Tuesday, May 26, 2020

মাছের খাবার বানানো, জাল তৈরি... মাছ চাষে নতুন দিশা দেখিয়ে নীলকান্ত এখন হিরো

1
অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুসারে, আমাদের দেশের ৭০ শতাংশ লোকের জীবিকা চাষবাসের উপর নির্ভরশীল। তাঁদের মধ্যে ৮২ শতাংশই ছোট ও মাঝারি চাষি। এদের মধ্যে অনেকেই উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও জ্ঞানের অভাবে কম খরচে উন্নতমানের চাষ করতে পারেন না। তার উপর আছে প্রকৃতির খামখেয়ালিপনা। এর জেরে রোজগারের ক্ষেত্রে মার খেতে হয় তাঁদের।
১৬2
একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার হিসাবে কাজ করার সময় বিষয়টি নজরে আসে ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা নীলকান্ত মিশ্রের। তার পর তিনি মৎস্যজীবীদের উন্নতমানের চাষের ব্যাপারে অবহিত করার কাজ শুরু করেন। প্রতিষ্ঠা করেন একটি অসরকারি সংস্থা। তাঁর সেই সংস্থার হাত ধরে প্রায় ছ’টি রাজ্যের ২৫ হাজারেরও বেশি মৎস্যজীবীর জীবনে এসেছে পরিবর্তন। কেমন করে এত মৎস্যজীবীর জীবন পাল্টে দিলেন তিনি?
১৬3
নীলকান্তের জন্ম ঝাড়খণ্ডের শিল্পশহর জামশেদপুরে। সংখ্যাতত্ত্বের প্রতি আকর্ষণে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতক হন তিনি। গ্র্যাজুয়েশনের সময় থেকেই সমাজসেবার প্রতি তাঁর আগ্রহ জন্মায়। সেই আগ্রহ থেকেই রাঁচীর জেভিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সার্ভিস থেকে গ্রামীণ উন্নয়নের উপর স্নাতকোত্তর কোর্স করেন।
১৬4
২০০০-এ সেই কোর্স শেষ হওয়ার পর তিনি জামশেদপুরে ফ্রি লিগাল এইড কমিটিতে যোগ দেন। সেখানে ডাইনি সন্দেহে নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ার কাজ করেন। তাঁর মতো মানুষের নিরলস প্রচেষ্টার পরই ঝাড়খণ্ড সরকার উইচক্রাফ্ট প্রিভেনশন অ্যাক্ট চালু করে। এর পর কয়েক বছর আদিবাসীদের অধিকার, শিশু অধিকার, মানবাধিকার এর মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করেন।
১৬5
কিন্তু নীলকান্তের জীবনে টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার লখনউ অফিসে প্রোগ্রাম অফিসার হিসাবে যোগ দেওয়ার পর। সেখানেই প্রথম মৎস্যজীবীদের নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। মধ্যপ্রদেশের বুন্দেলখণ্ডে মৎস্যজীবীদের জীবনযাত্রার উন্নতি নিয়ে কাজ করতে থাকেন তিনি।
১৬6
সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, বাজার থেকে চাষের সরঞ্জাম, মাছের খাবার কিনে চাষ করে মৎস্যজীবীদের বিশাল খরচ হয়ে যাচ্ছে। সেই খরচের চোটে চাষ করার পর তেমন লাভ থাকে না তাঁদের। তাই প্রোডাকশনের খরচ কমিয়ে চাষের ব্যাপারে কী ভাবে মৎস্যজীবীদের স্বনির্ভরতার পথ দেখাতে থাকেন। মৎস্যজীবীদের ইন্টিগ্রেশন ফার্মিংয়ের ব্যাপারে বোঝাতে থাকেন।
১৬7
তিনি দেখেন। মাছ ধরার জন্য উপযুক্ত খাঁচার দাম বাজারে অনেক। গরিব মৎস্যজীবীদের পক্ষে তা কেনা সম্ভব নয়। তখন স্থানীয়দের দিয়েই বাঁশ, কাঠ, জাল দিয়ে তৈরি করেন সেই খাঁচা। এ রকম মাছের খাবারেও বিকল্প আনেন তিনি।
১৬8
তাঁর দেখানো পথে মৎস্যজীবীদের দিয়েই তৈরি করতে থাকেন মাছের খাবার। পাশাপাশি কোন আবহাওয়ায় কী ভাবের মাছের পরিচর্যা করতে হবে, সেই সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক পাঠও দিতে থাকেন তাঁদের।
১৬9
এ ভাবে চলতে চলতে সেই এলাকার মৎস্যজীবীদের চাষের ধরনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে। চাষের বিভিন্ন ম্যানেজমেন্টের কাজে মৎস্যজীবীরাও সচেতন হয়। সেখানকার এক মৎস্যজীবী জানিয়েছেন, ২০০৪ থেকে বাড়ির পুকুরে চাষ করেও তেমন সাফল্য পাচ্ছিলেন না তিনি। কিন্তু নীলকণ্ঠের দেখানো পথে সাফল্য পেয়েছেন তিনি।
১০১৬10
বুন্দেলখণ্ডের এই মডেলে সাফল্য পেয়ে নীলকণ্ঠ অন্যান্য রাজ্যের মৎস্যজীবীদের মধ্যে তা ছড়ানোর কথা ভাবতে থাকেন। ওড়িশা, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাহায্যে সেখানকার মৎস্যজীবীদের এই পদ্ধতিতে চাষের ব্যাপারে উৎসাহিত করার চেষ্টা করেন।
১১১৬11
কিন্তু সেই কাজে আশানুরূপ সাফল্য আসছিল না। তখন তিনি নিজের সংস্থা খোলার কথা ভাবতে শুরু করেন।
১২১৬12
সেই মতো ২০১৩ সালে নিজের সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। নিজের সংস্থার মাধ্যমে তিনি পৌঁছনোর চেষ্টা করেন বিভিন্ন রাজ্যের মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের কাছে। তাঁদের দিতে থাকেন স্বনির্ভরতার পাঠ।
১৩১৬13
এ ব্যাপারে নীলকণ্ঠ বলেছেন, ‘‘মাছের খাবার বানানো, চারার সঠিক যত্ন নেওয়ার ব্যাপারে অধিকাংশেরই স্বচ্ছ ধারণা ছিল না। আমরা শিখিয়েছি কৃষির বর্জ্যকে কাজে লাগিয়ে মাছের খাবার তৈরি করা। মাছের খাবারে বিভিন্ন খাদ্য উপাদানের হাক সঠিক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। এ ছা়ড়াও চাষের ব্যাপারে ছোট ছোট কিছু পদক্ষেপ বিশাল ফারাক গড়ে দিয়েছে মৎস্যজীবীদের জীবনে।’’
১৪১৬14
এই পদ্ধতিতে চাষের কাজে সামিল হন মহিলারাও। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা তাঁর সংস্থার সঙ্গে যুক্ত করেন নিজেদের।
১৫১৬15
নীলকণ্ঠ বলেছেন, ‘‘মহারাষ্ট্র রুরাল লাইভহুড মিশনের অধীনে বিভিন্ন এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর প্রায়। ১০০ জন মহিলা আমাদের কাছে এই চাষের ব্যাপারে প্রশিক্ষণ নেন। তার পর তাঁরাও যোগ দেন সেই কাজে। এ ভাবে ৬০০-র বেশি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর চার হাজারেরও বেশি মহিলা প্রশিক্ষণ নিয়ে এ ভাবে মৎস্যচাষের কাজে নিজেদের নিয়োজিত করেছেন।’’
১৬১৬16
এ ভাবে তাঁর সংস্থার দ্বারা মৎস্যচাষের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ২৫ হাজারেরও বেশি জন। এই কাজে সাফল্যের জন্য স্বীকৃতিও পেয়েছেন নীলকণ্ঠ। ২০১৭তে অশোকা ফেলোর জন্য মনোনীত হন। তাঁর প্রতিষ্ঠান আউটলুক প্রস্থান পুরস্কার পায় ২০১৯-এ। রাষ্ট্রপুঞ্জের ইকিউয়েটর পুরস্কারও পেয়েছে তাঁর সংস্থা

Sunday, May 10, 2020

অফুরন্ত ছুটির অজানা ভবিষ্যৎ


অফুরন্ত ছুটির অজানা ভবিষ্যৎ

আবকারী আজম

আপডেট: ০৯ মে ২০২০, ১৯:১১
করোনাভাইরাস পাল্টে দিয়েছে আমাদের জীবনের বাস্তবতা। দেশ–বিদেশের পাঠকেরা এখানে লিখছেন তাঁদের এ সময়ের আনন্দ–বেদনাভরা দিনযাপনের মানবিক কাহিনি। আপনিও লিখুন। পাঠকের আরও লেখা দেখুন প্রথম আলো অনলাইনে। লেখা পাঠানোর ঠিকানা: dp@prothomalo.com

অলংকরণ : প্রথম আলোঅলংকরণ : প্রথম আলোব্যস্ততম প্রাণোচ্ছল শহর ঢাকা আজ যেন প্রাণহীন। নেই গাড়ির হর্নের আওয়াজ, রিকশার বেলের টুংটাং আওয়াজ। এমনকি খালি পড়ে আছে মানুষে গিজগিজ করা রাস্তাগুলো, ফুটওভারব্রিজগুলো। জনশূন্য রাস্তাগুলোই এখন মিস করছে আমাদের।

