Wednesday, July 29, 2020

সুজাপুর জামে মসজিদ ও কবরস্থান-লং জার্নি।


  ্     এই জনপদের অন্যতম প্রাচীন মসজিদ হলো সুজাপুর জামে মসজিদ। সুজাপুর মসজিদের পার্শেই গড়ে উঠা সুজাপুর কবরস্থান- এটিও অনেক পুরনো।  কথিত আছে যে,  যে স্থানে আল্লাহর ঘর নির্মান করা হয়েছে- প্রথম দিকে এখানে খেলার মাঠ ছিলো।   পরবর্তীতে এখানে মসজিদ ও কবরস্থান স্থাপন করা হয়। এই মসজিদ ও কবরস্থান একদিনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।  গ্রামের মুরুব্বীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল  এই মসজিদ ও কবরস্থান। এই গ্রামের মুরুব্বীগণ , যুবক শ্রেনীসহ সকল  বয়সের লোকজন আল্লাহর  ঘর মসজিদকে সহযোগীতা করে আসছেন। আজ মসজিদ কবরস্থান ও ঈদ গাও পাশাপাশি হওয়াতে এর সৌন্দর্য এখন অনেককেই আকৃষ্ট করে তুলছে। আমাদের ঈদগাও এখনো তরুদের অহংকারের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তরুনরা ঈদের নামাজ শেষে সকলকে নিয়ে নানান ছবি তুলে সারা বিশ্বের বাঙ্গালীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে প্রযুক্তির মাধ্যমে। কাজেই সুজাপুর জামে মসজিদ , সুজাপুর কবরস্থান ও সুজাপুর ঈদগাও এখন উপস্থাপন করার হচ্ছে নানানভাবে। আমরা গর্বিত আল্লাহর ঘর মসজিদ ও অনান্য প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে। 
মসজিদের পাশেই কবরস্থান। খুব কম স্থানেই এই উদাহরন রয়েছে। নিয়মিতভাবে পাঁচওয়াক্ত আজান শুনতে পাওয়া যায়। মুসল্লিগণ নামাজ পড়ে মসজিদ  থেকে বের হলেই কবরস্থানে মৃত ব্যক্তিদের জন্য দোয়া করতে পারছেন। শুধু মসজিদের পাশেই কবরস্থান এই সুবিধার জন্য অন্য গ্রামের মানুষগণ এই গ্রামের মসজিদ ও কবর স্থানের সদস্য হওয়ার জন্য সবসময় আগ্রহী হয়ে  থাকেন।  এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।
 প্রতিনিয়ত মসজিদ থেকে এই গ্রামের মুরুব্বীদের জন্য দোয়া করা হচ্ছে। শত শত গ্রামের মুরুব্বীগণ- কারো বাবা, কারো মা , কারো ভাই বোন আত্বীয় স্বজন  শুয়ে রয়েছেন এই কবরস্থানে। 

নিম্নে মসজিদ কবরস্থান ঈদগাও সহ এর সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের খন্ড চিত্র  ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ধরা হলো।


আমাদের মসজিদঃ




                                               ছবিতে সুজাপুর জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা।


টিনের ঘর থেকে গ্রামবাসীর উদ্যোগে পাকা করা হয় মসজিদটি। বর্তমানে মসজিদের সদস্যের সংখ্যা প্রায় ৩০০( তিন শত) । সকলেই মিলেমিশে “মসজিদ আল্লাহর ঘর” মসজিদকে সহযোগীতা করে আসছেন। মূলত গ্রামের পরিবারগুলোর সহযোগীতায় চলছে এই মসজিদ।  ৮৬ শতাংশ জমি রয়েছেন মসজিদ সংলগ্ন এলাকায়। প্রতিক্ষেত্রেই  এই গ্রামের প্রবাসী ভাইয়েরা এগিয়ে আসছেন- সহযোগীতা করছেন। সরকারের অনুনদানও আমার পাচ্ছি।


আমাদের ঈদ গাওঃ

আমাদের ঈদ গাও এখন ঢাকা জেলার মধ্যেই অন্যতম দৃষ্টি নন্দিত ঈদগাও। মসজিদ, ঈদ গাও মাঠ এবং পাশেই কবরস্থান। সিরামিক ইটের তৈরি এই ঈদ গাওয়ের ছবি এখন ভাইরাল হচ্ছে। ঈদের নামাজের পর তরুদের ছবি সম্বিলিত ঈদগাও এখন সাড়া বিশ্বে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এটি এখন আমাদের গর্বের বিষয়। মাটি ভরাট করে করে সংস্কার করে ঈদ গাও মাঠও এখন অনেকটাই গুছানো এবং পরিপাটি। প্রতি বছর ঈদ উল ফিতর ও ঈদ উল আযহার নামাজ  এই ঈদগাও মাঠে গ্রামের  মুসল্লিগণ আদায় করে থাকেন। শহরের বসবাসরত অনেকেই এখন গ্রামে এসে এই ঈদ গাও এ  এসে নামাজে শরীক হন।




