Monday, April 20, 2020

আশার আলো দেখাচ্ছে ফিল্ড হাসপাতাল চট্টগ্রাম

আশার আলো দেখাচ্ছে ফিল্ড হাসপাতাল
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের এমন দুঃসময়ে চট্টগ্রামে আশার আলো দেখাচ্ছে নবনির্মিত 'ফিল্ড হাসপাতাল'। চট্টগ্রামের করোনা রোগীদের জন্য প্রথমবারের মতো সীতাকুণ্ডের ছলিমপুরে গড়ে তোলা হয়েছে অত্যাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন নতুন এ হাসপাতালটি। ৬ হাজার ৮০০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে নির্মিত এ হাসপাতালে থাকছে ১০ শয্যার আইসিইউ সুবিধাসহ ৫০টি শয্যা। দায়িত্ব পালন করবেন ১০ সদস্যের চিকিৎসক টিম। সহায়তা করতে রাখা হয়েছে ১০০ জনের একটি স্বেছাসেবক টিম। রোগীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে এখানে। হাসপাতালটি নির্মাণে এক লাখ মানুষের কাছ থেকে অনুদান হিসেবে ১০০ টাকা করে সংগ্রহ করা হয়।

আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের শিক্ষক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বিদ্যুৎ বড়ূয়ার নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে থাকা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার ইচ্ছা থেকেই এ বিশেষায়িত হাসপাতালটি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। মানুষের কাছ থেকে অনুদান নিয়ে এ হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়। চট্টগ্রামের সন্তান ডা. বিদ্যুৎ বড়ূয়ার উদ্যোগে ও নাভানা গ্রুপের সহায়তায় বেসরকারিভাবে করোনা রোগীদের জন্য বন্দরনগরীতে এটিই একমাত্র হাসপাতাল। চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি প্রতিনিধি দল গত রোববার চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালটি (সিএফএইচ) পরিদর্শন করে। কম সময়ে হাসপাতালটি নির্মিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, 'বৈশ্বিক এ ক্রান্তিকালে মানবিক এই খরার মধ্যে মানবতার ব্রত নিয়ে করোনা রোগীদের জন্য অত্যাধুনিক ফিল্ড হাসপাতাল গড়ে তোলায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত। সত্যিই এটি একটি সময়োপযোগী সাহসী পদক্ষেপ। শুধুমাত্র সাহসকে পুঁজি করে জাতির চরম স্বাস্থ্য-সংকটেও একটি হাসপাতাল দাঁড়িয়ে যেতে পারে, উদ্যোক্তারা সেটি প্রমাণ করেছেন। এর সঙ্গে জড়িতদের আমি সাধুবাদ জানাই।' হাসপাতালের উদ্যোক্তা ডা. বিদ্যুৎ বড়ূয়া বলেন, 'করোনা আক্রান্ত রোগীদের মানসিক চাপ কমিয়ে স্বস্তি দিতে এ উদ্যোগ। সেবা প্রদানের লক্ষ্যে স্বল্প সময়ে ফিল্ড হাসপাতালটি প্রস্তুত করা হয়েছে। হাসপাতালটি নির্মাণে শিল্প গ্রুপ নাভানা জায়গা ও অবকাঠামো দিয়ে সহায়তা করেছে। আশা করছি, এটির মাধ্যমে এখন থেকে আগের তুলনায় বেশি সংখ্যক নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়া সম্ভব হবে।'

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, দূরত্ব বজায় রেখে বসানো হয়েছে একেকটি শয্যা। বসানো হয়েছে পাঁচটি অত্যাধুনিক ভেন্টিলেটরসহ ১০টি আইসিইউ বেড। শেষ করা হয়েছে প্রযুক্তিগত কাজও। সবই প্রস্তুত; এখন অপেক্ষা শুধু রোগীর। হাসপাতাল-সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন, পরবর্তী সময়ে এখানে আরও পাঁচটি ভেন্টিলেটর ও ১০টি সাধারণ শয্যা বসানো হবে। করোনা শনাক্ত করতে এখানে নমুনাও সংগ্রহ করা হবে। ঢাকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি টিম হাসপাতালটি পরিদর্শন করে গেছে। কয়েকদিনের মধ্যে ঢাকা থেকে আরও একটি টিম আসবে।

No comments:

Post a Comment