এই তো দেড় মাস আগেই স্কুল, কোচিংয়ের চাপে যখন আমি মনে মনে বলছি, আহ! সপ্তাহে যদি একটা দিন শুধু বাসায় বসে গল্প–উপন্যাস পড়তে পারতাম কিংবা মন খুলে গান গাইতে বা শুনতে পারতাম, কী মজাটাই না হতো। কিন্তু হায়! কী ভাগ্য আমার, এখন সপ্তাহের প্রতিদিনই নির্দিষ্ট কাজগুলো সম্পন্ন করার পরও রয়ে যায় অফুরন্ত সময় আর সারা সপ্তাহই কাটে একঘেয়েমিতে।
প্রতিবছরই ক্যালেন্ডারে ছুটির তারিখগুলো গুনে মনে হতো, ইশ্‌ আরেকটু বেশি দিন ছুটি হলে ভালো হতো। এ বছর তো ক্যালেন্ডার দেখে প্রথমেই মন খারাপ হলো। কার,ণ স্কুল থেকে দেওয়া বিভিন্ন ছুটির দিনগুলো যে এবার শুক্র ও শনিবারের মধ্যে পড়েছে। ফলে স্কুলও কম বন্ধ থাকবে।
Lifebuoy Soap
কিন্তু করোনাভাইরাস এসে ছুটি এতটাই বাড়িয়ে দিল যে ছুটি যেন এখন এক অভিশাপ। এ রকম ছুটি আগে কখনো পাইনি। তবে এই ধরনের ছুটি পাওয়ার থেকে না পাওয়া আরও ভালো। কী কষ্ট! সারা দিন বাসায় থাকতে হচ্ছে। দরজার বাইরে এক পা রাখলেও মা ছুটে এসে ঘরে ঢুকতে বলছে। আগে দুপুরে একটু ঘুমানোর জন্য মনটা উসখুস করত। কিন্তু কোচিংয়ের জন্য ঘুমানো তো দূর, সন্ধ্যা পর্যন্ত বাইরেই থাকতে হতো। আর এখন পেরিয়ে যাচ্ছে অগণিত দুপুর। কিন্তু ঘুম আসতে চায় না এই দুপুরে। শুধু মনে হয়, কবে যাবে করোনাভাইরাস, কবে আমরা স্বাভাবিক দৈনন্দিন জীবনে ফিরতে পারব, কবে যেতে পারব স্কুল, কোচিং কিংবা দাঁড়াতে পারব খোলা আকাশের নিচে।
প্রথম দিকে যখন শুনেছি মার্চের মাঝামাঝি থেকে এপ্রিল ও মে মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত গৃহবন্দী থাকতে হবে, তখন মন অত্যন্ত খারাপ হয়ে গিয়েছিল। আবার পরে যখন শুনলাম যে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকতে পারে, তখন এক মুহূর্তের জন্য মনে হচ্ছিল, আমি একজন আসামি, যাকে একটি কক্ষে সম্পূর্ণরূপে বন্দী করে রাখা হয়েছে। মনে হচ্ছিল মানবজাতি এক অন্তহীন সুড়ঙ্গে পড়ে গেছে, যেখান থেকে বের হওয়ার পথ কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছে না। করোনাভাইরাস আসলেই এক অন্তহীন সুড়ঙ্গ, যার শুধুই আছে অজানা, অনিশ্চিত এক ভবিষ্যৎ।
এই বর্তমান সময়ে নিজেকে জেলে বন্দী বলে মনে হচ্ছে। পরক্ষণেই আবার মনে হচ্ছে, আমি তো জেলে বন্দী হয়ে খেতে পারছি, ঘুমাতে পারছি। কিন্তু কিছু মানুষ আছে যারা ঘুমানো তো দূরের কথা, ঠিকমতো খেতেও পারছে না। এমনকি না খেয়েও দিন কাটিয়ে দিচ্ছে বহু মানুষ। প্রতিদিনই পত্রিকায় অসহায়, দুস্থ মানুষের ছবিতে দেখে মনে হয়, ইশ্‌! সব মানুষ যদি সমানভাবে অন্তত মৌলিক অধিকারগুলো পেত। আরও হৃদয়বিদারক হলো কাক, কুকুর, বিভিন্ন পাখির ডাক। তারা ক্রমাগত ডেকে চলেছে। তাদেরও অসহায় অবস্থা, খাবার নেই। এই অবলা প্রাণীগুলো যখন ডাকতে থাকে, তখন মনে মনে সৃষ্টিকর্তাকে বলি একটু সদয় হওয়ার জন্য। মাঝেমধ্যে মনে হয়, নিজে গিয়েই এই অবলা প্রাণীগুলোকে খাবার দিই। কিন্তু সেই ইচ্ছা মনেই থেকে যায়। কারণ, বাসা থেকে বের হওয়া যে বারণ। চাইলেও করোনা যেমন চলে যাচ্ছে না, তেমনি চাইলেও বাসার বাইরে ভাইরাসের ভয়ে পা রাখা যাচ্ছে না।
করোনাভাইরাসের আতঙ্ক তো রয়েছেই, এর মধ্যে যে বিষয়টি মনকে গভীরভাবে বিষাদগ্রস্ত করে তুলল তা হলো জাতীয় অধ্যাপক স্যার জামিলুর রেজা চৌধুরীর মৃত্যু। একদিকে করোনাভাইরাসের প্রভাব বেড়ে চলেছে ক্রমাগত, বাংলাদেশ তথা বিশ্বের অন্যদিকে দেশের শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তির মৃত্যু মনকে হতাশাগ্রস্ত করে তুলছে। মনে হচ্ছে ২০২০ সাল যেন মানবজাতির জন্য অভিশাপ স্বরূপ। এই ২০২০ সাল যদি না থাকত, তবেই বেশ হতো।
এখন শুধুই মনে হয়, মানবজাতির জন্য কবে সত্যি হবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই গানের লাইন
‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্য সুন্দর’।

আবকারী আজম
দশম শ্রেণি (ভিকারুননিসা নূন স্কুল)
মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

শনিবারও নিউইয়র্কে ৪ প্রবাসীর মৃত্যু

শনিবারও নিউইয়র্কে ৪ প্রবাসীর মৃত্যু
করোনায় মৃত তাসমীন নাওয়ার তমা, সাব্বির এ খান ও মো. আব্দুল আজীজ
করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিউইয়র্কে ৯ মে শনিবার ৪ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ৩০ বছরের এক গৃহবধূও রয়েছেন। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ২১৪ বাংলাদেশির প্রাণ গেল করোনা মহামারিতে।
হাসপাতাল এবং স্বজনের উদ্ধৃতি দিয়ে বাংলাদেশ সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার এবং সেক্রেটারি রুহুল আমিন সিদ্দিকী এ সংবাদদাতাকে জানান, ময়মনসিংহের সন্তান এবং স্বামী নাজমুস সাকিবের সাথে লং আইল্যান্ডে বসবাসরত তাসমীন নাওয়ার তমা (৩০) দীর্ঘ ২৮দিন করোনার সাথে যুদ্ধ করে হাল ছেড়ে দিলেন ৯ মে শনিবার ভোর রাতে। তিনি ছিলেন স্টোনিব্রুক হাসপাতালে।
অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক মিসবাহ আহমেদের মামা আলতাফ হোসেন লনী মিয়া (৮০) ইন্তেকাল করেন এদিন বিকেল ৬টায় ম্যানহাটানে মাউন্টশিনাই হাসপাতালে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন সিলেটের বিয়ানিবাজারের ঘুনগাদিয়া গ্রামের সন্তান এবং ৫০ বছর আগে এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রস্থ বিয়ানিবাজার সমিতির নেতৃবৃন্দ।  লং আইল্যান্ড হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন সিলেটের সন্তান ও কুইন্সে বসবাসরত মুজাহেদ আলী (৭০)।
দিনাজপুরের সন্তান এবং উডসাইডে বসবাসরত মো. আব্দুল আজিজ (৬৫) ইন্তেকাল করেছেন একইদিন স্থানীয় হাসপাতালে। এর আগেরদিন রাত সাড়ে ১১টায় এস্টোরিয়ায় বসবাসরত সাব্বির এ খান (৬৭) মারা গেছেন মাউন্টশিনাই হাসপাতালে।
নিউইয়র্ক সিটিসহ পুরো রাজ্যে শুক্রবার মারা গেছে মোট ২২৬ জন। আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ২১৬ অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে বেড়েছে ১০ জন। স্টেট গভর্নর এ্যান্ড্রু ক্যুমো প্রেস ব্রিফিংকালে জানান, তবে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা অনেক কমেছে। এ রাজ্যে মোট মারা গেছে ২৬ হাজার ৭৭১। আক্রান্ত হয় ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৪০৯ জন। এরমধ্যে সুস্থ হয়েছে ৮৩ হাজার ৩৩৭ জন।
বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন

Friday, May 8, 2020

বিশ্বে প্রথম জেনেরিক রেমডেসিভির, করোনার চিকিৎসায় দেশে প্রথম রেমডেসিভির উৎপাদন করল এসকেএফ