                                                 ছবিতে সুজাপুর  ঈদগাও মাঠে ঈদের নামাজের একাংশ।




আমাদের কবরস্থানঃ

 প্রায়  ৪৮ শতাংশ জমির উপর তৈরি করা হয়েছে সুজাপুর কবরস্থান। এই কবরস্থানে শুয়ে আছেন গ্রামের শত শত  মুরুব্বীগণ। কারো বাবা, কারো মা ,কারো ভাই বোন আত্বীয়স্বজন পাড়া প্রতিবেশী। বিগত দিনে মাটি ভরাট করে করে কবরস্থানকে একটি লেভেলে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। উল্লেখ্য কবরের পাশেই এক সময় বিশাল গর্ত ছিলো সেটি ভরাট করা হয়েছে।   কবরস্থান উচু নীচু থাকায়  পর্যায়ক্রমে মাটি ভরাট করে করে একটি লেভেলে নিয়ে আসাতে একের পর এক কবর দেওয়া যাচ্ছে।

কবরস্থানের পশ্চিম পার্শ্বে  প্রবেশ পথে ওয়াল তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে কবরস্থান দুটি ধাপে বিভক্ত। উপরের অংশের সাথে নীচের অংশ ভরাট করে একটি লেভেলে নিয়ে আসতে পারলে কবরস্থানটির আয়তন বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষৎতে কবরস্থান বাউন্ডারীসহ  প্রবেশ পথে গেট তৈরি করে মহিলা , শিশু এবং পুরুষদের আলাদা করে ডিজাইন করে সংকোলনের ব্যবস্থা করা যাবে।



                                                ছবিতে ঈদগাও এর  পাশেই কবরস্থান। সুজাপুর কবরস্থান।


আমাদের মাদ্রাসা ঘরঃ

আমাদর গ্রামের সন্তান প্রবাসী আফজাল হোসেন এককভাবে এই মাদ্রাসার বিল্ডিংটি নির্মাণ করে দিয়েছেন। এটি এই মসজিদ কবরস্থানের শ্রেষ্ঠ অনুদান। আল্লাপাক তাঁর এই দানকে কবুল করে নিন। মাদ্রাসার ছাত্র ছাত্রীরা প্রতিদিন কোরআন শিক্ষা করে দোয়া করতে থাকেন। মসজিদ ভিত্তিক শিক্ষার ক্লাসও এই বিল্ডিং এ করা হয়। মসজিদের মাদ্রাসার ঘর করা নিয়ে যখন হিমশিম অবস্থায় ছিলাম তখন প্রবাসী আফজাল  হোসেন তাঁর স্বপ্নের কথাটি জানান এবং আমরা তাঁর স্বপ্নকে বাস্তবায়নে  সার্বিকভাবে সহযোগীতা করেছি।



                                    ছবিতে গ্রামের কৃতি সন্তান প্রবাসী আফজাল হোসেন এর নির্মিত মাদ্রাসা বিল্ডিং


মসজিদ হতে কবরস্থানে যাতায়াতের রাস্তাঃ

সম্পূর্ন  সরকারী দুটি প্রতিষ্ঠানে অনুদানে এই রাস্তাটি নির্মান করা হয়। ত্রাণ মন্ত্রনালয় ও ঢাকা জেলা পরিষদের অনুদানে রাস্তাটি নির্মিত হয়।  দীর্ঘদিন এখানে কোন রাস্তা না থাকাতে কবরস্থানে প্রতিনিয়ত লাশ লওয়া কষ্টসাধ্য বিষয় হয়েছিলো।  প্রায় সময়ই বৃষ্টিতে অসুবিধায় পড়তে হতো। সেই বিবেচনায় দ্রুত রাস্তাটি নির্মানের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়।



                            ছবিতে ঢাকা জেলা পরিষদ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগীতায় নির্মিত কবরস্থানের রাস্তা।


কবরস্থানে মাঝে রাস্তা নির্মানঃ

কবরস্থানে যাতায়াতের সুবিধার জন্য মাঝামাঝি দিয়ে শুরু থেকে কবরস্থানের শেষ মাথা পর্যন্ত  ইটের তৈরি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।  সহজেই খবরস্থানের ভিতরে যে কোন কববেরর পাশে সহজেই যাওয়া যায়।



