Friday, August 7, 2020

নবাবগঞ্জের দৃশ্যপটকে পাল্টে দিয়েছে যে গ্রাম-

গ্রামের নাম বলমন্তচর। নিকটবর্তী গ্রামের নাম আলগীচর ও যন্ত্রাইল। এই দুটি গ্রাম সুপরিচিত হলেও বর্তমান  সময়ে সামনে চলে আসছে বলমন্তচরের নাম। ইছামতি নদীর কোল ঘেষে গড়ে উঠা বেশ কয়েকটি  দৃষ্টিনন্দিত অবকাঠামো নির্মাণের জন্য। ৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বেশ কিছু তরুন যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। কালের বির্বতনে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়ে যায়।  এক সময় ইছামতি নদীতে একমাত্র লঞ্চের মাধ্যমে ঢাকা আসা যাওয়া করা হতো। সেই সময়  লঞ্চ থেকে বলমন্তচর গ্রামটিকে দেখা যেতো। সরাসরি যোগাযোগের পথ ছিলো না। ইছামতি পারাপার হওয়ার জন্য নৌকাই ছিলো ভরসা। সেই সময় ক্লাব, মাঠ, মসজিদ কবরস্থান ছিলো। কিন্ত  অবকাঠামোগত কোন উন্নয়ন ছিলো না। পালাক্রমে পরিবর্তন আসতে শুরু করলে বলমন্তচর গ্রামের লোকজন দীর্ঘ মেয়াদী পরিবর্তনে নজর দেন। সেই সময় মসজিদ, মাঠ এবং কবরস্থান নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহন করতে থাকেন। ধীরে ধীরে গত ১০ বছরের মধ্যেই বাস্তবায়ন করে এখন সকলের দৃষ্টিতে চলে আসেন।এখন  আশেপাশের উপজেলার লোকজন গাড়ী থেকেই ইছামতি নদীতে গড়ে উঠা গ্রামটি দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়ে যান।  ইছামতি নদীর নাব্যতা এবং পরিচ্ছন্ন রাখার সর্বপ্রথম ডাক এই গ্রাম থেকেই দেওয়া হয়। পালাক্রমে এই ডাক এখন পুরো ৫টি উপজেলায়ই ছড়িয়ে পড়ছে।  যদি কোন দিন  আবার ইছামতি নদীতে লঞ্চ চলাচল করে তাহলে যাত্রীরা এই প্রাকৃতিক দৃশ্যের সাথে এই রকম দৃষ্টিনন্দিত দৃশ্য দেখে আকৃষ্ট না হয়ে পারবেন না। গতকাল গ্রামটির উপর আমার একটি লেখা আগামীর সংবাদ.কম এবং ৩৯নিউজ.কম এর ছাপা হয়েছে। কিন্তু পত্রিকায় এতো নয়নাভিরাম দৃশ্য তুলে ধরা সম্ভবপর হয়ে উঠেনি বিধায় পাঠকদের সুবিধার্থে আজ গ্রামের আরও কিছু ছবি তুলে ধরা হলো।

আগামীসংবাদ.কমঃ https://dailyagamirsongbad.com/news/13621/

৩৯নিউজ.কম ঃ http://news39.net/%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%87-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a7%87-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%96%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%87 পাঠকদের জানার লক্ষ্যে তুলে ধরছি অবকাঠামোসমূহঃ  ছবিঃ বলমন্তচর গ্রামের ছবি। এই দৃশ্য থেকে পথিক আজ থমকে দাঁড়ায়। ৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ের তরুন সমাজের বিশাল একটি অংশ। একতা এবং সুষ্ঠ পরিকল্পনা গ্রামটিকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করছে। এটি বলমন্তচর কবরস্থানের প্রবেশ পথ। যেখানে মহান মুক্তিযুদ্ধাদের জন্য কবরস্থান সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।।