করোনার চিকিৎসায় ব্যবহৃত এসকেএফের তৈরি রেমিভির এখন বাজারে আসার জন্য প্রস্তুত। ছবি: সংগৃহীতকরোনার চিকিৎসায় ব্যবহৃত এসকেএফের তৈরি রেমিভির এখন বাজারে আসার জন্য প্রস্তুত। ছবি: সংগৃহীতকরোনাভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকর ওষুধ রেমডেসিভির উৎপাদন সম্পন্ন করেছে দেশের খ্যাতনামা ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড। উৎপাদনের সব প্রক্রিয়া শেষ করার পর আজ শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে বাজারজাত করার প্রস্তুতি।
এসকেএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি নিয়ে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আমরা দেশবাসীকে এই সুখবর দিতে চাই যে বিশ্বে করোনার একমাত্র কার্যকর ওষুধ বলে স্বীকৃত জেনেরিক রেমডেসিভির উৎপাদনের সব ধাপ আমরা সম্পন্ন করেছি।’
করোনা রোগীদের চিকিৎসায় মার্কিন প্রতিষ্ঠান গিলিয়েড সায়েন্সেস কোম্পানির তৈরি এই ওষুধ সারা বিশ্বে সাড়া ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) গত সপ্তাহে করোনার ওষুধ হিসেবে রেমডেসিভিরকে ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। জাপানের ওষুধ প্রশাসন ৭ মে থেকে ওষুধটি করোনা রোগীদের ওপর প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে। তবে কবে নাগাদ জাপান এর উৎপাদনে যাবে তা এখনো ঠিক হয়নি বলে সে দেশের একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন। মার্কিন প্রতিষ্ঠান গিলিয়েড সায়েন্সেস ওষুধটি উৎপাদনের জন্য ভারত ও পাকিস্তানের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলেও খবরে জানা গেছে। এ অবস্থায় এসকেএফই বিশ্বে প্রথম ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, যারা জেনেরিক (মূল/গোত্র) রেমডেসিভির উৎপাদন করতে সক্ষম হলো। এসকেএফের উৎপাদন করা রেমডেসিভিরের বাণিজ্যিক নাম ‘রেমিভির’।
সিমিন হোসেন বলেন, ‘ওষুধ প্রশাসন গত মার্চ মাসে ওষুধটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়। ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদনের পরপরই আমাদের ফর্মুলেশন বিজ্ঞানীরা মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে রেমডেসিভির নিয়ে কাজ শুরু করেন। যেহেতু এটি একটি শিরায় দেওয়া ইনজেকশন, সে কারণে এর উৎপাদনে সূক্ষ্ম প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। দুই মাস ধরে এসকেএফ কর্মীদের নিরলস পরিশ্রমের ফলেই এত কম সময়ে এটা উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। ওষুধের মূল উপাদান সরবরাহকারীদের সঙ্গে চুক্তি করে পর্যাপ্ত কাঁচামাল প্রাপ্যতা নিশ্চিত করেছি আমরা।’
করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ রোগের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি কার্যকারিতা দেখিয়েছে রেমডেসিভির। গিলিয়েড–এর নিজস্ব পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই ওষুধ ব্যবহারে রোগীদের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। মানুষের শিরায় ইনজেকশন হিসেবে এই ওষুধ প্রয়োগ করতে হয়। রোগের তীব্রতার ওপর এর ডোজ নির্ভর করে। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য ৫ অথবা ১০ দিনের ডোজ প্রয়োজন হতে পারে।
রেমডেসিভির উৎপাদনের একচেটিয়া স্বত্ব রয়েছে গিলিয়েডের। তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আইন অনুযায়ী, জাতিসংঘ স্বীকৃত বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশগুলো এসব পেটেন্ট বা স্বত্ব অগ্রাহ্য করতে পারে। ফলে এসব দেশ সহনীয় মূল্যে ওষুধ উৎপাদন করতে পারে। তবে এই ওষুধটি বর্তমানে খোলা বাজারে দেওয়া হবে না। এটা দেওয়া হবে করোনা চিকিৎসার জন্য সরকার অনুমোদিত হাসপাতাল বা ক্লিনিককে।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ও আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশেস ডিজিজেসের পরিচালক অ্যান্থনি এস ফাউসি হোয়াইট হাউসে এক আলোচনায় বলেন, করোনা থেকে দ্রুত সেরে ওঠার ক্ষেত্রে রেমডেসিভিরের ইতিবাচক প্রভাব পরিষ্কার। আর এই ওষুধ যেহেতু কাজ করছে বলে পরিষ্কার প্রমাণ মিলেছে, তখন তা দ্রুত মানুষকে জানানো নৈতিক বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়ে।
শিল্পপতি লতিফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন ট্রান্সকম গ্রুপের অন্যতম প্রতিষ্ঠান এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ৩০ বছর ধরে ওষুধ উৎপাদন করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি দেশের বাইরে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা ও এশিয়া মহাদেশের ৩০টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করে আসছে।

করোনা আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা মানুষের ওপর নজরদারি জরুরি

ছবি: রয়টার্সছবি: রয়টার্সকরোনা সংক্রমণের সন্দেহভাজন মানুষ খুঁজে বের করার কাজটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। করোনা আক্রান্ত মানুষের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি চিহ্নিত করা এবং তাঁদের নজরদারির বিষয়টি নিশ্চিত না হলে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ও কিছু জেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাজটি ঠিকমতো হচ্ছে না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোভিড–১৯ আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার কাজটিকে বলছে ‘কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং’। অর্থাৎ আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে অনুসরণ করতে হবে, খুঁজে বের করতে হবে, তার ওপর নজরদারি করতে হবে। উপসর্গ দেখা দিলে তাকে পরীক্ষার আওতায় নিতে হবে। রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসা দিতে হবে।
কন্ট্যাক্ট ট্রেসিংয়ের কাজটি শুরু থেকে করে আসছিল সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। গত মার্চে মাদারীপুর জেলার শিবচর এলাকায় ৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল। আইইডিসিআরের তিনজন স্বাস্থ্যকর্মী ২০ ও ২১ মার্চ ওই ৯ জনের মধ্যে ছয়জনের কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং করেছিলেন। তাঁদের সংস্পর্শে আসা ৩৫০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১০৭ জনকে কোয়ারেন্টিনে (সঙ্গনিরোধ) রাখা হয়। বাকি ২৪৩ জনের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকা লকডাউন (অবরুদ্ধ) করা হয়। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন এ কাজে স্বাস্থ্য বিভাগকে সহায়তা করেছিল। বর্তমানে শিবচরে ২১ জন রোগী আছে।
দেশে করোনা সংক্রমণের শুরুতে কাজটি যেভাবে হয়েছিল, এখন তা হচ্ছে না। এ কাজ করার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণেরও দরকার আছে। সেই প্রশিক্ষিত জনবলেও ঘাটতি আছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকায় কমিউনিটি সংক্রমণ হয়ে গেছে। এখানে কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং সম্ভব নয়। কাজটি বন্ধ আছে। তবে উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নেতৃত্বে কাজটি চলমান আছে।
কাদের, কীভাবে খুঁজতে হবে
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুসরণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ‘কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং’–এর নির্দেশনা তৈরি করেছে। তাতে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন বা নিশ্চিত কোভিড–১৯ রোগী এক মিটারের মধ্যে ১৫ মিনিট বা তার বেশি সময় অবস্থান করলে, সন্দেহভাজন বা নিশ্চিত কোভিড–১৯ রোগীর সংস্পর্শে এলে, ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী পরা ছাড়া কোভিড–১৯ রোগীকে সেবা দিলে তাঁদের খুঁজে বের করতে হবে। তাতে আরও বলা হয়েছে, করোনার লক্ষণ দেখা দেওয়ার ২ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে সংস্পর্শে আসা মানুষগুলোকে খুঁজে বের করতে হবে।
করোনা উপসর্গ নিয়ে যাঁরা মারা গেছেন, অথচ তাঁদের শনাক্তকরণ পরীক্ষা হয়নি বা পরীক্ষার ফলাফল ঝুলে আছে—তাঁদের সংস্পর্শে আসা মানুষদেরও খুঁজতে হবে। বলা হয়েছে সংস্পর্শে আসা প্রত্যেক ব্যক্তির নাম, ঠিকানা, আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক, সর্বশেষ কবে সংস্পর্শে এসেছিলেন—এসব তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। স্বাস্থ্যকর্মী ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থেকে বা ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগের কাজটি করবেন। কোনো লক্ষণ দেখা দিলে সে অনুযায়ী হাসপাতালে বা বাড়িতে থেকে চিকিৎসার পরামর্শ দেবেন।
শুরুটা ভালো ছিল
আইইডিসিআর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জনস্বাস্থ্যবিদদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর চারটি জায়গায় আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার কাজটি ভালোই হয়েছিল। এসব এলাকা হচ্ছে রাজধানীর টোলারবাগ ও বাসাবো, গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর, মাদারীপুরের শিবচর এবং নারায়ণগঞ্জ।
৮ মার্চ দেশে প্রথম শনাক্ত হওয়া রোগীর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের প্রবাসী বাংলাদেশি ছিলেন। ওই সময়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করার সময় আইইডিসিআরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ‘একজনের সংস্পর্শে প্রায় ১০০ জন এসেছিলেন, এমন তথ্য আমরা পেয়েছি।’ সংস্পর্শে আসা মানুষ খুঁজতে নরসিংদী ও গাজীপুর পর্যন্ত তাঁরা গেছেন।
ভাইরাসটির সংক্রমণক্ষমতা অনেক বেশি। একজন থেকে বহুজনে ছড়িয়ে
পড়ে। সংক্রমণ কমাতে সন্দেহভাজন ব্যক্তি খুঁজে বের করা দরকার।
সূত্র বলছে, আইইডিসিআরের প্রায় ৪০ জনের একটি প্রশিক্ষিত চিকিৎসক দল এই কাজ করত। তাঁরা প্রত্যেকেই ফিল্ড এপিডেমিওলজি ট্রেনিং কর্মসূচির ফেলো। প্রত্যেকেই স্বাস্থ্য বিসিএস কর্মকর্তা। নিপাহ বা অ্যানথ্রাক্সের মতো রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় তাঁরাই মাঠের তথ্য সংগ্রহ করেন।
তবে তাঁরা এখন কাজটি করছেন না বলে জানা গেছে। কেন করছেন না, তা টেলিফোনে জানতে একাধিকবার চেষ্টা করে আইইডিসিআরের পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
কাজটি করা দরকার
নতুন এই ভাইরাসের সংক্রমণক্ষমতা অনেক বেশি। একজন থেকে বহুজনে ছড়িয়ে পড়ে। সংক্রমণ কমাতে সন্দেহভাজন ব্যক্তি খুঁজে বের করা দরকার। খুঁজে বের করে তাঁদের সতর্ক না করলে বা তাঁদের হোম কোয়ারেন্টিনে (সঙ্গনিরোধ) না রাখলে, তাঁরা যেকোনো সময় সংক্রমণের উৎস হতে পারেন।
জনস্বাস্থ্যবিদ ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা মানুষ চিনতে পারলে সংক্রমণ বাধাগ্রস্ত করা সহজ হয়। তবে সারা দেশে তা করা সম্ভব না হলেও, যেসব জেলায় সংক্রমণ কম, সেখানে করা দরকার। তাহলে ওই জেলায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
বাস্তব পরিস্থিতি
আইইডিসিআর রাজধানীর মিরপুরের সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে ১৭ এপ্রিল। ১৯ এপ্রিল আইইডিসিআর জানায়, ওই ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত। ২০ এপ্রিল ওই ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হন। আইইডিসিআর এই ব্যক্তির পরিবারের চার সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করে। কিন্তু ওই ব্যক্তি ১৭ এপ্রিলের আগের ১৪ দিন কাদের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তা খোঁজ করেনি আইইডিসিআর।
রাজধানীর ১৪টি ল্যাবরেটরিতে এখন নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। দেশে প্রতিদিন যত মানুষ সংক্রমিত হচ্ছে, তার প্রায় অর্ধেক রাজধানীর। এসব সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে বহু মানুষ আসছেন। তাঁদের খুঁজে বের না করলে সংক্রমণের পথ বন্ধ করা সহজ হবে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
চট্টগ্রাম বিভাগের একটি জেলায় চারজন সংক্রমিত বলে শনাক্তকরণ পরীক্ষায় জানা গেছে। সংক্রমণের বিস্তার রোধে এই জেলায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানতে চাইলে জেলার সিভিল সার্জন বলেছেন, আক্রান্ত চারজনের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। কন্ট্যাক্ট ট্রেসিংয়ের কোনো উদ্যোগ নিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে সিভিল সার্জন বলেন, সবকিছু করা সম্ভব নয়। যতটুকু সম্ভব, ততটুকু তাঁরা করছেন।
দক্ষিণের একটি জেলার সিভিল সার্জন বলেছেন, ঢাকা থেকে একটি গাড়িতে করে রোগীসহ চারজন এসেছিলেন। কিন্তু গাড়িতে থাকা সবার তথ্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, ফেনী, ভোলা, পিরোজপুর, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, বাগেরহাট, মাগুরা, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় রোগীর সংখ্যা ১০ জনের কম। অন্যদিকে ঢাকা শহরের ৪১টি এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ বা ২ জন। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলেছেন, এসব জেলায় ও ঢাকা শহরের এসব এলাকায় ‘কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং’ অব্যাহত রাখা দরকার।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়া অঞ্চল) সাবেক উপদেষ্টা মুজাহেরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ১০ জনের কম রোগী আছে, এমন জেলাগুলোকে রক্ষা করার কৌশল সরকারকে এখনই নিতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়িতে অথবা সরকারনির্ধারিত হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখতে হবে। তাঁদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের এখনই খুঁজে বের করতে হবে। এই কাজে বিলম্ব হলে অথবা কাজটি ঠিকমতো না হলে এসব জেলাতেও সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