আমাদের মসজিদের পুকুরঃ






                                                     ছবিতে মসজিদের পুকুর


কচুরীপানা এবং জঙ্গলে  ভরপুর -এটি ছিলো এক সময় পরিত্যাক্ত অবস্থায়। সম্পূর্ন পরিস্কার করে এটির চর্তপাশ্বে  চলাচলের রাস্তা তৈরি করা হয়। বর্তমানে এই পুকুরের পানি অনেকেই ব্যবহার করছেন। পুকুরের   চারি পার্শ্বে মাটি ভরাট করে করে রাস্তা নির্মান করা হয়। অথচ এই পুকুরটি ভরাট করার জন্য অনেকেই মতামত দিয়েছিলেন। কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে একটি পুকুর থাকা জরুরী। সেই বিবেচনায় পুকুরকে না হারিয়ে সংস্কার করে আয়ের একটি উৎস হিসাবে বিচেবনা করা হচ্ছে।



মসজিদের চারি পাশে মাটি ভরাটঃ

আমাদের মসজিদের চর্তুরপাশ্বঃ মসজিদের চারিদিকে পর্যায়ক্রমে মাটি ভরাট করে করে এর আয়তন বৃদ্ধি করা হয়েছে। মসজিদের আয়তন এখন পূর্বের চেয়ে বৃদ্ধি  পেয়েছে।






                                                 ছবিতে মসজিদ ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম চলছে।



আমাদের মসজিদে  মসজিদভিত্তিক শিশ ও গণশিক্ষা কার্যৃক্রম চালু হয়েছে।  ইসলামী  ফাউন্ডেশন নিয়মিত যোগাগের মাধ্যমে এই অনুমোদন লওয়া হয়।
আর্থ সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড ও শিক্ষা বিস্তারের কাজে মসজিদের ইমাম সাহেবদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে সরকার ১৯৯৩ সালে মসজিদ ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় প্রাক-প্রাথমিক এবং ঝরে পড়া (ড্রপ-আউট) কিশোর-কিশোরী ও অক্ষরজ্ঞানহীন বয়স্কদের জন্য মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে।   নিয়মিতভাবে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।


আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেবের থাকার ব্যবস্থাঃ



বিগত দিনগুলোতে  পরিবার নিয়ে মসজিদের ইমাম সাবেবকে      গ্রামের মানুষের     বাড়ীতে থাকার ব্যবস্থা  করা হতো । যার ফলে ইমাম সাহেবদের  প্রাইভেসী বলে কিছু ছিলো না। নানান ধরনের অভিযোগ চলে আসলে- আলাদা থাকার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ গ্রহন করা হয় ।  মসজিদের পাশেই ২৪ শতাংশ জায়গা  মাটি ভরাট করে   পরিবার পরিজন বসবাসের জন্য যা যা প্রয়োজন সকল সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ একজন মসজিদের ইমাম সাবেক তাঁর মর্যদার জায়গা রাখা হয়েছে।  যার ফলে  গ্রামের মানুষের সাথে প্রয়োজন ছাড়্রা মিশতে পারছেন না। বিগত দিনের অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে যে সকলের সাথে মিশতে গিয়ে সকলের মন রক্ষা করতে গিয়ে অনেক ঝামেলা পুহাতে হতো ইমাম সাহেবকে।


বাড়ী বাড়ী থেকে টিফিনকারী বহন করে খাবার নিয়ে আসার কালচার বিলুপ্তিঃ

বহুদিনের প্রচলন বাড়ী বাড়ী থেকে খাবার নিয়ে আসা- এটি দেখতেও ভাল দেখা যেতো না । ইহাছাড়া অনেক পরিবারে একদিন খাওয়াত প্রায় ৫০০/১০০০ লেগে যেতো। সেই দিক বিবেচনায় খাবার বিষয়টি  হুজুরের পরিবারের সাথে সংযুক্ত করা হয়। মাসিক চাঁদার সাথে  বাড়তি  কিছু টাকা যুক্ত করে  এই সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। বর্তমানে খাবার নিয়ে আর কোন সমস্যা পরিলক্ষিত হচ্ছে না বললেই চলে।



রোজার মাসে মাস ব্যাপী  ইফতারের ব্যবস্থাঃ

স্বল্প পরিসর  হলেও এটি চালু করা হয়েছে। ৪০/৫০টি পরিবারকে বাছাই করে একদনি ২০/২৫ মানুষের ইফতারের ব্যবস্থা করা হয়। সাথে মসজিদের কিছু যুক্ত করে প্রতিদিনের ইফতারের একটি ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। প্রথম বছর একটু অসুবিধা হলেও এখন বছর বছর করা হচ্ছে এবং ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

                                       ছবিতে  পবিত্র রমজান মাসের একটি ইফতার পার্টিতে গ্রামের মুসুল্লীগণ


শেরপুর চকে একটি নীচু জমিতে পুকুর খননঃ

মসজিদের একটি জমিকে পুরকুর খনন করা হয়েছে। ফলে প্রতি বছর এটি   বিক্রি করে মসজিদের একটি আয়ের পথ তৈরি করা হয়ছে।


