Thursday, April 23, 2020

করোনামুক্ত হয়ে বাসায় ফিরলেন এমদাদ ও তার পরিবার

দীর্ঘ দুই সপ্তাহ পর করোনা ভাইরাসমুক্ত হয়ে বাসায় ফিরেছেন সাংবাদিক ও নাট্য পরিচালক এমদাদুল হক খান। আজ সন্ধ্যা ৭টায় উত্তরার রিজেন্ট হসপিটাল থেকে রিলিজ পান এমদাদ ও তার পরিবারের সদস্যরা। বেশ কিছুদিন চিকিৎসা শেষে করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ আসার পর আজ তাদের বাসায় যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়। তবে বাসাতে আরও দুই সপ্তাহ কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

‘বাংলাদেশের খবর’ পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার এমদাদুল হক খান জানান, হাসপাতালে ভর্তির পর জ্বর তেমন ছিলো না। কাশি ছিলো। গলা ব্যথা ছিলো। একইভাবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলো তার বড় মেয়ে সুস্মিতা খান এ্যানি ও স্ত্রী রেখা খানম।
একই হাসপাতালে একই রুমে চিকিৎসাধীন ছিলেন তারা। চিকিৎসায় ক্রমেই উন্নতি হচ্ছিলো।

এই অবস্থায় গত ২০শে এপ্রিল এমদাদ ও তার স্ত্রী সন্তানের নমুনা সংগ্রহ করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষায় বুধবার স্ত্রী রেখা খানমের করোনা নেগেটিভ আসে। একইভাবে আজ বিকালে নেগেটিভ আসে এমদাদ ও তার বড় মেয়ে সুস্মিতা খানের। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে এম্বুলেন্সযোগে মালিবাগের বাসায় ফিরেন তারা।

এপ্রিলের শুরু থেকেই গলা ব্যথা, সর্দি, জ্বর ও কাশিতে ভুগছিলেন এমদাদ। জ্বর, কাশির ওষুধ সেবন করেও কাজ হচ্ছিলো না। সন্দেহ হচ্ছিলো তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গত ৪ঠা এপ্রিল থেকে বারবার আইইডিসিআর’র হটলাইনে কল দিয়ে সাড়া পাননি তিনি।

পরে ৯ই এপ্রিল সরাসরি বিএসএমএমইউ-তে গিয়ে টেস্ট করান। পরদিন তাকে ফোনে জানানো হয়েছে যে তিনি করোনা ভাইরাস পজেটিভ। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জানজানি হলে তার পাশে দঁড়ায় টিভি নাটকের পরিচালকদের সংগঠন ‘ডিরেক্টর গিল্ড’। তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে ডিরেক্টর গিল্ড। এম্বুলেন্সযোগে এমদাদ ও তার স্ত্রী এবং দুই সন্তানকে বাসা থেকে নিয়ে ভর্তি করা হয় রিজেন্ট হসপিটালে।

সেখানে ভর্তির পর ১২ই এপ্রিল এমদাদের স্ত্রী ও দুই সন্তানের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ১৪ই এপ্রিল ছোট মেয়ে স্কুলপড়–য়া রুবাইদা খান এষা ছাড়া অন্যদের পজেটিভ আসে। পরদিন থেকে এষাকে বাসায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে থাকেন তিন জন। সেখানে ডা. আবু বকর সিদ্দিকের অধীনে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠেন তারা।

চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন,  হোম কোয়ারেন্টিনে থাকাবস্থায় গরম পানি, আদা, লেবু পানি পান করতে। ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খেতে। সেইসঙ্গে কিছু ওষুধ সেবন করতে দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

বাসায় ফিরে সহযোগিতার জন্য ডিরেক্টর গিল্ডের কার্যনির্বাহী কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এমদাদুল হক খান। সেইসঙ্গে খোঁজখবর নেয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ও ক্রাইম রিপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দকে।

No comments:

Post a Comment