রাজধানীতে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত সবার দাফন করা হচ্ছে খিলগাঁও তালতলা কবরস্থানে। যতই মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, ততই বাড়ছে এ কবরস্থানে নামহীন কবরের সংখ্যা। এতদিন এ কবরস্থানে কোনো লাশ দাফনের পর কবরে তার নাম-পরিচয় লিখে রাখতেন আত্মীয়-স্বজন। কিন্তু করোনায় যাদের মৃত্যু হচ্ছে, কবরে তাদের নাম-পরিচয়ও থাকছে না। সেখানে কেবল একটি নম্বর দিয়ে রাখছে কবরস্থান কর্তৃপক্ষ।
এদিকে বৃষ্টির কারণে কবরস্থানের পরিবেশও নাজুক হয়ে উঠেছে। বৃষ্টির মধ্যেই চলছে করোনায় মৃতদের কবর খোঁড়া থেকে শুরু করে দাফন কার্যক্রম। তবে মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) খিলগাঁও-তালতলা কবরস্থানের পাশাপাশি রায়েরবাজার কবরস্থানেও করোনায় মৃত ব্যক্তির লাশ দাফনের সুযোগ দিয়েছে।
প্রায় ১৭ বিঘা আয়তনের খিলগাঁও-তালতলা কবরস্থানটি ছিল জলাশয় প্রকৃতির। এলাকাবাসী ময়লা-আবর্জনা ফেলে সেটি প্রায় ভরাট করে ফেলে। পরে এটিকেই কবরস্থানে পরিণত করে ডিএনসিসি। খিলগাঁও তালতলা মার্কেটের উত্তর পাশেই এ কবরস্থানের অবস্থান। এ কবরস্থানেরই এক কোণে ১০ শতাংশ জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে করোনায় মৃতদের দাফনের জন্য। ডিএনসিসি
সূত্র জানায়, তালতলা কবরস্থানে করোনায় মৃতদের দাফন করার সিদ্ধান্ত হওয়ার পর গত ২২ মার্চ থেকে গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ১৯১টি লাশের দাফন হয়। এর মধ্যে কতজন করোনায় মৃত তার কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি। তবে কবরস্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ডিএনসিসির সমাজকল্যাণ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, আগে কবর দেওয়ার পরই স্বজনরা কবরে প্রয়াতের নাম-পরিচয় লিখে ফুল দিয়ে যেতেন। গত প্রায় দেড় মাসে যতগুলো দাফন হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে শুধু একজনের কবরে নাম লেখা আছে। অন্যগুলোর ক্ষেত্রে নম্বর দিয়ে রাখা হয়েছে। তবে কবরস্থানের রেজিস্টারে নম্বর অনুযায়ী নাম-ঠিকানা লিখে রাখা হচ্ছে।
কবরস্থানের এক কর্মচারী জানান, আগে কবর দেওয়ার পরপরই স্বজনরা কবরের রসিদ নিয়ে যেতেন। গত দেড় মাসে একজনও কবরের রসিদ নেননি। আগে কবর দেওয়ার পরপর বেশ কিছু দিন প্রয়াতের স্বজনরা কবরে যেতেন। এখন কেউ যায় না।
এদিকে সম্প্রতি বৃষ্টির কারণে পুরো কবরস্থানই কাদা আর পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। ফলে কবর খোঁড়াই মুশকিল হয়ে পড়ে। দাফনের কাজেও মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়। সম্প্রতি দেওয়া কবরগুলোতেও বিশ্রী অবস্থা তৈরি হয়। এ অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ রায়েরবাজার কবরস্থানেও করোনায় আক্রান্ত নিহতদের দাফনের অনুমতি দিয়েছে। তবে ৩ মে পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত কোনো লাশ রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন হয়নি বলে জানান ডিএনসিসির ভারপ্রাপ্ত মেয়র জামাল মোস্তফা। তিনি বলেন, এখন রায়েরবাজারের কবরস্থানেও লাশ দাফন করা যাবে। খিলগাঁও-তালতলা কবরস্থানের অবস্থা খারাপ হওয়ার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তালতলা কবরস্থানটির সমস্যা সমাধানেরও চেষ্টা চলছে।
ডিএনসিসি সূত্র জানায়, রাজধানীতে ৯টি কবরস্থান রয়েছে। যেগুলোর ছয়টি ডিএনসিসিতে এবং তিনটি ডিএসসিসিতে। এগুলোর মধ্যে আটটি কবরস্থানেই প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫টি লাশ দাফন হয়। সবচেয়ে কম লাশ দাফন হয় খিলগাঁও তালতলা কবরস্থানে। লোকসমাগম কম হওয়ার কারণেই ওই কবরস্থানটিকে করোনায় মৃতদের দাফনের জন্য বেছে নিয়েছিল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। কিন্তু এলাকাবাসী আন্দোলন শুরু করে। কিন্তু ডিএনসিসির কঠোর সিদ্ধান্তের কারণে এলাকাবাসী পিছু হটে। তবে তালতলার পাশাপাশি এখন রায়েরবাজারেও করোনায় মৃতদের দাফনের সুযোগ দেওয়ায় খিলগাঁওবাসী খুশি।
No comments:
Post a Comment