নারায়নপুরের জমি একটি স্থায়ী সমাধানঃ

 এক সময় জমিটির আশা ছেড়েই দেওয়া হয়েছিলো। পরবর্তীতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে প্রশাসনের সহায়তা আমরা মসজিদের ৯ শতাংশ দখলে নিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছি।

মসজিদ ও কবরস্থানের ফান্ড আলাদা করা হয়েছেঃ

কবরস্থানে ব্যাপ্তি দিনকে দিন বৃদ্ধি পাওয়া  এখন এই ফান্ড আলাদা করা হয়েছে। ইহাছাড়া কবরস্থান নিয়মিত সংস্কার করা প্রয়োজন হয়ে থাকে। তাই প্রয়োজনের তাগিদে এটিকে আলাদা করা হয়েছে।

মসজিদের এসির পরিকল্পনা ঃ

যুগের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে এখন এসির সংস্থাপনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এই খাতে ২ লাখ টাকার অনুদান পাওয়া গিয়েছে। আরও অনুদানের বিষয়ে আশ্বস্ত করা হচ্ছে।



মসজিদ ও কবরস্থানের জন্য একটি ওযেব পেইজ তৈরির পরিকল্পনাঃ

মসজিদ কবরস্থান ও এর সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য সেবা সমূহের প্রয়োজনীয় তথ্য সম্বেলিত ওযেব সাইট তৈরির পরিকল্পনা গ্রহন করা হচ্ছে। বিশ্বের যে কোন স্থান থেকে যাহাতে সকল তথ্য সহজেই পেতে পারেন তার উদ্যোগ লওয়া হচ্ছে।




মসজিদ কবরস্থান আয়ের উৎসঃ

অর্থের প্রধান উৎস এর সদস্য পরিবারগুলো এবং প্রবাসী ভাইয়েরা। এরা পাশাপাশি সরকারী অনুদানও রয়েছে।  ইহাছাড়া মসজিদ ও কবরস্থানের গাছ,ফল, পুকুর ও জমি থেকে আয় হয়ে থাকে। ৫টি ধানের জমি ও দুটি পুকুর বিদ্যমান রয়েছে।

আগামী দিনের  চ্যালেঞ্জ ও করণীয়ঃ

মসজিদ আল্লাহর ঘর। এটি নিরাপদে রাখার দায়িত্ব সকলের। কাজেই সকলকে ঐক্য থাকতে হবে। একটি মাষ্টার প্লান করে অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডে মসজিদকে গুরুত্ব দিয়েছেন। সেই সাথে ভবিষ্যৎতে ইমামদের বেতনও সরকার প্রদান করবে। সরকারের কর্মকান্ডের সাথে আমাদেরও সম্পকৃত্ত হতে হবে। কাজেই আগামী দিনগুলোতে আমাদের  আপগ্রেড থাকতে হবে।  মসজিদ ও কবরস্থানে প্রযুক্তির ব্যবহার কাজে লাগাতে হবে। মসজিদের ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য আয়ের পথ বাড়াতে হবে। মসজিদকে  অন্য প্রতিষ্ঠানের সাথে তুলনা না করে আলদা মর্যদার আসনে নিয়ে আসতে হবে। তবেই আল্লাহর ঘরকে সঠিকভাবে পরিচালিত করা যাবে।

আগামী দিনগুলোতে মসজিদ ও কবর স্থানের পরিধী পাবে। সেইজন্য মসজিদ ও কবরস্থানে আলাদা কমিটি গঠন করা হলে দুটি  স্থানের উন্নত হবে।