বাড়িতে থেকেই কিশোরীর করোনাজয়

করোনাভাইরাস। ছবি: রয়টার্সকরোনাভাইরাস। ছবি: রয়টার্সযেতে হয়নি হাসপাতালে। সেবন করতে হয়নি কোনো ওষুধ। শুধু বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে হালকা গরম পানি ও চা পান করেই করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) জয় করেছে সিনথিয়া ইসলাম নামের এক কিশোরী। সে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের বিজরুল গ্রামের আমিনুল ইসলামের মেয়ে। নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন মণ্ডল প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ এপ্রিল সিনথিয়ার নমুনা পরীক্ষায় করোনা‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌ ‘পজিটিভ’ শনাক্ত হয়। এরপর হাসপাতালে না নিয়ে তাকে বাড়িতে আইসোলেশনে রাখা হয়। এই সময় তাদের বাড়ি ছাড়াও আশপাশের কয়েকটি বাড়ি লকডাউন করা হয়। এরপর ২৮ এপ্রিল সিনথিয়ার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার পর প্রথম দফা করোনা ‘নেগেটিভ’ শনাক্ত হয়। ৪ মে দ্বিতীয় দফা নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের ল্যাবে পাঠানো হয়। সেখান থেকে দ্বিতীয় দফা পরীক্ষার প্রতিবেদনে করোনা‌ নেগেটিভ নিশ্চিত করার বিষয়টি বুধবার সন্ধ্যায় জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়কে জানানো হয়। সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে বৃহস্পতিবার সকালে নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরপর দুই দফা করোনা ‘নেগেটিভ’ বলে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। পরে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন মণ্ডল সিনথিয়ার বাড়িতে গিয়ে তাকে সুস্থ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে কিশোরীটির বাড়ি ছাড়াও আশপাশের বাড়ি থেকে লকডাউন প্রত্যাহার করা হয়।
এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, কোনো প্রকার চিকিৎসা এবং ওষুধ ছাড়াই সিনথিয়া করোনাজয় করেছে। তার জন্য হাসপাতাল প্রয়োজন হয়নি। তাকে কোনো ওষুধও খাওয়াতে হয়নি। ১১ বছর বয়সে ওষুধ ছাড়াই করোনাজয় করে সিনথিয়া বিরল উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তারা বলেন, সিনথিয়া মা–বাবার সঙ্গে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসায় ২০ এপ্রিল তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের নমুনা পরীক্ষায় ২২ এপ্রিল সে করোনা ‘পজিটিভ’ শনাক্ত হয়। চিকিৎসকেরা বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আইসোলেশনে নিতে চাইলেও কিশোরীর মা–বাবা তাকে বাড়িতে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা করাতে চান। এ কারণে ওই বাড়িসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়ি লকডাউন করা হয়। মা–বাবাসহ আশপাশের সব বাড়ির সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। ওই সময় সবার নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন করোনা ‘নেগেটিভ’ আসে।
সিনথিয়ার বাবা আমিনুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, তিনি পরিবার নিয়ে রাজধানীর কাফরুল এলাকায় থাকেন। ১৮ এপ্রিল তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকা থেকে নন্দীগ্রামে ফেরেন। ২০ এপ্রিল নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তিনি তাঁর মেয়ে সিনথিয়ার নমুনা দেন।

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এই বয়সে একমাত্র মেয়ে করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু মনোবল শক্ত করে ওকে বাড়িতেই আইসোলেশনে রেখেছিলাম। বাড়িতে রাখলে অন্যরাও আক্রান্ত হওয়ার ভয় ছিল। গত ১৪ দিন তাকে কোনো ধরনের ওষুধও খাওয়াতে হয়নি। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শে নিয়মিত হালকা গরম পানি দিয়ে সে গড়গড়া করেছে। ঘন ঘন গরম পানি আর চা খেয়েছে।এতেই সে সুস্থ হয়ে গেছে।’

Thursday, May 7, 2020

নমুনা পরীক্ষা-আক্রান্ত-মৃত্যু সবকিছুই কম বাংলাদেশে


সবকিছুই কম বাংলাদেশে
প্রতীকী ছবি
করোনার সংক্রমণ ক্রমেই বাড়ছে। আক্রান্তের সংখ্যাও রেকর্ড গড়ছে। মে মাসের শুরুর দিকে মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমে এলেও গতকাল বৃহস্পতিবার তা আবার বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৩ জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯৯ জনে পৌঁছেছে। দেশে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর দুই মাসের মধ্যে একদিনে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। এর আগে ১৭ এপ্রিল একদিনে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭০৬ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সংক্রমণের দুই মাসের মাথায় আক্রান্তের সংখ্যা ১২ হাজার ৪২৫ জনে পৌঁছাল।

বিশ্বে সর্বোচ্চ করোনা সংক্রমণের শিকার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ৮ দেশ, প্রতিবেশী ভারত, বাংলাদেশসহ ১০ দেশের প্রথম দুই মাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি বিশ্নেষণে দেখা যায়, ভারত ছাড়া বাকিদের তুলনায় সংক্রমণ শুরুর পর এই সময়কালে বাংলাদেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুহার কম। তবে ওইসব দেশে এত সংক্রমণ শনাক্তের জন্য যে পরিমাণ নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, বাংলাদেশ তা থেকে যোজন যোজন পিছিয়ে রয়েছে। নমুনা পরীক্ষা কম হওয়ার কারণে শনাক্তও কম হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে চিকিৎসকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই মাহবুব সমকালকে বলেন, বর্তমানে দেশে কতসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন, তা আমরা জানি না। কারণ, আক্রান্তের সঠিক হিসাব জানতে হলে নমুনা পরীক্ষা করতে হয়। নমুনা পরীক্ষার পর্যাপ্ত সুবিধা মানুষ পাচ্ছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্নিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা কারও পরীক্ষা করালে তবেই একজন এর আওতায় আসার সুযোগ পাচ্ছেন। এর বাইরে চাইলেও কেউ পরীক্ষা করাতে পারছেন না। প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন- এমন হাজার হাজার মানুষ পরীক্ষার আওতার বাইরে রয়েছেন। তাই অন্য দেশের তুলনায় সংক্রমণ কম হয়েছে, সেটি এই সীমিত পরীক্ষার মাধ্যমে বলে দেওয়া সমীচীন হবে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক আঞ্চলিক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মুজাহেরুল হক সমকালকে বলেন, করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিভাগের পরিকল্পনা যে সঠিক ছিল না, তা প্রমাণিত হয়েছে। কারণ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভাইরাসটি প্রতিরোধে যেখানে নমুনা পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে, সেখানে বাংলাদেশ পরীক্ষার বিষয়ে সবচেয়ে অমনোযোগী ছিল। একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরের মাধ্যমে তারা নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার কাজ করছিল। কিন্তু আইইডিসিআরের কাজ তো নমুনা সংগ্রহ ও তা পরীক্ষা করা কিংবা সংবাদ সম্মেলন করা নয়। তাদের মূল কাজ হলো- রোগতাত্ত্বিক গবেষণা করা। কিন্তু সেটি না করে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা নমুনা পরীক্ষা ও সংবাদ সম্মেলন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। নমুনা পরীক্ষার ল্যাবের সংখ্যা যেটুকু বাড়ানো হয়েছে, তাও অপ্রতুল। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ হাজার নমুনা পরীক্ষার প্রয়োজন। কারণ, পরীক্ষার মাধ্যমে পজিটিভ ব্যক্তিকে আইসোলেশন এবং তার সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইন করে রোগটি প্রতিরোধ করতে হবে।

আক্রান্ত ১০ দেশের মধ্যে দুই মাসের তুলনামূলক পর্যালোচনা :বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস সংক্রমণের তথ্যভিত্তিক পর্যালোচনা করছে আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারস ডট ইনফো। এই ওয়েবসাইটের তথ্য-উপাত্ত বিশ্নেষণ করে যে চিত্র পাওয়া যায়, তা এখানে তুলে ধরা হলো।

যুক্তরাষ্ট্র :চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হন। দেশটিতে প্রথম ২৯ ফেব্রুয়ারি একজনের মৃত্যু হয়। দুই মাস পর ২১ মার্চ আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়ায় ২৪ হাজার ৪১৮ জনে। মৃত্যু ৩৭৪ জন।

