প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মোকাবিলায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অনেকেই প্রাকৃতিক উপাদানের দিকে ঝুঁকেছেন। এতে বাজারে মধু, কালিজিরা, আদা, রসুন, লেবুর মতো ঔষধি পণ্যের চাহিদা বেড়েছে বেশ। এতে করে আগের চেয়ে এগুলোর দাম বেড়েছে অনেক। সরবরাহে ঘাটতির কারণে অনেক দোকানে এখন আর মধু বা কালিজিরা পাওয়া যাচ্ছে না।
করোনাভাইরাস মহামারিতে প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। এখন পর্যন্ত এর কোনো ওষুধ বা প্রতিষেধক বের হয়নি। তবে বলা হচ্ছে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি তারা এ ভাইরাসকে প্রতিহত করতে পারছেন। এ জন্য মানুষ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এমন সব খাবার বেশি গ্রহণ করছেন।
ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিষয়গুলোর ব্যাপক প্রচারে এসব পণ্যের আগ্রহও বাড়ছে। বিভিন্ন পোস্টে দেখা যাচ্ছে মধু, কালিজিরা, রসুন, আদা, লেবু খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। কোনো কোনো সংবাদ মাধ্যমেও করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এগুলোর সুফল নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। এমনকি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও এসব খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা অন্য কোনো স্বীকৃত পক্ষ করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক হিসেবে এগুলো কাজ করতে পারে তা বলছে না।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এসব পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। অনেকে আশপাশের দোকানে না পেয়ে অনলাইনে মধু, কালিজিরার অর্ডার করছেন। বর্তমানে আমদানি বন্ধ থাকায় ভারতীয় মধু পাওয়া যাচ্ছে না। দেশি মধুর ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে কালিজিরা ও এর তেল পাওয়া যাচ্ছে সব স্থানে। এখন বাজারে প্রকার ও মানভেদে ৬০০ থেকে ১৪০০ টাকা পর্যন্ত প্রতি কেজি মধু বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে রসুন, আদা ও লেবু মার্চের তুলনায় বর্তমানে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে রমজানে এসব পণ্যের চাহিদা বাড়ে। এবার যোগ হয়েছে করোনা প্রতিরোধের তকমা। গত কয়েক দিনে ভালো মানের রসুনের দর উঠেছে ১৪০ টাকা কেজি। আদার দাম গিয়ে ঠেকেছে ৩০০ টাকায়। প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকায়।
পুরান ঢাকার বংশালের মতি মধুর পরিচালক পাভেল হোসেন বলেন, অন্যান্য বছর রমজানে মধু বিক্রিই হতো না। চলতি বছরে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার বিক্রি করছেন তিনি। নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, শরীয়তপুরসহ অনেক জায়গা থেকে ফোন করে মধু চাচ্ছে; কিন্তু লকডাউনের কারণে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
ময়মনসিংহের সানকিপাড়ার যমযম ফুড প্রডাক্ট প্রধানত কালিজিরা, মধু ও সরিষার তেল সরবরাহ করে। প্রতিষ্ঠানের মালিক খোরশেদ আলম বলেন, হঠাৎ করে কালিজিরা ও এর তেল ও মধুর চাহিদা বেড়েছে। অনেক অনলাইন প্রতিষ্ঠান টেলিফোনে এসব পণ্য কিনছে। এসএ পরিবহনে পাঠাচ্ছে তারা।
রাজধানীর মোহাম্মাদপুরের মোহাম্মাদিয়া হাউজিংয়ের রওজা পিওর ফুডের মালিক রাসেল উজ জামান বলেন, রাজধানীতে ১০ জায়গায় তারা পণ্য বিক্রি করেন। লকডাউনের কারণে ৫ জায়গায় বিক্রি বন্ধ থাকলেও বিক্রি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বলা হচ্ছে- গরম পানির সঙ্গে আদা, রসুন ও মধুর মিশ্রণ, ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসজনিত সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য উপকারী। আদা সাধারণত সর্দি, ফ্লু এবং বিভিন্ন সংক্রামক রোগের চিকিৎসায় সহায়তা করে। এতে বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ রয়েছে, যা ঠান্ডা, ফ্লু ও গলাব্যথা প্রতিরোধ করে।
No comments:
Post a Comment