 
ছবিঃ কবরস্থানের প্রবেশ পথ।  আজ থেকে শত বছর পরে হয়তো এই দৃশ্য দেখে আধুনিকতাকেই খুঁজে পাবেনঃ 
ছবিঃ খেলাধূলায়ও পিছিয়ে নেই গ্রামটি। উপজেলার ভাইস- চেয়্যারম্যান জনাব  তাবির হোসেন পাভেল  প্রবীণ খেলোয়াড়দের সাথে পরিচিত হচ্ছেন। উল্লেখ্য জনাব পাভেল এর গ্রামের নামই বলমন্তচর।   
ছবিঃ উপজেলার সম্মানীত চেয্যারম্যনা জনাব নাসির উদ্দিন আহামেদ ঝিলু- ক্লাবে খেলার সামগ্রী উপহার দিচ্ছেন।ইছামতি পার ঘেষেই সকল প্রতিষ্ঠানগুলো দাঁড়িয়ে রয়েছে।  ইছামতিকে সাক্ষী হিসাবে মেনে নিয়েছেন। মসজিদ, মিনার, খেলার মাঠ, প্রাথমিক বিদ্যালয়, ক্লাবঘর এবং নজর কাড়া কবরস্থান দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন সকলেই। 
ছবিঃ বলমন্তচর জামে মসজিদ-দূর থেকে মুগ্ধ হয়ে যায় দৃশ্য দেখে।
ছবিঃ মহাকবি কায়কোবাদের আজানের ধ্বনি শুনতে পাওযা যায় এই মিনার থেকে।
ইছামতির নদীঃ কালের সাক্ষী হয়ে নদী পারাপার করে যাচ্ছেন গোবিন্দ ( সকলেই গবরা বলে ডাকেন)। ছোট বেলার সেই নৌকার মাঝি আজও নদী পারাপার করে যাচ্ছেন। এখন  সে ইতিহাসের ।

ছবিঃ জীবনটা  ইছামতিতেই কাটিযে দিয়ে যাচ্ছেন গবরা মাঝি। আমার স্মৃতিতে যতদূর মনে হয  কমপক্ষে ৫০ বছর বছর যাবৎ নদী পারাপার করে যাচ্ছেন। সেই সময়ে বাগমারাতে নৌকা পারাপার করতেন। বর্তমানে বাগমারাতে ব্রীজ হওয়াতে গবরা এখন সূরগঞ্জ- বলমন্তচরে পারাপার করে যাচ্ছেন।


ছবিঃ মাদকের গ্রাস থেকে যুব সমাজকে রক্ষায় খেলাধূলার বিকল্প নেই। বলমন্তচর স্পোর্টিং ক্লাব অবদান রেখে চলছেন। বর্ষা মৌসুমে এক অপরুপ দৃশ্য বিরাজ করে ইছামতি নদীতে। ভরপুর বর্ষায় নৌকায় করে ঘুরে বেড়ান অনেকেই। অনেক বৃক্ষ, লতা পাতা হেলে পানিতে দুল খায়। পানিতে হেলে পড়া একটি ফুল গাছ বন্ধুর নজড়  এড়াতে পারেনি। ছবিতেঃ ইছামতিতে হেলে পড়া ফুলের গাছ- ইছামতিকে আরও আকর্ষনীয় করে তুলছে।
যে কোন কাজ করার পূর্বে পরিকল্পনার দরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী অবকাটামো উন্নয়ন করা হলে এমন ফল পাওয়া যায়- বলমন্তচর গ্রাম সেটি করে দেখিয়ে দিয়েছেন।
ছবিঃ নদী, নৌকা এবং প্রানের বলমন্তচর গ্রাম- দূর থেকে দেখা।কবর- যে পথ অনন্ত অসীম। কিয়মত পর্যন্ত যেখানে থাকতে হবে প্রত্যেক মানুষকে। তাই কবরস্থানে অনেকেই অনুদান রাখছেন। পরকালের শান্তির জন্য।প্রানের ইছামতি নদীঃ যাকে  বাঁচাতে আমাদের এতো শ্রম।
ছবিঃ নবাবগঞ্জের বক্ষে বয়ে চলা ইছামতি নদী।
 
 
 
মৃত্যু এবং অতঃপর কবর। সেই কবরস্থানের সাজানো কবরগুলো দেখুন

ছবিঃ কবরের প্রবেশ পথ- ভিতরের দৃশ্য। এটি একটি পরিচ্ছন্ন কবরস্থান- যা সচারচর দেখা যায় না।
  
ছবিঃ কবরের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রায় ৮৪ শতাংশ জমির উপর নির্মিত বলমন্তচর কবরস্থান।
 
 
 
 মসজিদের পাশেই কবরস্থানঃ
 
ছবিঃ বলমন্তচর কবরস্থানের ভিতরের দৃশ্য। “ তোমার সমাধী ফুলে ফুলে ঢাকা - কে বলে আজ তুমি নেই- তুমি আছো মন বলে তাই।
 
গ্রামকে বদলে দিয়েছে- বলমন্তচর কবরস্থান।

No comments:

Post a Comment