ইতালি :ইউরোপের দেশ ইতালিতে প্রথম করোনাভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিদিনই আক্রান্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে দেশটিতে। কয়েকদিন ধরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও আক্রান্ত ও মৃত্যুর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। ইতালিতে প্রথম রোগী শনাক্ত হন ৩১ জানুয়ারি। দুই মাসের মাথায় ১ এপ্রিল আক্রান্ত বেড়ে এক লাখ ১০ হাজার ৫৭৪ জনে পৌঁছায়। মৃত্যু হয় ১৩ হাজার ১৫৫ জনের।

স্পেন :স্পেনকে এখনও কাঁদাচ্ছে করোনা মহামারি। ইতালির মতো এই দেশেও প্রথম করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হন ৩১ জানুয়ারি। দুই মাসের মাথায় ১ এপ্রিল তা বেড়ে এক লাখ ৪ হাজার ১১৮ জনে পৌঁছায়। মৃত্যু হয় ৯ হাজার ৩৮৭ জনের।

ফ্রান্স :ইউরোপের আরেক দেশ ফ্রান্সে ২৪ জানুয়ারি প্রথম করোনা আক্রান্ত এক ব্যক্তি শনাক্ত হন। দুই মাসের মাথায় ২৪ মার্চ আক্রান্ত বেড়ে ২২ হাজার ৩০৪ জনে পৌঁছায়। মৃত্যু হয় এক হাজার ১০০ জনের।

জার্মানি :করোনাভাইরাস প্রতিরোধে অপেক্ষাকৃত সফলতা দেখিয়েছে জার্মানি। ইউরোপের অন্যান্য দেশে ভাইরাসটি মহামারি আকার ধারণ করলেও জার্মানি ছিল ব্যতিক্রম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশটিতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। জার্মানিতে ২৭ জানুয়ারি প্রথম করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হন। দুই মাসের মাথায় ২৭ মার্চ ৫০ হাজার ৮৭১ জনে পৌঁছায় আক্রান্তের সংখ্যা। মোট মৃত্যু ৩৫১ জনের।

যুক্তরাজ্য :শুরুতে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পরে যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করে। সেখানে ৩১ জানুয়ারি প্রথম করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত করা হয়। দুই মাসের মাথায় ৩১ মার্চ আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ হাজার ১৫০ জনে। মৃত্যু হয় ২ হাজার ৪২৫ জনের।

ইরান :ইরানে ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম দু'জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। দুই মাসের মাথায় ১৮ এপ্রিল আক্রান্ত বেড়ে হয় ৮০ হাজার ৮৬৮ জন। মৃত্যু হয় ৫ হাজার ৩১ জনের।

রাশিয়া :৪ মার্চ প্রথম একজনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। দুই মাসের মাথায় ৪ মে আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়ায় এক লাখ ৪৫ হাজার ২৬৮ জন। মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ৩৫৬ জনের।

তুরস্ক :তুরস্কে প্রথম করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হন ১১ মার্চ। আগামী ১১ মে দুই মাস হবে। এক মাস ২৬ দিনের মাথায় এসে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটিতে আক্রান্ত এক লাখ ৩১ হাজার ৭৪৪ জনে পৌঁছেছে। মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৫৮৪ জনের। প্রতি ১০ লাখে পরীক্ষা করা হয়েছে ১৪ হাজার ৬৪০ জনের।

ব্রাজিল :লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে প্রথম করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হন ২৭ ফেব্রুয়ারি। দুই মাসের মাথায় ২৭ এপ্রিল দেশটিতে ৬৬ হাজার ৫১০ জন আক্রান্ত হন। মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৫৪৩ জনের। প্রতি ১০ লাখে পরীক্ষা করা হয়েছে এক হাজার ৫৯৭ জনের।

বাংলাদেশ :বর্তমানে বাংলাদেশেও করোনার সংক্রমণ চলছে। দেশে প্রথম ৮ মার্চ তিনজনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। ১৮ মার্চ প্রথম করোনায় একজনের মৃত্যু হয়। সংক্রমণ শুরুর দুই মাসের মাথায় ৭ মে আক্রান্ত বেড়ে ১২ হাজার ৪২৫ জনে পৌঁছাল। মৃত্যু বেড়ে ১৯৯ জনে পৌঁছেছে।

এই চিত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, উল্লিখিত ১০ দেশের মধ্যে ভারত ছাড়া বাকিদের তুলনায় সংক্রমণ শুরুর পরবর্তী দুই মাসে বাংলাদেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুহার কম। তবে ওইসব দেশে এত সংক্রমণ শনাক্ত করার জন্য যে পরিমাণ নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, বাংলাদেশ তার তুলনায় অনেক পিছিয়ে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশে এক লাখ ৫ হাজার ৫১৩ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। ভারতে প্রতি ১০ লাখে ৯৮৪ জন, যুক্তরাষ্ট্রে ২৪ হাজার ১৮৬, ইতালিতে ৩৮ হাজার ২২১, স্পেনে ৪১ হাজার ৩৩২, যুক্তরাজ্যে ২১ হাজার ৩৩০, জার্মানিতে ৩২ হাজার ৮৯১, ফ্রান্সে ১৬ হাজার ৮৫৬, রাশিয়ায় ৩২ হাজার ৯১৩ এবং ইরানে ৬ হাজার ৪৮৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর বিপরীতে বাংলাদেশে প্রতি ১০ লাখে মাত্র ৬৪১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা কম হওয়ার কারণে শনাক্তও কম হয়েছে।

দেশে প্রথম করোনার সংক্রমণ :গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম সংক্রমণ শুরু হয়। ওইদিন তিনজনের শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হয়।

প্রথম মৃত্যু :১৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমিত প্রথম এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। একই দিন নতুন করে আরও চারজনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হলে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে পৌঁছায়।

আক্রান্ত অর্ধশত ছাড়ায় :৩১ মার্চ নতুন করে আরও দু'জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৫১ জনে পৌঁছায়। মৃতের সংখ্যা ৫।

আক্রান্ত ১০০ ছাড়ায় :৬ এপ্রিল একই সঙ্গে ৩৫ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ পাওয়া যায়। আক্রান্তের সংখ্যা ১২৩ জনে পৌঁছায়। মৃত্যু হয় আরও তিনজনের। মোট মৃত্যু ১২ জনের।

আক্রান্ত ২০০ ছাড়ায় : ৮ এপ্রিল নতুন করে আক্রান্ত হন ৫৪ জন। মোট আক্রান্ত ২১৮ জন। এদিন ৩ জনসহ মোট মৃত্যু ২০ জনের।

আক্রান্ত ৩০০ ছাড়ায় : ৯ এপ্রিল ১১২ জন আক্রান্ত হন। মোট আক্রান্ত ৩৩০। একজনের মৃত্যু হয়। মোট মৃত্যু ২১।

আক্রান্ত ৪০০ ছাড়ায় : ১০ এপ্রিল আক্রান্ত হন ৯৪ জন। মোট আক্রান্ত ৪২৪ জনে পৌঁছায়। ৬ জনের মৃত্যু হয়। মোট মৃত্যু ২৭।

আক্রান্ত বেড়ে ৪৮২ : ১১ এপ্রিল আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়। মোট মৃত্যু ৩০ জনে পৌঁছায়। আক্রান্ত হন ৫৮ জন। মোট আক্রান্ত ৪৮২ জন।

আক্রান্ত ৬০০ ছাড়ায় : ১২ এপ্রিল ৪ জনের মৃত্যু হয়। মোট মৃত্যু ৩৪ জনে পৌঁছায়। ওইদিন নতুন করে ১৩৯ আক্রান্ত হয়। মোট আক্রান্ত ৬২১ জনে পৌঁছায়।

আক্রান্ত ৮০০ ছাড়ায় : ১৩ এপ্রিল নতুন করে ১৮২ জন আক্রান্ত হয়। মোট আক্রান্ত ৮০৩ জনে পৌছায়। ওইদিন ৫ জনের মৃত্যু হয়। মোট মৃত্যু ৩৯ জনে পৌঁছায়।

আক্রান্ত হাজার ছাড়ায় :১৪ এপ্রিল আক্রান্তের সংখ্যা হাজার অতিক্রম করে যায়। ওইদিন ২০৯ জন আক্রান্ত হয়। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ১২ জনে পৌঁছায়। মৃত্যু হয় ৭ জনের। মোট মৃত্যু ৪৬ জনে পৌঁছায়।

মৃত্যু অর্ধশত : ১৫ এপ্রিল আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৫০ জনে পৌঁছায়। আক্রান্ত হয় আরও ২১৯ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ২৩১ জনে পৌঁছায়।

আক্রান্ত দেড় হাজার ছাড়ায় : ১৬ এপ্রিল শনাক্ত হয় আরও ৩৪১ জন। মোট আক্রান্ত ১ হাজার ৫৭২ জন। ওইদিন আরও ১০ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা ৬০ জনে পৌঁছায়।

আক্রান্ত ২ হাজার ছাড়ায় :১৮ এপ্রিল আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে যায়। এদিন আক্রান্ত হয় ৩০৬ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ হাজার ১৪৪ জন। আরও ৯ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে প্রাণহানির সংখ্যা ৮৪।

মৃত্যু শতাধিক :২০ এপ্রিল ১০ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্য দিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছে ১০১ জনে। ওইদিন নতুন করে ৪৯২ জন আক্রান্ত হন। মোট আক্রান্ত ২ হাজার ৯৪৮ জন।

আক্রান্ত ৩ হাজার ছাড়ায় : ২১ এপ্রিল মৃত্যু হয় ৯ জনের। নতুন করে আক্রান্ত ৪৩৪ জন। মোট আক্রান্ত ৩৩৮২ এবং মৃত্যু ১১০ জনের।

আক্রান্ত ৪ হাজার ছাড়ায় : ২৩ এপ্রিল নতুন করে আক্রান্ত ৪১৪ জন হয়। মৃত্যু হয় ৭ জনের। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত ৪১৮৬ জনে পৌঁছায়। মৃত্যু ১২৭ জনের।

আক্রান্ত ৫ হাজার ছাড়ায় :২৬ এপ্রিল ৪১৮ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৫ হাজার ৪১৬ জনে পৌঁছায়। একই সঙ্গে ৫ জনের মৃত্যু হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয় ১৪৫।

দেড় শতাধিক মৃত্যু : ২৭ এপ্রিল আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়। মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫২ জনে। আক্রান্ত হয় ৪৯৭ জন। মোট আক্রান্ত ৫ হাজার ৯১৩ জন।

