Monday, April 13, 2020

এই প্র‌শ্নগু‌লোর উত্তর কে দি‌বে?

আজকে আপনাদের মাথা গরম।   আপনাদের ব্যর্থতার দায় চিকিৎসকদের উপর চাপাতে চাচ্ছেন। উপায় না দেখে চিকিৎসকদের বরখাস্ত করছেন। চিকিৎসকদের মোটিভেশন না করে মানসিক চাপে রাখছেন। ৬২১ জন কোভিড-১৯ রোগী দেখেই আপনারা মানসিক ভাবে কলাপস করেছেন। ইতালীতে যখন ৮০ হাজার রোগী হল তখনও ইতালী মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েনি ।বাংলাদেশে কোভিড-১৯ আক্রান্ত ৩৪জন  রোগী মারা গেছেন আর আক্রান্তের সংখ্যা ৬২১ জন।  এই দায় কার? আপনার মনে কখনো প্রশ্ন জাগে কিনা জানিনা,   আমার জাগে।
যারা হেলথ সার্টিফিকেট ছাড়া ইতালী প্রবাসী নাগরিকদের দেশে আসার পারমিশন দিয়েছেন, তারা আজকের এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী নয় কি?

আমি হলফ করে বলতে পারি ইতালি,জার্মানি থেকে যেসব প্রবাসীদের দেশে ফিরিয়ে এনেছেন, তাদেরকে না আনলে আজকে বাংলাদেশে একজন করোনা আক্রান্ত রোগী খুঁজে পাওয়া যেত না । চীন থেকে যারা এসেছে সবাইকে নিয়মতান্ত্রিক ভাবে কোয়ারেন্টিনে রেখে তারপর বাসায় যেতে দিয়েছেন।  আর যারা ইতালী বা জার্মানি থেকে এসেছে তাদেরকে আপনারা কোয়ারেন্টিনে না রেখে ঐদিনই বাসায় যেতে দিয়েছেন।

যেদিন ৪৮২ জন ইতালী প্রবাসী নাগরিক বাংলাদেশে আসল সেদিন রাতে  স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক  হজ্বক্যাম্পে এসে বললেন  প্রবাসীদের যখন বললাম, তোমরা বাসায় গিয়ে কোয়ারেন্টিনে থাকবে, ওরা খুশি হয়েছে এবং বাসায় গিয়ে তারা কোয়ারেন্টিন পালন করবে বলে কথা দিয়েছে । অথচ তারা কোয়ারেন্টিনে থেকে বিয়ে করল, শশুর বাড়ি বেড়াতে গেল,  সামাজিক সমাবেশ করল।
তাদেরকে আসলেই সঠিকভাবে কাউন্সিলিং করা হয়েছিল?  সেই দায়ভার কি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক নিবে?

আপনারা তাদের ছেড়ে দিলেন মানে আপনারা করোনা ভাইরাসকে মুক্ত করে দিলেন। এই ৩৪ জন বাংলাদেশের মানুষ মারা গেছেন শুধু আপনাদের দূরদর্শিতার অভাবে।  আপনাদের হয়ত এদেশে বিচার হবেনা,  কিন্তু নিজের বিবেকের কাছে আপনারা অপরাধী। বিবেকবানদের বিবেকের কাছে  আপনারা খুনি, অপরাধী।

লক ডাউন করতে এত দেরীতে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটার দায়ভার কি জনগণ নিবে? নেপালের মত পর্যটন নির্ভর একটি দেশ রোগী শনাক্ত হওয়ার আগেই লকডাউন করে দিয়েছে। অথচ আমরা   বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ প্রবাসীদের আসতে দিয়েছি। কোন কোয়ারেন্টিনে রাখিনি।কোন কাউন্সিলিং করিনি।  এই আত্তাহুতির দায় কে নিবে?

পর্যাপ্ত কিট নাই,  শুধু একটি সেন্টারে পরীক্ষা করিয়েছেন, একটি হাসপাতাল রেডি রেখে বলেছেন পাঁচটি হাসপাতাল রেডি আছে।  কোন প্রস্তুতি না নিয়েই আপনারা আগেই বলে আসছেন আপনারা প্রস্তুত।   কোথায় আপনাদের প্রস্তুতি? জীবন দিয়ে আপনাদের মিথ্যাচারের মাশুল দিতে হল এই দেশের সাধারন জনগণকে।

জনগণ কোথায় করোনার চিকিৎসা নিবে, সেটা জনগণকে এতদিনে শিখাতে পারেননি।শ্বাসকষ্ট ও জ্বরের রোগী যাওয়ার কথা কুর্মিটোলা ও কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ও অন্যান্য করোনা কেয়ার হাসপাতালে । অথচ যাচ্ছে দেশের সকল হাসপাতালে। হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসক ও অন্যান্য রোগীদের মধ্যে রোগ ছড়াচ্ছে।  তাদেরকে অ্য‌াম্বুলেন্স দিয়ে বাসা থেকে নিয়ে আসার কথা,  তারা যাচ্ছে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে।সেই সুবাদে  পাবলিকদের রোগ ছড়াচ্ছে। এই দায় কার?  এই দায় কি চিকিৎসকের? লক ডাউন করছেন। কিন্তু জনগণকে বাসায় রাখতে পারছেন না, এই দায়ভার কার? এই দায়ভার কি চিকিৎসকরা  নিবে?
যেদিন পর্যন্ত করোনা রোগী ধরা পড়েছে ১৬৪ জন, চাল চোর ধরা পড়েছে ২০৪ জন। এই দুঃসময়ে যারা দুর্নীতি করছে তাদের দায়ভার কে নিবে?  সকল দায় কি জনগণের বা চিকিৎসকদের নাকি রাষ্ট্র তার ভুলের দায়ভার কিছুটা হলেও নিবে? এই  প্রশ্নগু‌লোর উত্তর কে দি‌বে?


(লেখক, মেডিক্যাল অফিসার ও রেসিডেন্ট
কার্ডিওলজি বিভাগ,  বিএসএমএমইউ। লেখা‌টি তার ফেসবুক টাইমলাইন থে‌কে সংগৃহীত)

No comments:

Post a Comment