সম্পাদনায়ঃ রানা ভূঁইয়া,  সুজাপুর জামে মসজিদ ও কবরস্থানের সেক্রেটারী।








Thursday, June 4, 2020

লকডাউনে ‘সুখী ও স্বস্তিতে’ ঢাকাকে ঘিরে থাকা ৫ নদ-নদী

লকডাউনের মধ্যে বুড়িগঙ্গা নদীর চিত্র। পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, এ সময়ে ঢাকার আশপাশের ৫ নদীর পানির মানে উন্নতি হয়েছে। ছবিটি সম্প্রতি তোলা। ছবি: দীপু মালাকারলকডাউনের মধ্যে বুড়িগঙ্গা নদীর চিত্র। পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, এ সময়ে ঢাকার আশপাশের ৫ নদীর পানির মানে উন্নতি হয়েছে। ছবিটি সম্প্রতি তোলা। ছবি: দীপু মালাকারকরোনা পরিস্থিতিতে সরকারের ঘোষণা করা সাধারণ ছুটির মধ্যে ঢাকার আশপাশের পাঁচটি নদ-নদীর পানির মানের উন্নতি হয়েছে। বিভিন্ন নিরিখে বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু নদীর পানির মান দ্বিগুণেরও বেশি উন্নত হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণে এ চিত্র উঠে এসেছে।
পানি বিশেষজ্ঞ এবং বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মুজিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকার আশপাশের নদীগুলোর দূষণের মূল দুই উৎসের অন্যমত শিল্পবর্জ্য। করোনার সাধারণ ছুটির সময় কলকারখানা বন্ধ ছিল। তাই স্বভাবতই পানির মান বাড়বে, এটা প্রত্যাশিত। তবে দূষণের আরেক উৎস ওয়াসার পয়োবর্জ্য বন্ধ হয়নি। এটি বন্ধ হলে পানির মান আরও ভালো হতো।’
নদীদূষণ পরিমাপে অন্যতম এক মাপকাঠি হলো পানির দ্রবীভূত অক্সিজেনের (ডিও) মান নিরূপণ। প্রতি লিটার পানিতে ন্যূনতম ৫ মিলিগ্রাম ডিও থাকলে ওই পানি মানসম্পন্ন বলে বিবেচনা করা হয়। পানির মান বিবেচনার ক্ষেত্রে বিওডি (জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অক্সিজেনের চাহিদা) এবং সিওডি (অজৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অক্সিজেনের চাহিদা) আরও দুই মানদণ্ড। এ দুটোর পরিমাণ বেড়ে গেলে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়। এ দুইয়ের পরিমাণ কমে যাওয়ার অর্থ হলো দূষণের মাত্রা কমে যাওয়া। এর মানে হলো, দ্রবীভূত অক্সিজেন বেড়ে যাওয়া।
পরিবেশ অধিদপ্তর দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর নানা পয়েন্ট থেকে নিয়মিত পানির মান পরীক্ষা করে। নদীগুলোর দূষণ সাধারণত শুরু হয় নভেম্বর মাস থেকে। দিন দিন তা বাড়তে থাকে। এপ্রিল মাসে দূষণ চরম অবস্থায় পৌঁছায়। এপ্রিল মাসকেই দূষণের সবচেয়ে বড় সময় বলে মনে করে অধিদপ্তর। সরকারি এ দপ্তরের গত তিন বছরের পর্যবেক্ষণ থেকে দেখা গেছে, পাঁচ নদীর পানির মান চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বেশ বেড়েছে।
ঢাকার একেবারে গা ঘেঁষে বয়ে যাওয়া নদী বুড়িগঙ্গা। গত বছরে (২০১৯) বুড়িগঙ্গার মিরপুর ব্রিজের কাছের পানিতে ডিওর পরিমাণ ছিল শূন্য শতাংশ। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক শূন্য ২ মিলিগ্রাম। গত বছরের এপ্রিলে বিওডি ছিল ২০ মিলিগ্রাম। এ বছরও এর মানের কোনো হেরফের হয়নি। তবে গত বছর এপ্রিলে এখানকার পানিতে সিওডি ছিল ৯২ মিলিগ্রাম, যা এবার ৭৬ মিলিগ্রাম।
গাবতলী ব্রিজের কাছে তুরাগ নদে গত বছরের এপ্রিল মাসে ডিও ছিল শূন্য দশমিক ১২ মিলিগ্রাম। এ বছর এর ডিওর পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ। আশুলিয়ায় তুরাগের ডিও গেল বছর ছিল শূন্য মিলিগ্রাম। এবার তা বেড়ে হয়েছে ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
শিল্পবর্জ্যের দূষণে বিপর্যস্ত শীতলক্ষ্যা। নদীর দুপাশ দিয়ে গড়ে ওঠা শিল্পকারখানার অনেকগুলোরই বর্জ্য শোধনাগার নেই। সেই দূষণের নদীতেও এবার এসেছে প্রাণ। এ নদীর ডেমরা ঘাট ও এসিআই এলাকায় গত বছর ডিও ছিল যথাক্রমে ১ ও ১ দশমিক ২ মিলিগ্রাম। এবার তা হয়েছে ১ দশমিক ৩১ এবং ১ দশমিক ২৪ মিলিগ্রাম।
বালু নদের দূষণচিত্রেও আশাব্যঞ্জক ফল। এ নদীর হোসেন ডায়িং এলাকার পয়েন্টে গত বছর পানিতে ডিওর পরিমাণ ছিল শূন্য দশমিক ১ মিলিগ্রাম। এবার তা হয়েছে শূন্য দশমিক ৩২ শতাংশ। নদের বালু ব্রিজ পয়েন্টে গত বছরের এপ্রিলে পানিতে ডিওর পরিমাণ ছিল শূন্য, এবার হয়েছে ১ দশমিক ২২ মিলিগ্রাম।
ঢাকার আশপাশের নদীগুলো দূষণে বিপর্যস্ত থাকে সব সময়। ছবি: আবদুস সালামঢাকার আশপাশের নদীগুলো দূষণে বিপর্যস্ত থাকে সব সময়। ছবি: আবদুস সালামপাঁচ নদ-নদীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মান বেড়েছে ধলেশ্বরী নদীর পানির। এ নদীতে এ বছর এপ্রিলে ডিওর পরিমাণ ন্যূনতম নির্ধারিত মাত্রা অর্থাৎ ৫ মিলিগ্রাম ছাড়িয়ে হয়েছে ৭ দশমিক ১। গত বছর এ মাসেই এর মান ছিল ২ দশমিক ৪ মিলিগ্রাম।