আক্রান্ত ৬ হাজার ছাড়ায় : ২৮ এপ্রিল ৫৪৯ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ৪৬২ জনে পৌঁছায়। ৩ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছায় ১৫৫ জনে।

আক্রান্ত ৭ হাজায় ছাড়ায় :২৯ এপ্রিল নতুন করে ৬৪১ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজার ১০৩ জনে পৌঁছায়। ৮ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা হয় ১৬৩।

মৃত্যু বেড়ে ১৭০, আক্রান্ত ছাড়ায় আট হাজার :১ মে ২ জনের মৃত্যু হয়। মোট মৃত্যু ১৭০ জনের। ওইদিন আক্রান্ত হয় ৫৭১ জন। মোট আক্রান্ত ৮ হাজার ২৩৮ জন।

মৃত্যু বেড়ে ১৭৫ :২ মে ৭ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭৫ জনে পৌঁছায়। ৫৫২ জন নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৮ হাজার ৭৯০ জনে পৌঁছায়।

আক্রান্ত ৯ হাজার ছাড়ায় :৩ মে ৬৬৫ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণের মধ্য দিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৫৫ জনে পৌঁছায়। একই সঙ্গে ২ জনের মৃত্যু হয়। মৃতের সংখ্যা হয় ১৭৭।

আক্রান্ত ১০ হাজার ছাড়াল : ৪ মে নতুন করে আরও ৬৮৮ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১০ হাজার ১৪৩ জনে পৌঁছায়। একই সঙ্গে আরও ৫ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮২ জনে।

আক্রান্ত বেড়ে ১০ হাজার ৯২৯ : ৫ মে আক্রান্ত হয় ৭৮৬ জন। মৃত্যু হয় ১ জনের। মোট আক্রান্ত ১০ হাজার ৯২৯ এবং মৃত্যু ১৮৩ জন।

আক্রান্ত ১১ হাজার ছাড়ায় : ৬ মে এক দিনে সর্বোচ্চ ৭৯০ জন শনাক্ত হয়। এদিন ৩ জনের মৃত্যু হয়। মোট আক্রান্ত ১১ হাজার ৭১৯ এবং মৃত্যু ১৮৬ জনের।

মৃত্যুসংখ্যা বেড়ে ১৯৯, আক্রান্ত ১২ হাজার ছাড়াল :গতকাল ৭ মে আরও ১৩ জনের মৃত্যু হয়। আক্রান্ত হয় ৭০৬ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১২ হাজার ৪২৫ জনে পৌঁছেছে। মৃত্যুসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৯৯। গতকাল করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এ তথ্য জানান। তবে বুলেটিনে তিনি মৃত্যুর সংখ্যা জানাননি। পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ১৩ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়।

ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আরও ১০৩ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ১ হাজার ৯১০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

সঙ্কটে অসহায়দের পাশে তরুণরা

সোমবার থেকে লকডাউন শিথিলের ইঙ্গিত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর

সোমবার থেকে লকডাউন শিথিলের ইঙ্গিত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর
আগামী সোমবার থেকে বৃটেনে শিথিল হতে পারে লকডাউন। বুধবার পার্লামেন্টে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।
তিনি আরও জানান, করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) আক্রান্ত শনাক্তে চলতি মাসের শেষের দিকে প্রতিদিন ২ লাখ করে পরীক্ষার লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কাজ করছে তার সরকার। খবর-দ্য গার্ডিয়ান।
বৃহস্পতিবার লকডাউন পর্যালোচনা করার কথা রয়েছে জনসন সরকারের। তবে জনসন জানিয়েছেন, ওই পর্যালোচনার উপর ভিত্তি করে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়মে পরিবর্তন আনা হতে পারে। তিনি আরও জানান, লকডাউন প্রত্যাহার নিয়ে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সে একটি বিতর্কের আয়োজন করা হবে। জনসন আরও জানান, চলতি মাসের শেষের মধ্যে প্রতিদিন দুই লাখ করে করোনা পরীক্ষা করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে তার সরকার।
পূর্বে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, তারা দিন প্রতি ১ লাখ করে পরীক্ষা করছেন। তবে বিরোধীদের দাবি, সম্প্রতি পরীক্ষার হার ১ লাখের নিচে নেমে এসেছে।
খবরে বলা হয়, গত মাসে করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন  বরিস জনসন। সুস্থ হওয়ার পর বুধবার প্রথমবারের মতো পার্লামেন্টে আইনপ্রণেতাদের প্রশ্নের সম্মুখীন হন তিনি। তিনি জানান, আগামী সোমবার থেকে দেশে করোনা সংক্রমণ রোধে জারি লকডাউন পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আনার কথা চিন্তা করছেন তিনি। আগামী রবিবার এ নিয়ে একটি বিবৃতি দেবেন তিনি।

বাহরাইনে বাড়ছে করোনার ঝুঁকি, আক্রান্ত ৪১০ বাংলাদেশি

বাহরাইনে বাড়ছে করোনার ঝুঁকি, আক্রান্ত ৪১০ বাংলাদেশি
ফাইল ছবি



বাহরাইনে ধীরে ধীরে বাড়ছে বিশ্বব্যাপী আলোচিত করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি। প্রথমদিকে দেশটিতে সংক্রমনের পরিমান কম হলে ও বর্তমানে ছাড়িয়ে যাচ্ছে অতীতের সেই সীমা। ভাইরাসটি দিন দিন ছড়িয়ে পড়ছে দেশটির অভিবাসী শ্রমিকদের মাঝে। ইতোমধ্যে আক্রান্তের বেশীর ভাগ অভিবাসী শ্রমজীবী।
তবে আশার দিক হল আক্রান্তের পাশাপাশি সুস্থ হচ্ছে অসুস্থতার সমানভাবে এবং মৃত্যুর হার সর্বনিম্নে। এছাড়া চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করছে বাহরাইন সরকার এবং কর্মহীন অসহায়দের দিয়েছেন নিরাপদ বাসস্থান। চিকিৎসা সেবা জোরদারে ডাক্তার, নার্স এবং চিকিৎসা পেশাদারসহ আরও ১ হাজার ৫০০ লোককে মেডিকেল রিসার্চ ফর ক্রাউন প্রিন্স সেন্টারে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
করোনার সংকটময় এ পরিস্থিতিতে অবৈধরা সব ধরনের সুবিধা দিতে ঘোষণা করেন সাধারণ ক্ষমার। গতকাল বুধবার (৬ মে) দেশটিতে নতুন করে আক্রান্ত ২১৪ জনসহ মোট আক্রান্ত হয়েছে ৩৯৩৪ জন। এর মধ্যে সুস্থ্য হয়ে ফিরে যায় ১৮৬০ জন ও  চিকিৎসাধীন রয়েছে ২০৬৬ জন। গত দুই দিনে ৯৬ জনসহ এ পর্যন্ত মোট বাংলাদেশিদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪১০ জনে। এছাড়া এ পর্যন্ত এ ভাইরাসে ৫৭ জন স্বাস্থ্য কর্মী বাহরাইনে সংক্রামিত হয়েছে।  তবে সবাই স্থিতিশীল আছে বলে গতকাল স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন কর্ণেল ডাঃ মানাফ আল কাহতানি। নতুন করে কোন মৃত্যু ছাড়া করোনার উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যু বরণ করেছে ৮ জন এবং বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছে ৪ জন। শুরু থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের দেয়া কিছু নির্দেশনা ও আংশিক লকডাউনের মধ্য দিয়ে চলছে এখানকার জনজীবন।
ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব রোধে সচেতনতা, সামাজিক দূরত্ব, ফেইস মাস্ক ও জনসমাগমকে বিশেষ গুরুত্ব দিলেও বেশীরভাগ লোক তা মানতে দেখা যায়নি। যার ফলে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অভিবাসী শ্রমিকদের মাঝে। এ ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়ায় লকডাউন করে দেয়া হয় দেশটির বিভিন্ন এলাকার বেশ কত গুলো ভবনকে। যাতে অন্যান্য দেশের নাগরীকদের সাথে শত শত বাংলাদেশিরা রয়েছে।
খাদ্যসহ নানা সংকট সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। আজ বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে সেই আংশিক লকডাউনের দ্বিতীয় মেয়াদ। একই দিন স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭ টা থেকে নির্দিষ্ট কিছু ব্যাবসা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ছাড়া উন্মুক্ত করে দিয়েছে সকল বাণিজ্যিক ও শিল্পের দোকান গুলো। রয়েছে কিছু শর্ত। শুরু থেকে ঢিলেঢালা আংশিক এ লকডাউনে নিয়ন্ত্রণে আসছেনা করোনার সংক্রামন। এ পরিস্থিতিতে প্রবাসীরা মনে করেন, জীবনও জীবিকা দু'টি একসাথে চলতে দেয়া এ সিদ্ধান্তটি হতে পারে আগামী দিনের জন্য একটি ঝুঁকি পূর্ণ সিদ্ধান্ত।

বিডি-প্রতিদিন/সিফাত আব্দুল্লাহ

কুয়েতে বিভ্রান্তি ছড়ানোর দায়ে বিচারের কাঠগড়ায় ৪৬ ওয়েবসাইট

কুয়েতে বিভ্রান্তি ছড়ানোর দায়ে বিচারের কাঠগড়ায় ৪৬ ওয়েবসাইট
কুয়েতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটি। মাহবুল্লাহ ও জীলিব আল সুয়েখ দু'টি অঞ্চল লকডাউনসহ দৈনিক ১৬ ঘণ্টা (বিকাল চারটা থেকে সকাল আটটা পর্যন্ত) জরুরি অবস্থা অব্যাহত রয়েছে।
এসময়ে বিভিন্ন মিথ্যা বানোয়াট ভুল তথ্য প্রচার করে জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হস্তে দমনের আদেশ দেয়া হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনকে।
বৃহস্পতিবার দৈনিক আরব টাইমসে এক সংবাদে প্রকাশিত তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাবরী ঘোষণা করেছেন, আইনের বিধান লঙ্ঘনের কারণে ৬ টি নতুন নিউজ ওয়েবসাইট পাবলিক প্রসিকিউশনকে রেফার করা হয়েছে। গত সপ্তাহে করোনভাইরাস সংকট শুরুর পর থেকে অসত্য সংবাদ প্রচার এবং আইন ভঙ্গ করার কারণে প্রায় ৪০টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ওয়েবসাইট পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছে বিচারের জন্য রেফার করেছিল।
এই বিষয়ে কঠোর নজরদারিতে আছে এখানকার সকল সোশ্যাল মিডিয়া ও ওয়েবসাইট সমুহ। সূত্র: আরব টাইমস।

