করোনাভাইরাস। ছবি: রয়টার্সযেতে
হয়নি হাসপাতালে। সেবন করতে হয়নি কোনো ওষুধ। শুধু বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে
হালকা গরম পানি ও চা পান করেই করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) জয় করেছে সিনথিয়া
ইসলাম নামের এক কিশোরী। সে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের
বিজরুল গ্রামের আমিনুল ইসলামের মেয়ে। নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার
পরিকল্পনা কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন মণ্ডল প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত
করেছেন।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ এপ্রিল সিনথিয়ার নমুনা পরীক্ষায় করোনা ‘পজিটিভ’ শনাক্ত হয়। এরপর হাসপাতালে না নিয়ে তাকে বাড়িতে আইসোলেশনে রাখা হয়। এই সময় তাদের বাড়ি ছাড়াও আশপাশের কয়েকটি বাড়ি লকডাউন করা হয়। এরপর ২৮ এপ্রিল সিনথিয়ার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার পর প্রথম দফা করোনা ‘নেগেটিভ’ শনাক্ত হয়। ৪ মে দ্বিতীয় দফা নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের ল্যাবে পাঠানো হয়। সেখান থেকে দ্বিতীয় দফা পরীক্ষার প্রতিবেদনে করোনা নেগেটিভ নিশ্চিত করার বিষয়টি বুধবার সন্ধ্যায় জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়কে জানানো হয়। সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে বৃহস্পতিবার সকালে নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরপর দুই দফা করোনা ‘নেগেটিভ’ বলে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। পরে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন মণ্ডল সিনথিয়ার বাড়িতে গিয়ে তাকে সুস্থ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে কিশোরীটির বাড়ি ছাড়াও আশপাশের বাড়ি থেকে লকডাউন প্রত্যাহার করা হয়।
এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, কোনো প্রকার চিকিৎসা এবং ওষুধ ছাড়াই সিনথিয়া করোনাজয় করেছে। তার জন্য হাসপাতাল প্রয়োজন হয়নি। তাকে কোনো ওষুধও খাওয়াতে হয়নি। ১১ বছর বয়সে ওষুধ ছাড়াই করোনাজয় করে সিনথিয়া বিরল উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।
সিনথিয়ার বাবা আমিনুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, তিনি পরিবার নিয়ে রাজধানীর কাফরুল এলাকায় থাকেন। ১৮ এপ্রিল তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকা থেকে নন্দীগ্রামে ফেরেন। ২০ এপ্রিল নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তিনি তাঁর মেয়ে সিনথিয়ার নমুনা দেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এই বয়সে একমাত্র মেয়ে করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু মনোবল শক্ত করে ওকে বাড়িতেই আইসোলেশনে রেখেছিলাম। বাড়িতে রাখলে অন্যরাও আক্রান্ত হওয়ার ভয় ছিল। গত ১৪ দিন তাকে কোনো ধরনের ওষুধও খাওয়াতে হয়নি। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শে নিয়মিত হালকা গরম পানি দিয়ে সে গড়গড়া করেছে। ঘন ঘন গরম পানি আর চা খেয়েছে।এতেই সে সুস্থ হয়ে গেছে।’
No comments:
Post a Comment