ধলেশ্বরীর এ পয়েন্টে ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসের পানির মানও পাওয়া গেছে। দেখা গেছে, ওই মাসে এ পয়েন্টে পানির ডিও ছিল ১ দশমিক ৩৫ মিলিগ্রাম।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ কে এম রফিক আহম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘লকডাউনের সময় আমরা কিছু নমুনা নিয়েছি। প্রতিটি নিরিখেই ঢাকার আশপাশের নদ-নদীগুলোর পানির মানের উন্নতি লক্ষ করেছি। মানুষের নানাবিধ কাজ কমে যাওয়ার ফলেই এই উন্নয়ন।’
রফিক আহম্মদের মতে, ঢাকার নদ-নদীগুলোর দূষণের প্রধান দুই উৎস শিল্পবর্জ্য এবং ওয়াসার পয়োবর্জ্য। এর পাশাপাশি আছে নৌযানের জ্বালানিবর্জ্য।
প্রথম আলো ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকার কাছের শ্যামপুর-কদমতলী শিল্প এলাকার শিল্পদূষণ নিয়ে একটি গবেষণা করে। ওই শিল্প এলাকার নামা শ্যামপুর বস্তি, শ্যামপুর লঞ্চঘাট এলাকা এবং এ ঘাটের কাছে বুড়িগঙ্গা থেকে পানি সংগ্রহ করা হয়। তিন জায়গার তিন বোতল পানি ওই দিনই দেওয়া হয় বুয়েটের ব্যুরো অব রিসার্চ ট্রেনিং অ্যান্ড কনসালটেশনে (বিআরটিএ)।
পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা-১৯৯৭ অনুযায়ী, শিল্পবর্জ্য বহন করা পানিতে বিওডির সহনীয় মাত্রা প্রতি লিটার পানিতে ৫০ মিলিগ্রাম এবং সিওডির ২০০ মিলিগ্রাম। শ্যামপুরে নামা বস্তিতে বিওডির পরিমাণ ১২০ মিলিগ্রাম আর সিওডি ৩৫৮ মিলিগ্রাম। লঞ্চঘাটে যেখানে এই শিল্পের বর্জ্য গিয়ে বুড়িগঙ্গায় পড়ছে, সেখানে বিওডি ৩০৪ মিলিগ্রাম এবং সিওডি ৫৪৯ মিলিগ্রাম। শিল্পবর্জ্যে হাইড্রোজেন সালফাইডের সহনীয় মাত্রা এক মিলিগ্রাম। কিন্তু নামা শ্যামপুরের পানিতে এর পরিমাণ ১২৫ মিলিগ্রাম আর লঞ্চঘাটে ৯০ মিলিগ্রাম।
লকডাউনের ফলে এই শিল্প বর্জ্যের দূষণ থেকে রেহাই পেলেও ওয়াসার পয়োবর্জ্য এখনো একটি বড় দূষণকারী হিসেবে রয়ে গেছে বলে মনে করেন পরিবেশবাদীরা। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুস সোবহান প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিদিন রাজধানীতে ১৫ লাখ ঘনমিটার পয়োবর্জ্য তৈরি হয়। এর মধ্যে ১৪ লাখ ঘনমিটারই অপরিশোধিত অবস্থায় ঢাকার চারপাশের নদ-নদীগুলোতে গিয়ে মেশে। এর থেকে নিষ্কৃতি না পেলে নদীগুলোর রক্ষা নেই।
পরিবেশ অধিদপ্তরের জরিপের আগে তোলা ছবি। দূষণে বিপর্যস্ত বুড়িগঙ্গায় প্রবাহিত হয় এমন কালো পানি। ছবি: আবদুস সালামপরিবেশ অধিদপ্তরের জরিপের আগে তোলা ছবি। দূষণে বিপর্যস্ত বুড়িগঙ্গায় প্রবাহিত হয় এমন কালো পানি। ছবি: আবদুস সালামঢাকার নদীর প্রকৃত দূষণকারী কে এবং কারা কতটুকু করছে, এ নিয়ে মতভেদ যে আছে তা স্বীকার করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ‘ওয়াসাকে ধরলে তারা শিল্পমালিকদের দোষ দেয় আবার শিল্পমালিকদের বললে তাঁরা ওয়াসাকে দোষ দেন। দুপক্ষকে একসঙ্গে বসালে তারা বলে, আরও ভিন্ন উৎসও তো আছে।’
উৎস নিয়ে মতভেদ থাকুক। কিন্তু দূষণ যে চূড়ান্ত মাত্রায়, তা নিশ্চিত। আর তা হচ্ছে মানুষের অন্যায্য ক্রিয়াকর্ম, এমন মন্তব্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের। এই পরিবেশবিদের কথা হলো, ‘অনেক ক্ষতির মধ্যে করোনা আমাদের একটি শিক্ষা দিল যে, আমাদের আচরণের জন্যই এই দূষণ। এখন এই আচরণ পাল্টাতে হবে। এবার প্রকৃতির ওপর মানুষের অন্যায্য আচরণ একটু কমেছে বলে পানির হাল ফিরেছে।’
করোনার এই মহামারির মধ্যেই ৫ জুন পালিত হবে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এবার জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউনেপ) এই দিবসে থিম নির্ধারণ করেছে ‘টাইম ফর নেচার’ বা সময়টা প্রকৃতির। প্রকৃতির কাছে ফিরে যাওয়ার কথা আছে এবারের আহ্বানে। পরিবেশকর্মীরা এখন বলছেন, দূষণ কমে নদীগুলোর এই যে হাল ফিরল, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনের পরিকল্পনা নিতে হবে। আর এ জন্য সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘নদীগুলোর পানির মান বৃদ্ধি একটি ভালো খবর। একে আমরা ধরে রাখতে চাই। এ জন্য অবশ্য মানুষকে সচেতন হতে হবে। তবে আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে।’ প্রথম আলো।

