসায়ী এমনকি কৃষি শ্রমিকদের যে
নেটওয়ার্ক আছে, তাদের সাথে একসাথে কাজ করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকদের
স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য হেলথ প্রটোকল তৈরি করে এই বিষয়গুলো
নিশ্চিত করতে হবে।
এবং
No comments:
Post a Comment