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন

আইসিসিবির হাসপাতাল কাল উদ্বোধন

আইসিসিবির হাসপাতাল কাল উদ্বোধন
করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) আক্রান্তের চিকিৎসায় ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) নির্মিত হাসপাতালটি উদ্বোধনে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সেই হিসেবে আগামীকাল শনিবার দুপুর ১২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, দেশের দুর্যোগের সময় দ্রুততার সঙ্গে নির্মিত বৃহত্তম এ হাসপাতালটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে উদ্বোধন করবেন। উল্লেখ্য, কভিড-১৯ বিপর্যয় শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং সরকারের যত দিন ব্যবহারের প্রয়োজন শেষ না হবে তত দিন বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে আইসিসিবিকে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়েছে। বসুন্ধরার কাছ থেকে আইসিসিবির সব স্থাপনা বুঝে নিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপ দিতে গত ১২ এপ্রিল কাজ শুরু করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর (এইচইডি)। গতকাল এইচইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলম বলেন, হাসপাতালের অবকাঠামোগত কাজ আমরা শতভাগ শেষ করেছি। এখানে পরিচালক, সহকারী পরিচালক নিয়োগ হয়েছে। এখন উনাদেরকে হাতে হাতে সবকিছু বুঝিয়ে দেব। স্বাস্থ্য অধিদফতর যখন মনে করবে, তখন চালু করবে। অফিস থেকে জানতে পেরেছি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ৯ মে দুপুর ১২টায় হাসপাতালটি উদ্বোধনের দিনক্ষণ ঠিক করেছে। আমরা সেই অপেক্ষায় আছি এবং শতভাগ প্রস্তুত আছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা যতটুকু শুনেছি ডাক্তার-নার্স নিয়োগ হয়ে গেছে। কী কী সহায়ক জনবল দরকার সেটা নিয়োগ দিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব এখন স্বাস্থ্য অধিদফতরের। আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দুজন কর্মকর্তা অনানুষ্ঠানিক সফরে হাসপাতালটি ঘুরে গেছেন। আমরা তাদেরকে সবকিছু দেখিয়েছি। তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ধারণা করছি, প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে হাসপাতালটি উদ্বোধন করতে পারেন। উদ্বোধনের ব্যাপারে জানতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমানের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ৯ মে (শনিবার) দুপুর ১২টায় উদ্বোধনের দিনক্ষণ ঠিক করা হয়েছে। কে উদ্বোধন করবেন সেটা এখনো ঠিক হয়নি। মন্ত্রী মহোদয় পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি ঠিক করবেন। আইসিসিবির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এম এম জসীম উদ্দিন গতকাল বিকালে বলেন, ৯ মে উদ্বোধনের কথা মৌখিকভাবে শুনেছি। তবে এখনো চিঠি পাইনি। এর আগে ৪ মে উদ্বোধনের একটা তারিখ পেয়েছিলাম। তবে সেটা হয়নি। তাই চিঠি না পেয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছি না। উল্লেখ্য, করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দিতে সরকারকে আইসিসিবিতে ৫ হাজার শয্যার একটি সমন্বিত অস্থায়ী হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের  চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মতি দিলে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল পরিদর্শন করে হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। নানা হিসাব-নিকাশ শেষে সেখানে ২ হাজার ১৩ শয্যার হাসপাতাল ও ৭১ শয্যার আইসিইউ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য অধিদফতর। আইসিসিবির সুবিশাল চারটি কনভেনশন হল ও একটি এক্সপো ট্রেড সেন্টারে দেশের অন্যতম বৃহৎ এ হাসপাতালটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে সরকারের স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর।

আলো ছড়াচ্ছে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল

আলো ছড়াচ্ছে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল
২৫০ শয্যার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে সাধারণ সময়ে রোগী ভর্তি থাকে ১৫০ থেকে ১৮০ জন। প্রতিনিয়তই সঙ্গী হয়ে থাকে জনবল ও চিকিৎসা উপকরণ সংকট। হাসপাতালের অবকাঠামো রোগীবান্ধব না হওয়ায় ভোগান্তি পোহাতে হয় রোগী ও স্বজনদের। অথচ চট্টগ্রামের দ্বিতীয় বৃহত্তম সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি করোনাভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসায় আশার আলো দেখাচ্ছে। আক্রান্তদের চিকিৎসায় এ হাসপাতালে প্রস্তুত করা হয় ১০০ শয্যা। নতুন করে স্থাপন করা হয় ১০ শয্যার আইসিইউ। যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় আছে আরও আটটি শয্যা। ফলে ক্রমে রোগীদের আস্থা ও নির্ভরতা তৈরি হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির ওপর। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দেশের সর্বকনিষ্ঠ রোগী ১০ মাস বয়সী শিশু আবিরও জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১২ দিন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরে। ফলে করোনা চিকিৎসায় আশার আলো ছড়াচ্ছে সরকারি এই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি। হাসপাতালসূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মার্চ জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা শুরু হয়। ইতিমধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৩ জন। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ ছিল ২৭ জনের। বর্তমানে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন ৬০ জন। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ ৪৬ জন (পুরুষ ৩৩, মহিলা ১৩)। বাকি ১৪ জন সন্দেহজনক রোগী হিসেবে ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন। তা ছাড়া বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন পাঁচজন, কেবিনে তিনজন। অন্যদিকে, আইসোলেশন ওয়ার্ডে সেবা দেওয়ার জন্য চিকিৎসকদের নিয়ে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও মেডিকেল অফিসারের সমন্বয়ে নয়জনের তিনটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি টিম টানা ১০ দিন দায়িত্ব পালন করে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকবে।
এরপর ছয় দিন বাসায় থাকবে। একইভাবে ছয় সদস্য করে নার্সেরও তিনটি টিম গঠন করা হয়েছে। তারাও ১০ দিন কাজ করে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকছেন। চিকিৎসক-নার্সদের কোয়ারেন্টাইনে সরকারি আঞ্চলিক লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১২ ও বেসরকারি দুটি হোটেলে ৩৭টি কক্ষ বরাদ্দ আছে।
জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার নাথ বলেন, ‘আমরা বিদ্যমান জনবল দিয়ে রোগীদের সেবায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। গতকাল পর্যন্ত ৫৩ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। সুখের কথা, ১০ মাস বয়সী শিশু আবিরও এখানে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছে। এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন সাতজন চিকিৎসক। কিন্তু প্রতিদিন রোগী বাড়ছে, তাই আমাদের দায়িত্বও বাড়ছে।’ জানা যায়, চট্টগ্রামে বর্তমানে করোনা আক্রান্ত রোগী ১১৬ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন নয়জন। তবে গতকালই প্রথম একজন রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্তদের দ্বিতীয় চিকিৎসা কেন্দ্র হলো ফৌজদারহাটের বিটিআইটিআইডি। তা ছাড়া নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে বিটিআইটিআইডি ও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে। তবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবে আজ (বৃহস্পতিবার) করোনা নমুনা পরীক্ষা শুরু করার কথা।