Tuesday, May 26, 2020

মাছের খাবার বানানো, জাল তৈরি... মাছ চাষে নতুন দিশা দেখিয়ে নীলকান্ত এখন হিরো

1
অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুসারে, আমাদের দেশের ৭০ শতাংশ লোকের জীবিকা চাষবাসের উপর নির্ভরশীল। তাঁদের মধ্যে ৮২ শতাংশই ছোট ও মাঝারি চাষি। এদের মধ্যে অনেকেই উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও জ্ঞানের অভাবে কম খরচে উন্নতমানের চাষ করতে পারেন না। তার উপর আছে প্রকৃতির খামখেয়ালিপনা। এর জেরে রোজগারের ক্ষেত্রে মার খেতে হয় তাঁদের।
২১৬2
একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার হিসাবে কাজ করার সময় বিষয়টি নজরে আসে ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা নীলকান্ত মিশ্রের। তার পর তিনি মৎস্যজীবীদের উন্নতমানের চাষের ব্যাপারে অবহিত করার কাজ শুরু করেন। প্রতিষ্ঠা করেন একটি অসরকারি সংস্থা। তাঁর সেই সংস্থার হাত ধরে প্রায় ছ’টি রাজ্যের ২৫ হাজারেরও বেশি মৎস্যজীবীর জীবনে এসেছে পরিবর্তন। কেমন করে এত মৎস্যজীবীর জীবন পাল্টে দিলেন তিনি?
৩১৬3
নীলকান্তের জন্ম ঝাড়খণ্ডের শিল্পশহর জামশেদপুরে। সংখ্যাতত্ত্বের প্রতি আকর্ষণে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতক হন তিনি। গ্র্যাজুয়েশনের সময় থেকেই সমাজসেবার প্রতি তাঁর আগ্রহ জন্মায়। সেই আগ্রহ থেকেই রাঁচীর জেভিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সার্ভিস থেকে গ্রামীণ উন্নয়নের উপর স্নাতকোত্তর কোর্স করেন।
৪১৬4
২০০০-এ সেই কোর্স শেষ হওয়ার পর তিনি জামশেদপুরে ফ্রি লিগাল এইড কমিটিতে যোগ দেন। সেখানে ডাইনি সন্দেহে নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ার কাজ করেন। তাঁর মতো মানুষের নিরলস প্রচেষ্টার পরই ঝাড়খণ্ড সরকার উইচক্রাফ্ট প্রিভেনশন অ্যাক্ট চালু করে। এর পর কয়েক বছর আদিবাসীদের অধিকার, শিশু অধিকার, মানবাধিকার এর মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করেন।
৫১৬5
কিন্তু নীলকান্তের জীবনে টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার লখনউ অফিসে প্রোগ্রাম অফিসার হিসাবে যোগ দেওয়ার পর। সেখানেই প্রথম মৎস্যজীবীদের নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। মধ্যপ্রদেশের বুন্দেলখণ্ডে মৎস্যজীবীদের জীবনযাত্রার উন্নতি নিয়ে কাজ করতে থাকেন তিনি।
৬১৬6
সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, বাজার থেকে চাষের সরঞ্জাম, মাছের খাবার কিনে চাষ করে মৎস্যজীবীদের বিশাল খরচ হয়ে যাচ্ছে। সেই খরচের চোটে চাষ করার পর তেমন লাভ থাকে না তাঁদের। তাই প্রোডাকশনের খরচ কমিয়ে চাষের ব্যাপারে কী ভাবে মৎস্যজীবীদের স্বনির্ভরতার পথ দেখাতে থাকেন। মৎস্যজীবীদের ইন্টিগ্রেশন ফার্মিংয়ের ব্যাপারে বোঝাতে থাকেন।
৭১৬7
তিনি দেখেন। মাছ ধরার জন্য উপযুক্ত খাঁচার দাম বাজারে অনেক। গরিব মৎস্যজীবীদের পক্ষে তা কেনা সম্ভব নয়। তখন স্থানীয়দের দিয়েই বাঁশ, কাঠ, জাল দিয়ে তৈরি করেন সেই খাঁচা। এ রকম মাছের খাবারেও বিকল্প আনেন তিনি।
