Wednesday, April 29, 2020

দুঃসময়ে আশার আলো কৃত্রিম ভেন্টিলেটর উদ্ভাবনের পথে ডা. সৌরভ





রোনাভাইরাসে আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীকে দিতে হয়ে আইসিইউ সাপোর্ট। সেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় ভেন্টিলেটর বা শ্বাসযন্ত্রের। দেশে করোনা রোগী বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই ভেন্টিলেটরের চাহিদাও বাড়ছে। ভেন্টিলেটরের চরম সংকট থাকায় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে করোনাসেবা।

ঠিক এমন দুঃসময়ে আশার আলো দেখাচ্ছেন চট্টগ্রামের তরুণ চিকিৎসক সৌরভ বড়ুয়ার উদ্ভাবিত দেশীয় কৃত্রিম ভেন্টিলেটর। করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীর জরুরি সেবা দিতে তিনি উদ্ভাবন করেছেন দেশীয় প্রযুক্তির এই কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র বা ভেন্টিলেটর। মাত্র ১০-১২ হাজার টাকা খরচ করে এ প্রযুক্তির  মাধ্যমে রোগীকে ভেন্টিলেটর সেবা দেওয়া সম্ভব বলে দাবি করেছেন তিনি।

ভেন্টিলেটর উদ্ভাবনে প্রাথমিক সফলতার দাবি করে ডাক্তার সৌরভ বড়ূয়া এটিকে আরও কার্যকর করতে গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক দিদারুল আলমের সামনে উপস্থাপন করেন। সবদিক থেকে ডা. দিদারুল আলমও প্রাথমিকভাবে এটিকে কার্যকর এবং করোনা রোগীদের জন্য উপযোগী বলেন স্বীকৃতি দেন।

 
ল্যাবরেটরিতে কাজ করছেন ডা. সৌরভ -সমকাল
এ প্রসঙ্গে শিশু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক চৌধুরী চিরঞ্জীব বড়ূয়া বলেন, চিকিৎসক সৌরভের দেশীয় প্রযুক্তিটি প্রাথমিকভাবে সফল বলা যায়। তবে এটিকে ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে আরও দুটি যন্ত্রকে এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। তখনই এটিকে রোগীর সেবার কাজে ব্যবহার করা যাবে।

ডাক্তার সৌরভ সমকালকে বলেন, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নয়, করোনার এ দুঃসময়ে মানুষের উপকারে আসার জন্যই এ উদ্ভাবন। ইউরোপের অনেক দেশে ভেন্টিলেটর সংকটের কারণে অনেক রোগীকেই হেলিকপ্টারে করে এক শহর থেকে অন্য শহরে নিতে হয়েছে। দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী দিন দিন বাড়ছে। যে কোনো সময় ভেন্টিলেটর সংকট তীব্রতর হয়ে উঠতে পারে এবং আক্রান্ত রোগীর স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হতে পারে। সেই চিন্তা থেকেই দুই সপ্তাহ ধরে অনেক পরিশ্রম করে দেশীয় কৃত্রিম ভেন্টিলেটর উদ্ভাবন করেছি। এ প্রযুক্তি কার্যকর হলে দেশে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় রোগীকে ভেন্টিলেটর সেবা দেওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার বাসিন্দা ডাক্তার সৌরভ নগরীর আগ্রাবাদে চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে ২০১৫ সাল থেকে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি এফসিপিএস কোর্স করছেন তিনি। এ হাসপাতাল থেকেই তিনি এমবিসিএস পাস করেছেন।

চট্টগ্রামে সরকারি-বেসরকারি মিলে শতাধিক ভেন্টিলেটর থাকলেও বেসরকারি হাসপাতালের ভেন্টিলেটর সহজেই ব্যবহার করতে পারছেন না করোনা রোগীরা। এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ১০টি ভেন্টিলেটরই চট্টগ্রামের করোনা রোগীদের মূল ভরসা! ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে ভেন্টিলেটর সুবিধা না পেয়ে দুই করোনা রোগীর মৃত্যু ঘটেছে।

দেশীয় প্রযুক্তির ভেন্টিলেটর তৈরিতে চিকিৎসক সৌরভ চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার এফআইটু, রেসফেটরিও, টাইটেলপলিও, পিপ, রেসফেরেটিওসহ বেশ কিছু মেডিকেল যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেছেন। বিশেষজ্ঞরা এ উদ্ভাবনকে কার্যকর মনে করলে প্রযুক্তিটি সরকারের অনুমোদনের জন্য চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জনের কাছে জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন ডা. সৌরভ। সরকার অনুমোদন দিলে প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি করে দেশীয় প্রযুক্তির ভেন্টিলেটর তৈরি করা সম্ভব বলে জানান তিনি।

No comments:

Post a Comment