কৃষকের মুখে হাসি হাওরে

কৃষকের মুখে হাসি হাওরে
হাওরের ঘরে ঘরে নতুন ধান নিয়ে ব্যস্ততা। কিশোরগঞ্জ থেকে তোলা ছবি -বাংলাদেশ প্রতিদিন
শঙ্কা থাকলেও হাওরে স্বস্তি ফিরেছে। একমাত্র ফসল বোরো ধানের সিংহভাগই কাটা হয়ে গেছে। কৃষকের মুখে হাসি ফিরেছে। এবার বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। ছাড়িয়ে গেছে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা। হাওরজুড়ে এখন কেবলই স্বস্তির নিঃশ্বাস।
বোরো ধান হাওরের একমাত্র ফসল। প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করেই কৃষককে এ ধান ঘরে তুলতে হয়। বরাবরের মতো এবারও ছিল আগাম বন্যার পূর্বাভাস। এর সঙ্গে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছিল মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। পাশাপাশি সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, মৌলভীবাজারসহ দেশের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের কোথাও ছিল না ধান কাটার শ্রমিক। সাধারণত দেশের উত্তরাঞ্চলের শ্রমিক হাওরাঞ্চলের ধান কাটে। এবার দেশজুড়ে লকলাউন থাকায় শ্রমিকদের যাতায়াতের কোনো সুযোগ ছিল না। এ ছাড়া তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ছিল। এ কারণে শ্রমিকরা কাজে আগ্রহী ছিল না। এর মধ্যে ছিল আগাম বন্যার পূর্বাভাস। স্বাভাবিকভাবেই হাওরের কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। কারণ ধানই তাদের অর্থকরী ফসল। আবার দেশের সিংহভাগ ধান উৎপন্ন হয় হাওরে। এই ফসলহানি হলে দেশে খাদ্যাভাব দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ অবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় কৃষকদের সহায়তায় এগিয়ে আসে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রশাসনের সহায়তায় সারা দেশ থেকে হাওরে শ্রমিক পাঠানো হয়। কৃষি বিভাগ কৃষকদের কাছে স্বল্পমূল্যে ‘হারভেস্টার মেশিন’ বিতরণ করে। ছাত্রলীগ, কৃষক লীগসহ দেশের যুব সম্প্রদায় এবং কোথাও কোথাও পুলিশ ও আনসার বাহিনী কৃষকদের ধান কেটে দেয়। কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক হাওরাঞ্চলের জেলাগুলো সফল করে কৃষকদের ধান কাটা সরাসরি তত্ত্বাবধান করেন। ফলে এরই মধ্যে হাওরের ৯৫ ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে। দু-এক দিনের মধ্যে শতভাগ ধান কাটা হয়ে যাবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, হাওরাঞ্চলের চার জেলা নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে ৫ লাখ ৬২ হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়। এতে প্রায় ৩৫ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন। আমাদের নেত্রকোনা প্রতিনিধি আল্পনা বেগম জানান, নেত্রকোনায় এবার করোনার প্রভাবে দেখা দেয় মারাত্মক শ্রমিক সংকট। ফলে দুশ্চিন্তায় পড়েন কৃষক। জেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন হাওরের ফসল রক্ষায় এগিয়ে আসে। সরকারের ভর্তুকিতে হারভেস্টার মেশিন পাওয়ায় এবং বাইরের জেলার শ্রমিক আনায় ধান কাটার সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়। ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গে হাওর থেকেই দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করে দিয়েছেন কৃষকরা। অনেকেই ঋণ করে ফসল করায় ফসল ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই ঋণের টাকা পরিশোধ করতে হয়। তাই ৫০০ টাকা মণ দরে অনেক কৃষক ধান বিক্রি করেছেন। যে সব এলাকায় রাস্তা নেই সে সব স্থানে পানির দরেই ধান বিক্রি হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক হাবিবুর রহমান জানান, এ বছর জেলায় ১ লাক ৮৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে আবাদ হয় ৪০ হাজার ৮৬৫ হেক্টর। হাওরাঞ্চলের ধানের ৯৯ ভাগ অর্থাৎ ৪০ হাজার ৬০০ হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। একেবারে কাঁচা থাকায় ২০০ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্ভব হয়নি। সমতলে ২৭ ভাগ অর্থাৎ ৩৯ হাজার ৩৭৫ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়ে গেছে। সার্বিকভাবে বললে ৪৩ ভাগ অর্থাৎ হাওরেরসহ মোট ৮০ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা হয়ে গেছে। তিনি জানান, হাওরের জন্য প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক আনা হয়েছিল বাইরের জেলা থেকে। তারা সবাই চলেও গেছে। পরের ধাপে আরও সাতশ শ্রমিক ছিল। তাদেরকেও পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে জেলায় শ্রমিক কাজ করেছে প্রায় ৩০ হাজার। এর সঙ্গে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দুই ধাপে হাওরে ৬৫টি হারভেস্টার মেশিন নামানো হয়েছিল। শ্রমিক ছিল হাওরে ১২ হাজার।
হাবিবুর রহমান আরও জানান, ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে শুধু মাত্র হাওরে আড়াই লাখ মেট্রিক টন ধান হয়েছে। জেলায় চালের চাহিদা রয়েছে ৩ লাখ মেট্রিক টন। জেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুরাইয়া আক্তার জানান, জেলায় এ বছর কৃষকদের কাছ থেকে ১৫ হাজার ৬৮০ মেট্রিক টন ধান এবং মিলারদের কাছ থেকে ৩৬ হাজার ৫২৪ মেট্রিক টন চাল কিনবে সরকার।
জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম জানান, আশা করা হচ্ছে, বাকি ধানগুলোও কেটে ফেলা সম্ভব হবে। তবে এবার বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকরা খুশি বলে জানান তিনি। পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুনসী জানান, এ বছর সংকট মোকাবিলায় নিয়ম মেনেই বাইরের জেলার শ্রমিকদের আমরা এলাকায় ঢুকতে দিয়েছি। তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তদারকির মাধ্যমে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
আমাদের সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি মাসুম হেলাল জানান, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাপিয়ে দেশে ১৩ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি ধান জোগান দিতে যাচ্ছে হাওর অধ্যুষিত জেলা সুনামগঞ্জ। ইতিমধ্যে জেলায় ৭৮ ভাগ বোরো ফসল ঘরে তুলেছেন কৃষকরা। এবার ধান কাটতে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি ছিল। লকডাউন থাকায় শুরুর দিকে সংকট ছিল ধানকাটা শ্রমিকের। সংকট দূর করতে বাইরের জেলা থেকে নিয়ে আসা হয় প্রায় সাড়ে ১০ হাজার শ্রমিক। কৃষি বিভাগ জানায়, সুনামগঞ্জে এবার দুই লাখ ১৯ হাজার তিনশ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। ১২ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ফলন বাম্পার হওয়ায় আরও এক লাখ মেট্রিক টন বেশি উৎপাদনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মো. সফর উদ্দিন জানান, এই মৌসুমে আগাম বন্যার পূর্বাভাস ছিল। কিন্তু তা কেটে গেছে। অনুকূল আবহাওয়া ও সরকারের কৃষিবান্ধব উদ্যোগের ফলে এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করার প্রত্যাশা করছি। হাওরে কাটা হয়েছে ৯১ ভাগ ধান। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে হাওরের শতভাগ ফসল কেটে নিয়ে আসা সম্ভব।
করোনা পরিস্থিতির মাঝে হাওরের ধান কৃষক যাতে নির্বিঘ্নে ঘরে তুলতে পারেন সেই লক্ষ্যে প্রশাসন নানামুখী উদ্যোগ নেয়। করোনাকালে হাওরে ধান কাটলে ত্রাণ মিলবে- এমন ঘোষণা দেয় জেলা প্রশাসন। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে ধান কাটা শ্রমিক যাতে অবস্থান করতে পারেন সেজন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আগাম বন্যার পূর্বাভাসের জারি হওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে ধান কাটার উদ্বুদ্ধ করা হয় কৃষকদের। জেলায় ভর্তুকি মূল্যে ৪৮টি হারভেস্টার মেশিন কৃষকের কাছে বিতরণ করা হয়।
গত সপ্তাহে ধান কাটার অগ্রগতি দেখতে সুনামগঞ্জ সফর করেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থা বলেছে, করোনার প্রভাবে পৃথিবীর অনেক দেশে খাদ্য উৎপাদন হ্রাস পাবে। সে কারণে খাদ্য সংকট তৈরির পাশাপাশি কোনো কোনো দেশে দুর্ভিক্ষও দেখা দিতে পারে। এ বিবেচনায় সরকার কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। কৃষি খাতে সর্বোচ্চ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। কৃষি ঋণের সুদের হার শতকরা ৯ ভাগ থেকে ৪ ভাগে নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, বাংলাদেশের এক ইঞ্চি জমি যেন পতিত না থাকে। আমরা ধান-চালে উদ্বৃত্ত রয়েছি। সংকটকালে সেই উদ্বৃত্ত খাবার পৃথিবীর অনাহারী মানুষের মুখে তুলে দিতে চাই।
আমাদের কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি সাইফউদ্দীন আহমেদ লেনিন জানান, কিশোরগঞ্জের হাওরে শ্রমিক সংকটের যে আশঙ্কা করা হয়েছিল, তা কেটে গেছে প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিকের ভূমিকায়। হাওরের ২৪টি ইউনিয়নে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ধান কাটায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। হাওরে ধান কাটা এখন শেষপর্যায়ে। কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, হাওরে এবার বোরো আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ২৪৫ হেক্টর জমি। এর মধ্যে বুধবার পর্যন্ত ৯২ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। হাওরে ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৭০ হাজার ৪৭১ মেট্রিক টন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সাইফুল আলম জানান, দ্রুততার সঙ্গে ধান কাটার জন্য সরকারিভাবে জেলায় ৩১টি হার্ভেস্টার যন্ত্র কৃষকদেরকে দেওয়া হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক হাজার শ্রমিক হাওরে আনা হয়। তিনি জানান, ফলন ভালো হওয়া, কীটপতঙ্গের আক্রমণ না হওয়া এবং সঠিক সময়ে ধান কাটতে পারায় এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।
রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক এমপি বলেন, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের দিয়ে ২৪টি ইউনিয়নে ধান কাটায় কমিটি করে দিয়েছি। এ ছাড়া যুবলীগ, কৃষক লীগের নেতা-কর্মীরাও আমার সঙ্গে ধান কাটছেন।
আমাদের মৌলভীবাজার প্রতিনিধি সৈয়দ বয়তুল আলী জানান, গ্রামের কিষান-কিষানিদের এখন ব্যস্ত সময়। তাদের দম ফেলার সময় নেই। ধান কাটার ধুম পড়েছে। এ অঞ্চলের মানুষের একমাত্র সম্পদ হাওর। এখানকার মানুষের নির্ভরশীলতা হাওরের ফসলের ওপর। সারা বছরের খোরাকি এবং সব ব্যয় চলে ধান দিয়ে। কৃষকরা ধার-দেনাও মেটান ধান বিক্রি করে। জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হয়েছে। হাকালুকি হাওর পাড়ের ভুকশিমইল ইউনিয়নের কৃষক হায়দর আলী, জিতু মিয়া ও গিয়াস মিয়া বলেন, সময়মতো পানি দিতে না পারায় অর্ধেক ধানে ছিটা পড়েছে। বোরো চাষাবাদ করে এবার বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছে। স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সূত্রমতে, জেলায় ছয়টি হাওর রয়েছে। হাওরগুলোর মধ্যে হাকালুকি হাওরে ২৬ হাজার ৭৫৪ হেক্টর, হাইল হাওরে ১২ হাজার ৫২৪ হেক্টর, কাউয়াদীঘি হাওরে ৭ হাজার ৫৪৫ হেক্টর, বড় হাওরে ১ হাজার ২৯০ হেক্টর, কেওলা হাওরে ৪৫০ হেক্টর, করাইয়া হাওরে ২৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে।
মৌলভীবাজার কৃষি অধিদফতরের উপপরিচালক কাজী লুৎফুল বারি বলেন, এ বছর তাদের বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৩ হাজার ৫০০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৫৩ হাজার ৫৩০ হেক্টর। এর মধ্যে হ্ওারে ৪৮ হাজার ৪২৩ হেক্টর ও বাকিগুলো উঁচু জায়গাতে আবাদ হয়েছে। শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশ্রিদুন এলাকায় শিলা বৃষ্টিতে প্রায় ২০০ কৃষকের ধান নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আমন চাষাবাদের জন্য ৫ কেজি করে বীজ দেওয়া হয়। যে সব কৃষকের ধানে ছিটা ধরে নষ্ট হয়েছে তাদের কোনো সহায়তা দেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সার্বিকভাবে খারাপ হয়েছে, এটা বলা যাবে না। তবে কিছু জমিতে ছিটা ধরেছে। এটা আমাদের চোখে পড়েছে। আর এই চিত্র সবসময় থাকে। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার ধানের দাম বেশি থাকায় কৃষকরা অনেকটা লাভবান হবেন।