৮১৬8
তাঁর দেখানো পথে মৎস্যজীবীদের দিয়েই তৈরি করতে থাকেন মাছের খাবার। পাশাপাশি কোন আবহাওয়ায় কী ভাবের মাছের পরিচর্যা করতে হবে, সেই সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক পাঠও দিতে থাকেন তাঁদের।
৯১৬9
এ ভাবে চলতে চলতে সেই এলাকার মৎস্যজীবীদের চাষের ধরনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে। চাষের বিভিন্ন ম্যানেজমেন্টের কাজে মৎস্যজীবীরাও সচেতন হয়। সেখানকার এক মৎস্যজীবী জানিয়েছেন, ২০০৪ থেকে বাড়ির পুকুরে চাষ করেও তেমন সাফল্য পাচ্ছিলেন না তিনি। কিন্তু নীলকণ্ঠের দেখানো পথে সাফল্য পেয়েছেন তিনি।
১০১৬10
বুন্দেলখণ্ডের এই মডেলে সাফল্য পেয়ে নীলকণ্ঠ অন্যান্য রাজ্যের মৎস্যজীবীদের মধ্যে তা ছড়ানোর কথা ভাবতে থাকেন। ওড়িশা, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাহায্যে সেখানকার মৎস্যজীবীদের এই পদ্ধতিতে চাষের ব্যাপারে উৎসাহিত করার চেষ্টা করেন।
১১১৬11
কিন্তু সেই কাজে আশানুরূপ সাফল্য আসছিল না। তখন তিনি নিজের সংস্থা খোলার কথা ভাবতে শুরু করেন।
১২১৬12
সেই মতো ২০১৩ সালে নিজের সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। নিজের সংস্থার মাধ্যমে তিনি পৌঁছনোর চেষ্টা করেন বিভিন্ন রাজ্যের মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের কাছে। তাঁদের দিতে থাকেন স্বনির্ভরতার পাঠ।
১৩১৬13
এ ব্যাপারে নীলকণ্ঠ বলেছেন, ‘‘মাছের খাবার বানানো, চারার সঠিক যত্ন নেওয়ার ব্যাপারে অধিকাংশেরই স্বচ্ছ ধারণা ছিল না। আমরা শিখিয়েছি কৃষির বর্জ্যকে কাজে লাগিয়ে মাছের খাবার তৈরি করা। মাছের খাবারে বিভিন্ন খাদ্য উপাদানের হাক সঠিক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। এ ছা়ড়াও চাষের ব্যাপারে ছোট ছোট কিছু পদক্ষেপ বিশাল ফারাক গড়ে দিয়েছে মৎস্যজীবীদের জীবনে।’’
১৪১৬14
এই পদ্ধতিতে চাষের কাজে সামিল হন মহিলারাও। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা তাঁর সংস্থার সঙ্গে যুক্ত করেন নিজেদের।
১৫১৬15
নীলকণ্ঠ বলেছেন, ‘‘মহারাষ্ট্র রুরাল লাইভহুড মিশনের অধীনে বিভিন্ন এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর প্রায়। ১০০ জন মহিলা আমাদের কাছে এই চাষের ব্যাপারে প্রশিক্ষণ নেন। তার পর তাঁরাও যোগ দেন সেই কাজে। এ ভাবে ৬০০-র বেশি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর চার হাজারেরও বেশি মহিলা প্রশিক্ষণ নিয়ে এ ভাবে মৎস্যচাষের কাজে নিজেদের নিয়োজিত করেছেন।’’
১৬১৬16
এ ভাবে তাঁর সংস্থার দ্বারা মৎস্যচাষের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ২৫ হাজারেরও বেশি জন। এই কাজে সাফল্যের জন্য স্বীকৃতিও পেয়েছেন নীলকণ্ঠ। ২০১৭তে অশোকা ফেলোর জন্য মনোনীত হন। তাঁর প্রতিষ্ঠান আউটলুক প্রস্থান পুরস্কার পায় ২০১৯-এ। রাষ্ট্রপুঞ্জের ইকিউয়েটর পুরস্কারও পেয়েছে তাঁর সংস্থা