Tuesday, April 28, 2020

কমছে মৃত্যু বাড়ছে সংক্রমণ নতুন করে ৫৪৯ শনাক্ত, মৃত্যু ৩



প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে মৃত্যু কমলেও বেড়েছে শনাক্তের সংখ্যা। আক্রান্ত হিসাবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৫৪৯ জন। ফলে দেশে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে ৬ হাজার ৪৬২। এ ছাড়া সুস্থ হয়েছেন আরও আটজন, এ নিয়ে সুস্থের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩৯-এ। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও তিনজন। এ নিয়ে করোনা মোট ১৫৫ জনের প্রাণ কেড়ে নিল।
গতকাল দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাসসংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ হাজার ৩৩২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫৪ হাজার ৭৩৩টি। নতুন যাদের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে, তার মধ্যে আরও ৫৪৯ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৪৬২ জন। আক্রান্তের মধ্যে মারা গেছেন আরও তিনজন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫৫-এ। নতুন করে যে তিনজন মারা গেছেন তারা সবাই পুরুষ, ঢাকার বাসিন্দা এবং ষাটোর্ধ্ব। এ ছাড়া সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও আটজন। সব মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১৩৯ জন। বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ১১১ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১ হাজার ২৪৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৪৭ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৭৮৫ জন। সারা দেশে আইসোলেশন শয্যা রয়েছে ৯ হাজার ৭৩৮টি। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে আছে ৩ হাজার ৯৪৪টি ও ঢাকার বাইরে ৫ হাজার ৯৯৪টি। বর্তমানে করোনা চিকিৎসার জন্য আইসিইউ শয্যা রয়েছে ৩৪১টি এবং ডায়ালাইসিস ইউনিট আছে ১০২টি। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৩৯২ জনকে। এ পর্যন্ত হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ৭৯৩ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড় পেয়েছেন ৩ হাজার ২৩১ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৭৬ হাজার ৮৪০ জন। দেশের ৬৪ জেলা ও সেখানকার উপজেলায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৬০১টি প্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে তৎক্ষণাৎ ৩০ হাজার ৬৩৫ জনকে কোয়ারেন্টাইন সেবা দেওয়া যাবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকার এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয় বুলেটিনে। প্রায় চার মাস আগে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস এখন গোটা বিশ্বে তা-ব চালাচ্ছে। চীন পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দিয়ে উঠলেও এখন মারাত্মকভাবে ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় পৌনে ৩১ লাখ। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার। তবে সোয়া ৯ লাখের মতো রোগী ইতিমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যুও। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। নিয়েছে আরও নানা পদক্ষেপ। যদিও এরই মধ্যে সীমিত পরিসরে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার কিছু পোশাক কারখানা সীমিত পরিসরে খুলতে শুরু করেছে। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ প্রতিদিন প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যানুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ : করোনার হটস্পট নারায়ণগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৫০ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে; যা জেলাটিতে এক দিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড। এ নিয়ে শিল্পনগর নারায়ণগঞ্জে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪৯-এ। গত ৮ মার্চ নারায়ণগঞ্জে প্রথম করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্তের ঘোষণা আসে। যশোর : ২৪ ঘণ্টায় এ জেলায় নতুন করে আরও ১০ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট ৪৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব শনাক্ত হলো। ঝিনাইদহ : জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় তিন চিকিৎসকসহ আটজন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে চার দিনে ছয় উপজেলায় চার চিকিৎসক নয় স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকের ড্রাইভারসহ ২১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। টাঙ্গাইল : মির্জাপুরে ঢাকাফেরত এক নারীসহ নতুন আরও দুজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। করোনা আক্রান্ত দুই রোগীর আশপাশের ১১০ বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। কুমিল্লা : গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লার দুই উপজেলায় নতুন করে পাঁচজনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মুরাদনগরের এক পরিবারের চারজন এবং তিতাসের একজন রয়েছেন। জেলায় এ পর্যন্ত ৫২ জনের করোনাভাইরাস পজিটিভ পাওয়া গেছে। সুস্থ হয়েছেন পাঁচজন। এদিকে মুরাদনগর উপজেলা থেকে পালিয়ে যাওয়া করোনা আক্রান্ত রোগীর সন্ধান চার দিনেও মেলেনি। ভোলা : ভোলায় আরও দুজন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে ভোলায় মোট চারজন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেল। নতুন আক্তান্ত দুজন ভোলা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিএবিএস রোডের বাসিন্দা। সম্পর্কে তারা বাবা-মেয়ে। বিএবিএস রোড এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। গাজীপুর : ২৪ ঘণ্টায় গাজীপুরে নতুন করে তিনজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, সাংবাদিকসহ ৩২৮ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মুন্সীগঞ্জ : ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও চারজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর আগের দিন শনাক্ত হয় ১৬ জনের। এ নিয়ে মুন্সীগঞ্জে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৯। দুই দিনে নতুন আক্রান্ত ২০ জনই যার যার বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জামালপুর : গত ২৪ ঘণ্টায় এ জেলায় আরও একজন চিকিৎসক, চার স্বাস্থ্যকর্মী, এক পুলিশ সদস্যসহ সাতজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৫১। এর মধ্যে সাত চিকিৎসকসহ ২৩ জনই স্বাস্থ্যকর্মী। কুষ্টিয়া : ঢাকাফেরত করোনা আক্রান্ত এক পুলিশ সদস্যকে বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে খোকসা উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামে একই পরিবারের পাঁচজন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া দৌলতপুর উপজেলায় নতুন তিনজন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। ফরিদপুর : ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় প্রথমবারের মতো তিনজনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে একজন সেবিকাসহ দুই নারী ও একজন পুরুষ। গতকাল ৭৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় মোট ছয়জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। অন্য তিনজনের একজন ফরিদপুর সদর উপজেলা ও দুজন গোপালগঞ্জের বাসিন্দা। নড়াইল : করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নড়াইল জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. মো. আবদুল মোমেন জানান, ২৭ এপ্রিল নড়াইলে সাত চিকিৎসকসহ ১৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া বগুড়া, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাটসহ বিভিন্ন জেলায় গতকাল করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

No comments:

Post a Comment